করোনা চিকিৎসার ব্যয়ে নজর দেওয়া জরুরি
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়ের পার্থক্য অনেক। প্রটোকল মেনে চিকিৎসা হওয়া দরকার।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, সরকারি হাসপাতালে মোট ব্যয়ের ৬০ দশমিক ১ শতাংশ ব্যয় হয়েছে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, হোটেলে থাকা ও খাবার বিল এবং যাতায়াত খাতে, যা বেসরকারি হাসপাতালে মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ওষুধ খাতে সরকারি হাসপাতালে ব্যয় হয় মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ, যা বেসরকারি হাসপাতালে ৩০ দশমিক শূন্য শতাংশ। পার্থক্য প্রায় দুই গুণ। রোগনির্ণয় খাতে এ পার্থক্য সাত গুণের বেশি। সরকারি হাসপাতালে ২ দশমিক ৪ শতাংশের বিপরীতে বেসরকারি হাসপাতালে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, সরকারি-বেসরকারি ব্যয়ের খাতগুলো হুবহু এক হওয়ায় তা পুরোপুরি তুলনীয় নয়। তবে ওষুধ ও রোগনির্ণয় খাত দুটির মধ্যে তুলনা করা যেতে পারে। সরকারি হাসপাতালে একজন অন্তর্বিভাগীয় রোগীর পেছনে যেখানে ওষুধে ১৭ হাজার ৩৮৫ টাকা ব্যয় হয়, বেসরকারি হাসপাতালে তা ৬৫ হাজার ৫৫১ টাকা বা প্রায় চার গুণ। সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে একজন রোগীর ওষুধ খাতে ১ লাখ ৭ হাজার ১৪৪ টাকা, যা বেসরকারি হাসপাতালে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৭ টাকা বা দেড় গুণের বেশি। রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে এ ব্যবধান আরও বেশি। প্রতিজন অন্তর্বিভাগীয় রোগীর পেছনে গড়ে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এ ব্যয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৩ হাজার ২৯৭ টাকা ও ৪১ হাজার ৬৩৭ টাকা এবং আইসিইউ সেবা গ্রহণকারী রোগীর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৬ হাজার ৭৮৯ টাকা ও ৯৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে অন্তর্বিভাগীয় ও আইসিইউ চিকিৎসা ব্যয় যথাক্রমে ১২ দশমিক ৬ ও ১৩ দশমিক ৮ গুণ বেশি।