বিএনপির ১০ দফা: নতুন মোড়কে পুরনো কথা
যত গর্জে তত বর্ষে না। এ প্রবাদের প্রমাণ ১০ ডিসেম্বর আবারও দিল বিএনপি। যত হুমকি ধমকি দিয়েছিল তার তেমন কিছুই ফলাতে পারেনি। যতই সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিক, মূলত বিএনপি নিজেদের গণ্ডি অতিক্রম করতে পারেনি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা না করার জন্য যেসব হাস্যকর অজুহাত দিয়েছিল, তার চেয়েও বদ্ধ স্থানেই তাদের সমাবেশ করার অনুমতি নিতে হয়েছে। নিজেদের ভুলে বৃত্তেই বিএনপি ঘুরপাক খাচ্ছে।
বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। জনগণও উন্নয়ন চায়, রাজনৈতিক সহিংসতার নামে দলকে চাঙ্গা করার ভোতা অস্ত্র এখন আর কার্যকর না।
নানান মেঠো বক্তৃতা দিয়ে সরকারের অযৌক্তিক সমালোচনা কেউ গ্রাহ্য করে না। বিএনপি কি তাদের অতীত ভুলে গেছে? তাদের মানুষ পুড়িয়ে মারা, বাসে ট্রেনে ট্রাকে লঞ্চে আগুন দেওয়া ভুলে গেছে? বিরোধীদলকে দমন করা ভুলে গেছে? বিএনপি ভুলে গেলেও রাজনীতি সচেতন কোনও মানুষ এখনও ভোলেনি। রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ প্রতিবাদকে সহিংসতা বা বর্বরতার পরিণত করেছিল বিএনপি। নির্বাচনে জয়ের পরপরই বিরোধীদলকে নির্বিচারে নিধন, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, ভুয়া মামলা দেওয়া, এলাকা থেকে বিতাড়ন, বাড়ির ভিটায় পুকুর কাটার ইতিহাস বিএনপির। অথচ নির্বাচনে জয়ী হয়েও আওয়ামী লীগ কোনও প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নেয়নি। সহিংসতার বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়নি আওয়ামী লীগ। ভুলে গেলে চলবে না এই দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একমাত্র আওয়ামী লীগই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল।
বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত যে অত্যাচার নির্যাতন করেছিল তা তাদের বারবার মনে করা দরকার। এতে আত্মশুদ্ধি হতে পারে তাদের কিন্তু বিএনপি সে পথে হাঁটেনি। উল্টো নির্বাচনে হেরে আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিল। অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করে পুড়িয়ে মেরেছিল, এমনকি পবিত্র কোরআন শরীফ পোড়াতেও তারা দ্বিধা করেনি। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় সকল অপকর্মই তারা করেছে, বিদেশে লবিস্টও নিয়োগ করেছিল। সেই বিএনপির চরিত্র সহজে পাল্টে যাবে তা প্রত্যাশা করাই বোকামি। বরং প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে বিভিন্ন দেশবিরোধী গুজবকে উসকে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন, জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু করা হচ্ছে। অথচ সেই পদ্মা সেতু ব্যবহার করেই বিএনপি নেতারা সভা করে ঢাকায় ফিরেছেন।