You have reached your daily news limit

Please log in to continue


পানির টেকসই ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা

সবুজ সতেজ বাসযোগ্য পৃথিবীর মূলে রয়েছে পানির অসামান্য অবদান। পানির পর্যাপ্ত ও যথাযথ ব্যবহার এবং দূষণ রোধ সম্পর্কে আমাদের সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকা উচিত। মনে রাখতে হবে পানির অপর নাম জীবন। এসব দিক বিবেচনায় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে ২২ মার্চকে বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে পালনের সুপারিশ করা হয়। টেকসই পরিবেশ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি ও কল্যাণের জন্য পানিসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই পানি দিবসের মূল লক্ষ্য। পৃথিবীর মোট পানির ৯৭ শতাংশ থাকে সমুদ্রে, যা লবণাক্ত। অন্যদিকে প্রায় ২ শতাংশ পানি হিমবাহ আকারে মেরু অঞ্চলে আবদ্ধ। মানুষের ব্যবহার উপযোগী মাত্র ১ শতাংশ পানি নদ-নদী, জলাশয়, নলকূপ, ঝর্ণা ও ভূগর্ভস্থ অঞ্চলে বিদ্যমান। ব্যবহার উপযোগী সীমিত পানি থেকেই ফসল উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি, মানুষের পানীয় জলের সংস্থান করতে হয়।

পৃথিবীর যে ২৬৩টি স্বাদু পানির হ্রদ ও নদী অববাহিকা রয়েছে সেখানেই পৃথিবীর সভ্যতাগুলোর বসবাস। ভূ-উপরিস্থ স্বাদু পানির অন্যতম উৎস হলো নদী। নদীকে কখনো রাজনৈতিক সীমারেখায় আবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। নদীর ব্যাপ্তি হয় সাধারণত একাধিক দেশজুড়ে যাকে বলা হয় আন্তর্জাতিক অববাহিকা। বিশ্বের প্রায় ৮৬ শতাংশ দেশ কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক নদী অববাহিকার অংশ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৭৭টি আন্তঃসীমান্ত নদী অববাহিকায় আফ্রিকার অবদান ২৩ শতাংশ, এশিয়ার নদীর অবদান ২২ শতাংশ, উইরোপের নদীর অবদান ২৫ শতাংশ, উত্তর আমেরিকার অবদান ১৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ১৪ শতাংশ নদীর অবদান বিস্তৃত রয়েছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রয়েছে ৫৭টি আন্তঃ-সীমান্ত নদী, যা বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে দুটি দেশের মধ্যে এতসংখ্যক সীমান্ত নদীর প্রবাহ সাধারণত দেখা যায় না। এসব নদীর সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশের ওপরই সংশ্লিষ্ট দেশের পরিবেশ অনেকাংশে নির্ভরশীল। যথাযথ সঠিক পরিকল্পনা ও আমাদের সচেতনতার অভাবে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোকে ক্রমাগত দূষিত করছে। বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি ও রাজস্ব আদায়সহ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন ধরনের দূষণে আজ বিপন্ন। কর্ণফুলী নদীতে নানা ধরনের বর্জ্য নিক্ষেপ, অবৈধ দখল, প্লাস্টিক বর্জ্য, নৌ-দুর্ঘটনা, নদীর উভয় তীরে অতিরিক্ত শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠার ফলে দূষণের মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থা না থাকায় শহরের প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর প্রতিদিন ২৮ কোটি ৮০ লাখ লিটার পয়োবর্জ্য নালা-খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীতে জমা পড়ছে। পরিবেশ ও পানির জন্য ক্ষতিকর বর্জ্যগুলো কর্ণফুলী নদীতে দিন দিন দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে নদীসংশ্লিষ্ট জলজ প্রাণী, নাগরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ অন্য বিষয়ের ওপর। আগে এ অঞ্চলে নদী পথের সর্বাধিক গুরুত্ব থাকলেও গত ১৫ বছরের সরকার সড়ক পথে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করে নদী পথ ও নদীর পরিবেশকে চরম অবহেলা করছে। প্রতিনিয়ত যেভাবে সড়ক, সেতু করেছে, সে পরিমাণ নদীর নাব্য ধরে রাখতে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ নৌপথ সচল ও পরিবেশ ভালো থাকলে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পায়, সড়কের ওপর চাপ কমে আসে। নৌপথে পণ্য পরিবহন খরচ সবচেয়ে কম, লঞ্চে পণ্য পরিবহন হলে খরচ সাত ভাগের এক ভাগ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) হিসাবে নদীমাতৃক বাংলাদেশে একসময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ১৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ বন্ধ হয়ে এখন মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার নদী পথ সচল রয়েছে।

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে হিমবাহ ছাড়া পৃথিবীর সব ধরনের জলাভূমি (পুকুর, নদী, খাল, বিল, হ্রদ, হাওর, বাঁওড়, উপকূল, ইত্যাদি) রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির পানি, জলাভূমি, ভূগর্ভস্থ মিলে বাংলাদেশে পানির বিশাল একটি উৎস থাকা সত্ত্বেও আমাদের পানি নিয়ে সংকটে থাকতে হয়। এর অন্যতম কারণ পানি দূষণ ও পানির অপচয়। সমগ্র পৃথিবীতেই পানীয় জলের পরিমাণ ও মান দ্রুত কমছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানির অপচয়ের মাত্রাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে জলাভূমির সংখ্যা কমছে। জলাশয় ক্রমশ কমার ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। নগরায়ণের ফলে শহরে অনেক স্থানে পুকুর, জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। এ রকম অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলো ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে। অন্যদিকে জলাশয় ভূগর্ভে পানি প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম। নগর এলাকায় জলাশয় কমে যাওয়ায় ভূগর্ভে পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে রিচার্জ হতে পারছে না বিধায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। বাংলাদেশের সর্বমোট পানি সম্পদের ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ উৎস হলো অভ্যন্তরীণ, অবশিষ্ট ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ উৎস হলো দেশের বাইরে। অন্যদিকে পানির সর্বোচ্চ চাহিদার সময় এর জোগান দাঁড়ায় সর্বনিম্নে, কারণ আমাদের দেশের পানি সম্পদের ৮০ ভাগ পাওয়া যায় বর্ষা মৌসুমে এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ আসে শুষ্ক মৌসুম থেকে। অথচ এ সময় পানির ব্যবহার ও চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এছাড়া বাংলাদেশে ব্যবহৃত পানির ব্যাপক অংশ (প্রায় ৮৮ শতাংশ) কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যা সমগ্র বিশ্বের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। কৃষি ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধস), নৌ-পরিবহন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পানির অবাধ সরবরাহ ও পরিবেশ সংরক্ষণে আন্তঃদেশীয় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। পানির সার্বিক (আহরণ, উন্নয়ন ও ব্যবহার) গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে যেমন ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানি নীতি, ২০০১ সালে জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, ২০১৩ সালে জাতীয় পানি আইন এবং ২০১৮ সালে জাতীয় পানি বিধিমালা প্রণয়ন করেন। পানি যদি বিশুদ্ধ না হয় এর প্রভাব পড়বে সমগ্র জাতির ওপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দূষিত পানি পান করার ফলে প্রতি বছর সমগ্র বিশ্বে কয়েক লাখ শিশুর মৃত্যু হয়। আবার দূষিত পানি পান করার ফলে অনেক সময় জন্ম নেয় বিকলাঙ্গ শিশু।

জলাভূমি রক্ষাবিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা রামসার তথ্যমতে বিশ্বব্যাপী দূষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবনতি, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের কারণে ১৯০০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৬৪ শতাংশ জলাভূমি ধ্বংস হয়েছে। ফলে এ জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল মানুষ ও জীববৈচিত্র্যের জীবনযাত্রা ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমান হারে। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ অঞ্চলই নিম্নভূমি, যা জলাভূমি নামে পরিচিত। প্রকৃত পক্ষে, যেসব ভূমি বছরে ৯ মাস পানির নিচে থাকে তাদের জলাভূমি বলা হয়। যেমন খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়, প্লাবনভূমি, পুকুর ইত্যাদি। নদীবাহিত পলি দ্বারা গঠিত বিধায় এ দেশের জলাভূমির উর্বরতা বেশি। কিন্তু পরিবেশ দূষণ, মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণ, দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। শহরাঞ্চলের জলাভূমি নগর পরিবেশকে বাসযোগ্য করতে অসামান্য অবদান রাখে। শহর এলাকার জলাভূমি বর্ষাকালে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে প্রাকৃতিক বেসিন হিসেবে কাজ করে। ফলে জলাবদ্ধতার প্রকোপ কমায়, পানীয় জল সরবরাহ ও আবর্জনা পরিশোধন এবং নাগরিক জীবনের জন্য নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ক্রমাগত জলাভূমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। শহরের পরিবেশে পর্যাপ্ত জলাভূমির অভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা ও অগ্নিকাণ্ডজনিত দুর্ঘটনা বৃদ্ধি এবং এ সম্পর্কিত ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন