ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম নতুন মাত্রা পেয়েছে

www.ajkerpatrika.com মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৪, ১১:৩৭

ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় একজন অ্যাকটিভিস্ট। ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সঙ্গে।


গত বছরের ৭ অক্টোবর হঠাৎ করে হামাস ইসরায়েলে আক্রমণ করার পরে দীর্ঘ মেয়াদে ফিলিস্তিনে আক্রমণ চলছে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কতটা বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে, সেটা নিশ্চিত জানার পরেও হামাস কেন হামলা করল?


তানজীমউদ্দিন খান: আমরা যদি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা দেখি এবং তার আগের ২০১১, ২০১৪ ও ২০২১ সালের পরিস্থিতিতে আমি একটা হিসাব দেখছিলাম, গড়ে প্রতিদিন ২৫০ জন মানুষকে সেখানে হত্যা করা হচ্ছিল। পুরো গাজা একটা অবরুদ্ধ বন্দিশিবিরে পরিণত হয়েছিল। মাত্র ৪১ কিমি দীর্ঘ এবং ১০ কিমি চওড়া এই লম্বাটে ভূখণ্ডের উত্তর ও পূর্ব দিক ইসরায়েলবেষ্টিত, দক্ষিণ-পশ্চিমে মিসরের সীমান্তসংলগ্ন রাফাহ ক্রসিং আর পশ্চিম দিকের পুরোটা ভূমধ্যসাগর। তাই গাজা থেকে বের হতে গেলে একমাত্র মিসরের সীমান্তসংলগ্ন রাফাহ ছাড়া বের হওয়ার অন্য কোনো পথ ছিল না। আবার ২০০৭ সালে গাজায় হামাস ক্ষমতায় আসার পর থেকে গাজাবাসীদের ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে অন্য কোথাও যেতে হলে ইসরায়েলি সরকারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হতো। গাজা এ রকম এক অবরুদ্ধ বন্দিজীবনের মধ্যে তাদের ঠেলে দিয়েছিল!


আবার ৭ অক্টোবরের আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে মানচিত্রটা দেখিয়েছিলেন, সেখানে গাজা আর পশ্চিম তীর বা ওয়েস্ট ব্যাংকের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে উঠছিল বা হচ্ছিল। তাতে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো ফিলিস্তিনিদের এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামের আর বোধ হয় গুরুত্ব নেই! এ রকম পরিস্থিতিতে হামাস তো জানতই ইসরায়েলের সামরিক শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যপুষ্ট সামরিক শক্তির তুলনায় তাদের শক্তি কিছুই না। কিন্তু যেখানে তাদের অস্তিত্বহীনতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং তাদের অস্তিত্ব পুনঃপ্রকাশের জন্য, তাদের অস্তিত্ব যে টিকে আছে, সে জন্যই হয়তো বা হামাস যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত ছিল। আর এ হামলায় তারা ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়াও দেখতে চেয়েছে।


ঘটনার পরে আমরা এখন যে ব্যাপারটা দেখছি, পিএলওর নেতৃত্বের দুর্বলতায় হামাসকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের যে স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং তাদের মতাদর্শ, সেটাকে পশ্চিমা গণমাধ্যম মোটাদাগে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করে চলছে। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার সংগ্রাম একটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের অধিকার আদায় এবং অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামটা এখন একটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, বিশেষ করে ৭ অক্টোবর ২০২৩-পরবর্তী ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নিধনের ইসরায়েলি প্রচেষ্টার প্রতিবাদের বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে ওঠা সংহতি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। 


হামাস গঠনে ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষকতা আছে বলে কেউ কেউ বলেন। এটা কতটুকু সত্য?


তানজীমউদ্দিন খান: একটা সময় সে আলোচনাটা ছিল। অনেকে এটাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে প্রচার করলেও ২০১৮ সালে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক সাংবাদিক দিনা সাইদাহমেদ ১৯৮০-এর দশকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক সংবাদের বরাতে জানান, ইসরায়েলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং গাজার মিলিটারি গভর্নর আইজাক সেগেভ নিজেকে ‘হামাস স্রষ্টা’ বলেছিলেন। তাঁর মাধ্যমে ইসরায়েলি সরকার হামাসকে অর্থায়ন করেছিল সেই সময়। যদিও এটা সর্বজনবিদিত যে হামাস মূলত মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পিএলওর শক্তিকে হ্রাস করার জন্য হামাস তৈরি হয়েছিল। তবে, ইসরায়েলের অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং এই প্রতিবাদকে একটা সংগ্রামের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হামাসের একটা ভূমিকা আছে। পিএলওর দুর্বল নেতৃত্ব, তাদের দুর্নীতির ইতিহাস এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাস সরাসরি অবস্থান নেওয়ার কারণে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মাঝে তারা জনপ্রিয় হয়েছে। তাদের জনপ্রিয়তা আছে বলেই তারা গাজায় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হতে পেরেছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশের ইসরায়েলের প্রতি নতজানু হওয়ার কারণেও হামাস এখন একটি প্রতিবাদী সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে পেরেছে। স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যখন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না, অন্য কেউ গড়ে তোলে, তখন তার সমর্থন সে দিকেই যায়। হামাসের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটেছে। এখন তারা কিন্তু একটা স্বকীয় অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও