কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব | প্রিয় স্টোর

তৈমূরের অভিযোগ

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বন্দরে গতকাল জুমার নামাজের পর ব্যাপক শোডাউন করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। কয়েক হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও বন্দরবাসী শোডাউনে অংশ নেন। শুধু তাই নয়, বন্দরের জাতীয় পার্টির একাধিক চেয়ারম্যান ও তাদের কর্মী-সমর্থকরাও তৈমূরের শোডাউনে যোগ দিয়েছেন। এ সময় ভিন্ন এক আমেজ তৈরি হয় শোডাউনে। নেতাকর্মীরা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকাবাসীর কাছে হাতি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় একটি খোলা জিপে দাঁড়িয়ে দুই হাত উপরে তুলে বন্দরবাসীর দোয়া ও ভোট চান তৈমূর। একটিবার সুয়োগ চান তিনি বন্দরবাসীর কছে। তৈমূর দুই হাত উপরে তুলে ভোট প্রার্থনা রাস্তার দুইপাশে ও বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষকে আবেগ আপ্লুত করে তুলেছে।  অনেকে ছাদের উপর থেকে ফুলের পাপড়ী ছিটিয়ে দেন তৈমূরের উপর। জুমার নামাজের পর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ উদ দৌলা মাঠে সমবেত হতে থাকে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।  গতকাল  কদমরসুল দরগা জিয়ারত ও  জুমার নামাজ আদায় শেষে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে যান তিনি। বন্দরবাসীর উদ্দেশ্যে তৈমূর বলেন, আমাকে একবার সুযোগ দিন। আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের গোলাম হয়ে সেবা দেবো। বন্দর আর শহরের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। নগরভবন সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে। কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। ট্যাক্স কমিয়ে সহনশীল অবস্থায় নিয়ে আসবো। বাড়তি করের চাপ থাকবে না। নগরবাসীর কাছে দায়বদ্ধতা থাকবে।এর আগে সকালে শহরের মিশনপাড়ায় সংবাদ সম্মেলন করে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে আমি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে যাইনি। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী এমপিদের নিয়ে একের পর এক সমাবেশ করে যাচ্ছে। তারা আমাকে আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে ৩টি অভিযোগ দিয়েছি। তোরণ নির্মাণ ও সড়ক দখল করে মার্কা স্থাপন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল তারা তোরণ ভেঙে দেবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এছাড়াও অন্যান্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারেও বারবার অবহিত করা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের মনের ধারণা নির্বাচন কমিশন একটা ঠুটো জগন্নাথ। তারা সেই পথেই হাঁটছেন। তারপরেও আমি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।  তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেলগুলো চেক করলেই দেখতে পাবেন বিভিন্ন জেলার সরকার দলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছে। সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলাকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি কোনো ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধির লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই আমাদের সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সঙ্গে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগতভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জনগণ সন্দিহান হয়ে পড়েছে। আমি বাংলাদেশের যিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রত্যাশা করে আপনি এ দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক হয়ে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন, স্বচ্ছ এবং সুন্দরভাবে করার ব্যবস্থা নিবেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যদি ব্যালটের মাধ্যমে আশার প্রতিফলন ঘটে এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে অনেকগুলো অভিযোগ করেছিলাম। সে অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং সে সকল ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের চাহিদার কারণেই আমি নির্বাচনে এসেছি। পক্ষান্তরে আমাকে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিভিন্ন উপাধি দিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। আমি আমার কোনো প্রার্থীর প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমন করে বক্তব্য রাখিনি এবং ভবিষ্যতেও রাখবো না। তিনি বলেন, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি নাকি বসে পড়বো। বসে পড়ার জন্য নির্বাচনে নামিনি। নির্বাচন করার জন্য নেমেছি। আমি একটা দল করি। আমি বিএনপির একজন সক্রিয় সদস্য। এই দলের জন্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছি। মিডিয়াতে দেখেছেন পুলিশ কতবার শারীরিকভাবে নির্যাতিত করেছে। তখন আমি দলের ক্যান্ডিডেট ছিলাম। নেত্রীর নির্দেশে আমি সরে দাঁড়াই। আজ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করিনি কেন আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো। কারণ আমি মনে করি আমি দল করি দলের প্রতি আমার অনুগত থাকা দরকার। তাই আমি দলের প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নারায়ণগঞ্জের একটি সভায় বলেছিলেন একজন প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এবং আরেকজনকে পরাজিত করতে আমরা তৈমূরকে বসিয়েছি। সেটাও আমি মাথা পেতে নিয়েছি। ২০১৬ সালে আমাকে মনোনীত করা হলেও আমি নির্বাচন করিনি। শহরবাসীকে দুর্ভোগ লাঘবের জন্যেই আজ আমাকে নির্বাচনে নামতে হয়েছে। পুনর্বাসন ছাড়া কোনো হকারের পেটে লাথি দেয়া যাবে না কারও ছাদ কেড়ে নেয়া যাবে না। মৌলিক চাহিদার ওপর পৃথিবীতে কোনো আইন নেই। নারায়ণগঞ্জের জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে চলবে হকাররাও পুনর্বাসিত হবে। শহরে যানজট থাকবে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও