কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

উন্নয়নকে বেগবান করতে ‘ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি’ নামে বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছি

বণিক বার্তা ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২১, ১৩:২৮

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হলো। এ অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রনেতারা এসেছেন। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে?


আমরা খুব ভাগ্যবান যে ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ দুটো ইভেন্ট একসঙ্গে করতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এতে আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। প্রথমত, বিশ্বের সব দেশকেই আমাদের এই বড় দুটি ইভেন্ট সম্পর্কে জানিয়েছিলাম এবং এতে ১৪৭টি দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও জাতিসংঘের মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা বাণী পাঠিয়েছেন। ইভেন্টটা উদযাপিত হয় ১০ দিনব্যাপী। তাছাড়া ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ, প্রিন্স ফিলিপ, পোপসহ অনেকে ভিডিও বাণীতে দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য ও রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণের প্রশংসা করেছেন। এ আয়োজনে আমাদের প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। তারা নানা কারণে আমাদের এখানে এসেছেন। এক. বাংলাদেশের প্রতি তাদের এক বিশেষ আস্থা রয়েছে। আমাদের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাদের গভীর আস্থা আছে। তারা আমাদের নেতৃত্বকে পছন্দ করেছে। তাই আমাদের নেতৃত্বের অনুরোধে এ কভিডের সময়েও তারা এসেছেন। দ্বিতীয়ত, তারা এসেছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের আলাদা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে। কারণ বঙ্গবন্ধুর জীবনচরিত যে-ই একবার শুনেছে, সেই দেখেছে এই মানুষটি সারা জীবন মানুষের কল্যাণের জন্য, মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন। এ ধরনের চরিত্র খুব কম; কদাচিৎই পাওয়া যায়। তারা মূলত এসেছেন দুটো অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা এ সুযোগে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রায় ক্ষেত্রে তারা আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে। জাতিসংঘে মিয়ানমারের রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কেউই আমাদের পক্ষে ভোট দেয়নি। তবে ১৩২ রাষ্ট্র আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। কিন্তু বিশেষ করে শ্রীলংকা ভোট দেয়নি। আমরা বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম।


তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তারা একমত যে রোহিঙ্গা তাদের স্বদেশে ফিরে গেলে ভালো সমাধান হবে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিষয়টা নিয়ে তারা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলাপ করবেন। আমার মনে হয় এটা আমাদের অর্জন। কারণ তাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একই অবস্থা ভুটান ও নেপালের। বলেছে তারাও উদ্যোগ নেবে। বিশেষ করে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীও এসেছেন। দেশটি আবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। তিনিও বলেছেন, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে কথা বলবেন। বলেছেন, সম্প্রতি যে সরকার এসেছে সেটি এখনো খুব একটা স্থিতিশীল নয়। সুতরাং এ মুহূর্তে কিছু একটা বলা মুশকিল। তবে তারা একমত, রোহিঙ্গা সমস্যার জরুরি সমাধান প্রয়োজন। আগে থেকে অবস্থা এখন তুলনামূলক ভালো। আমরা তাদের বলেছি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবার আমরা নির্বাচন করব। এ পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচটি দেশই অঙ্গীকার করেছে নির্বাচনে আমাদের সাপোর্ট দেবে এবং আমাদের বিপক্ষে কোনো ক্যান্ডিডেট দেবে না। এগুলো আমাদের বড় অর্জন বলে আমরা মনে করি। ভুটান বলুন, নেপাল বলুন প্রত্যেকেই তাকে অনুরোধ করেছেন, আপনি যে কানেক্টিভিটির কথা বলছেন সেটি যেন ভারতকে বলা হয়। তারা বলেছেন, আমরা চাই রেলপথ, আমরা চাই পানিপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা। তারা বলেছেন, আমরা মোংলা, চট্টগ্রাম, পায়রা বন্দর ব্যবহার করতে চাই। তার জন্য ভারত যেন সুযোগ করে দেয়, সেটি আপনি বলুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেগুলো উত্থাপন করেছেন। ভারত তাতে মোটামুটিভাবে রাজি হয়েছে। তাদেরও কিন্তু অ্যাপ্রোচ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেকটি বিষয় করেছেন, কোনো একক দেশ উন্নত হলে চলবে না। আশপাশের সব দেশের মানুষের উন্নয়ন হতে হবে। তাহলেই উন্নয়ন সার্থক হবে। এটা নিয়ে সবাই তার সঙ্গে একমত। সেখানে তিনি বলেছেন, ২০৪১ সালে আমরা একটা উন্নত দেশ হতে চাই। জানি যে আমরা একা পারব না। আপনাদের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব লাগবে। তারা তাতে রাজি হয়েছে।


বিশেষ করে ভারত বলছে, অর্থনৈতিকভাবে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে এক আছি। আপনাদের যেকোনো কাজে আমরা সহায়তা করব। প্রকৃতপক্ষে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটা বিশেষ প্রস্তাবও দিয়েছেন। বলেছেন, এ অঞ্চলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে একটা ইকোনমিক সামিট হোক। এর ফলে আমাদের কাজকর্ম আরো বেড়ে গেছে। চ্যালেঞ্জও বেড়ে গেছে। আমি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে আগামী ৫০ বছর মাথায় রেখে ৫৪টি অভিন্ন নদী সচল রাখার জন্য টেকসই ব্যবস্থাপনার কথা বলেছি। তিনি এটাতে সায় দিয়েছেন। আরেকটি কথা বলেছি, অরুণাচলে জলবিদ্যুতের বিশাল সম্ভাবনা আছে। সেটিকে কাজে লাগিয়ে আপনি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং এমনকি মুম্বাইয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। তবে এটি যদি শিলিগুড়ি দিয়ে নিয়ে যান, তাহলে অনেক ব্যয় হবে। তবে আমাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সস্তায় তা নিতে পারবেন। এর জন্য আমাদের শুল্কস্বরূপ ১৫-২০% বিদ্যুৎ দিতে পারেন। এতে আপনাদেরও লাভ এবং আমাদেরও লাভ। বলেছেন, তিনি এটা পরীক্ষা করে দেখবেন। তিনি বলেছেন, ৫০ বছর নয়, আগামী ২৫ বছরের কথা চিন্তা করুন কীভাবে অত্র অঞ্চলের সব মানুষের কল্যাণ করতে পারি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও