বহুদলীয় গণতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব দুই পক্ষেরই

সমকাল এম এ আজিজ প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৪, ১০:৫২

বাংলাদেশের রাজনীতি অভিনব। রাজনীতি এখানে পরোক্ষভাবে দ্বিদলীয়; কিন্তু জাতীয় সংসদ বস্তুত একপক্ষীয়। জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের তকমা পেলেও ৭ জানুয়ারির নির্বাচন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রায় প্রকাশ্য আসন সমঝোতার মাধ্যমে। এ সমঝোতাও ছিল একতরফা– আওয়ামী লীগই বিএনপিসহ রাজপথের সব বিরোধী দলের বর্জনের মুখে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে ধরে রাখতে কিছু আসন ছেড়ে দেয়। অর্থাৎ বলা যায়, আওয়ামী লীগের দয়া-দাক্ষিণ্যেই জাতীয় পার্টি চলমান সংসদে স্থান পেয়েছে।


যা হোক, জাতীয় রাজনীতির প্রধান দুই ধারার একটির নেতৃত্বে আছে আওয়ামী লীগ এবং অন্যটি বিএনপির নেতৃত্বে। চিরাচরিত গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি অনুসারে দুই পক্ষ একে অপরের সহযোগী হওয়ার কথা। বাস্তবে সেটি দেখা যায় না। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নির্মূল করতে চায়। 


গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যে দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে, মুখ্যত তারই গণতন্ত্রচর্চার সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় বেশি যত্নশীল হতে হয়। পাশাপাশি বিরোধী দল তার সহযোগী থাকবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ সে পথে হাঁটতে পারছে না। বড় দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা খুবই ক্ষীণ। গণতন্ত্রের স্লোগান জারি রেখে সুবিধাজনক যে কোনো পন্থায় সরকারে থাকা বা যাওয়াই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হয়ে গেছে। 


ক্ষমতাসীন দল যেনতেনভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ধরে রাখতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকারকে কাবু করতে আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে একের পর এক নির্বাচন বর্জন করে চলেছে। এতে নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ লক্ষণীয় হারে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে নির্দেশ করে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে বাধ্য। সে ক্ষেত্রে গণতন্ত্র পথ হারাতে পারে।


বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য ও নিরপেক্ষতা ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন একেবারেই অসম্ভব। নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব সব দলের জন্য ‘লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা। কিন্তু এখানে ক্ষমতাসীন দল আর সরকার দৃশ্যত একাকার হয়ে গেছে। ফলে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানেই ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ প্রভাব বিরাজমান।


ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য কৌশল নিতেই পারে, তবে অপকৌশল নয়। আদর্শ গণতন্ত্রের সঙ্গে যায় না, এমন কোনো কৌশল বর্জনীয়। আর বিরোধী দলগুলোকে অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে হবে। নির্বাচনী ব্যবস্থা যদি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়, তাহলে দেশে গণতন্ত্র কি থাকবে?


হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকার ১৯৮৩ সালে উপজেলা পদ্ধতি চালু করে। আইনে বিধান রাখা হয়, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ গঠন হবে। এই নির্বাচন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্থানীয় সরকার হবে উন্নয়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখা হয়।


কিন্তু বিরোধী দলসহ স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের আপত্তি সত্ত্বেও ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইন সংশোধন করে উপজেলা, ইউপি চেয়ারম্যান; সিটি করপোরেশন, পৌর মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করে। উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করা হয় স্থানীয় এমপিকে। তাঁর সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনওকে পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ায় তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরাসরি রাজনৈতিক দলের অধীনে চলে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও