You have reached your daily news limit

Please log in to continue


বেসামাল শিক্ষা—পথে ফেরার উপায় কী

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে জাতির উদ্দেশে তাঁর প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বিগত সরকার। আমরা তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের উদ্যোগ নেব। এটা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার।

শিক্ষায় নৈরাজ্য বহুদিন থেকে চলে এসেছে। বিগত সরকারের শাসনের প্রথম দিকে মোটামুটিভাবে সর্বজন গৃহীত ২০১০ সালের শিক্ষানীতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নের জন্য কোনো সামগ্রিক উদ্যোগ নেয়নি। অপরিকল্পিত, বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম ও সেসবের দুর্বল ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার নৈরাজ্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত অঙ্গীকার সত্ত্বেও শিক্ষায় সংস্কারের সামগ্রিক কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি পরামর্শক কমিটি নিয়োগ দিয়েছে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ৯ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটি তার প্রতিবেদন ও সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করেছে। প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ সাধুবাদযোগ্য, বিশেষত যদি সরকার সুপারিশ অনুযায়ী কাজ শুরু করে। কিন্তু দেশের শিক্ষাসমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে থেকেই বলে আসছেন সমগ্র শিক্ষা খাতের সংস্কার ও উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়ন ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন নিয়োগ প্রয়োজন।

২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে স্থায়ীভাবে সংবিধিবদ্ধ এক কমিশন নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। যুক্তি ছিল শিক্ষার মতো জটিল, বহুমাত্রিক ও জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে নাগরিক নজরদারির জন্য ও সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি স্বাধীন কমিশন থাকা দরকার। কিন্তু বিগত সরকার এই পথে হাঁটেনি।

ছাত্র-জনতার ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ দাবি ও প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কটি উচ্চমর্যাদার কমিশন গঠন করেছে। সাংবিধানিক, প্রশাসনিক, বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১১টি কমিশন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের জন্যও কমিশন গঠিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার জন্য তা করা হয়নি, প্রাথমিক শিক্ষার পরামর্শক কমিটি ব্যতীত। ব্যাপকভাবে উত্থাপিত দাবি সত্ত্বেও শিক্ষা কমিশন গঠনে সরকারের দ্বিধা কেন?

একটি কমিশন গঠন করলেই শিক্ষার বেসামাল ও অস্থির পরিস্থিতি শান্ত হবে, তার নিশ্চয়তা কী আছে? শিক্ষা সংস্কারের কমিশন কাকে নিয়ে গঠিত হতে পারে; কী ধরনের বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ তারা দেবে—এসব প্রশ্নও রয়েছে। তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, শিক্ষা কমিশন স্থাপন এবং এর সম্ভাব্য সুপারিশ বহু সংবেদনশীল বিষয় সামনে নিয়ে এসে এক ‘প্যানডোরার বাক্স’ খুলে দিতে পারে। বহুদিনের অবহেলিত অভিযোগ ও পুঞ্জীভূত সব দাবিদাওয়া নিয়ে অনেকে রাস্তায় নেমে পড়তে পারেন।

১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে প্রণীত কুদরাত-এ–খুদা শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠনের ভাবনা প্রভাবিত করেছিল। কিন্তু এ নিয়ে কোনো কাজ হাতে নেওয়ার আগে ১৯৭৫ সালে সামরিক শাসকেরা এই প্রতিবেদন হিমাগারে পাঠিয়ে দেন।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত সামরিক শাসনকালে এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত নির্বাচিত সরকারের আমলে অন্তত আটটি শিক্ষা কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছে। এসব উদ্যোগের অভিন্ন পরিণতি ছিল এগুলোর কোনোটিরই বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যেমনটি ঘটেছিল বিগত সরকার প্রণীত ২০১০ শিক্ষানীতির ক্ষেত্রেও।

শিক্ষায় কেন এই নিরন্তর অবহেলা? এই কাহিনি বাংলাদেশে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার বৃহত্তর ইতিহাসের অংশ। রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক কোনো শাসক দল নতুন রাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেয়নি। সে জন্যই দেখা যায়, সরকারের শিক্ষার জন্য বিনিয়োগে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নিম্নতম দেশগুলোর মধ্যে রয়ে গেছে। জনতোষণবাদী বা কায়েমি স্বার্থ রক্ষাকারী নীতি গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সেগুলোতে গ্রহণযোগ্য শিক্ষার মান রক্ষার চেষ্টা করা হয়নি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন