স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবতা ও বরাদ্দের অসামঞ্জস্য
সম্প্রতি সরকার দেশের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (জুলাই ২০২০-জুন ২০২৫) গ্রহণ করেছে, যার ছয়টি মূল প্রতিপাদ্যের প্রথমটি হচ্ছে- 'করোনা অতিমারি থেকে দ্রুত পরিত্রাণ লাভ করা'। বৈশ্বিক এই অতিমারির কবল থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার বিষয়টি বাস্তবতার নিরিখে নতুন পরিকল্পনায় সবার ওপর স্থান পেয়েছে। কাজেই ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও স্বাস্থ্য খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে প্রত্যাশা ছিল। জীবন তথা স্বাস্থ্যের প্রাধান্য বাজেটের মূল প্রতিপাদ্যে আবেগ জড়িত ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে, স্বীকার করতে হবে। সে লক্ষ্যেই বাজেটে ৮০ শতাংশ মানুষকে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে টিকার আওতায় নিয়ে আসা, টিকার উৎস ও সম্ভাব্য অর্থায়নের যে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে তা সময়োপযোগী। কিন্তু বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে ২৫ লাখ করে টিকা দিলে প্রায় ১৭ কোটি নাগরিকের ৮০ ভাগ তথা কমবেশি সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের টিকা দিতে সময় লাগবে কমবেশি সাড়ে চার বছর। প্রতিটি টিকা গড়ে ১০ মার্কিন ডলারে কিনতে হলে বার্ষিক খরচ পড়বে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।