কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

কীভাবে হবে কারা করবে

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইউনিক নম্বর দিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারি মাসেই শুরু হচ্ছে শিশুদের ১০ ডিজিটের একটি নম্বর দেয়ার কার্যক্রম। স্কুল-কলেজে ভর্তি এবং হাসপাতালে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পেতে এই নম্বর বাধ্যতামূলক করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ইউনিক আইডি প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। ইসি’র জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মগহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ইউনিক নম্বরের মাধ্যমে শিশু বয়স থেকেই একজন নাগরিকের অধিকার এবং সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এই আইডি আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র পরিচিতিই নয় বরং ব্যক্তির সামগ্রিক অধিকার রক্ষা ও আমৃত্যু সামাজিক সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে। তথ্য ভাণ্ডারের সার্ভারের ক্ষমতা ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে এবং সার্ভারের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য প্রকল্পও সরকার অনুমোদন করেছে। ইসি’র জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জন্মের প্রথম দিন, অর্থাৎ শূন্য বয়স থেকে ১০ বছরের নিচে আর ১০ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত- এই দুই ভাগে ভাগ করে ইউনিক আইডি নম্বর দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের সময় শিশুর নাম, জন্মতারিখ এবং পিতা-মাতার নাম দিতে হয়। এখন থেকে এর সঙ্গে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর দিতে হবে। শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন অধিদপ্তরে এসব তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন অধিদপ্তরই সারা দেশে এই আবেদন গ্রহণ করবে। এই অধিদপ্তরের সার্ভারের সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সার্ভার যুক্ত হবে। জন্ম নিবন্ধন অধিদপ্তর শিশু তথ্যগুলো ইসি’র সার্ভারে পাঠাবে। এর ভিত্তিতে ইসি’র সার্ভার জেনারেটর একটা ইউনিক নম্বর প্রস্তুত করে তা পাঠাবে। নম্বরটি সার্ভার জেনারেটর এলগরিদমের মাধ্যমে তৈরি করে দেবে। শিশুর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করে সার্ভার জেনারেটর ইউনিক নম্বরটি তৈরি করবে। ১০ বছর পুরো হওয়ার পর কোনো শিশু যখন ১১ বছরে পা দেবে, তখন তার বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে ইউনিক নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই তথ্য স্কুল থেকে সংগ্রহ করা হবে। বায়োমেট্রিক তথ্য হিসেবে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিশের তথ্য নেয়া হবে এবং ছবি তোলা হবে। এসব তথ্য ইউনিক নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করে ১০ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত বয়সীদের লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয় পত্র দেয়া হবে। কিন্তু তারা ভোটার হবে না। তথ্য ভাণ্ডারে সেভাবেই তথ্য থাকবে। ১৮ বছর পুরো হলে তখন দেয়া হবে স্মার্ট কার্ড এবং ভোট দেয়ার অধিকার পাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন রয়েছে। সেই আইনে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে পরিচয়পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অনুসারেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে হবে। এখন একজন নাগরিককে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, ভোটার নম্বর, আয়কর টিন নম্বর, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর- এ ধরনের অনেক নম্বর ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হলে সব ক্ষেত্রে এই একটি নম্বর ব্যবহার করে সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি নম্বর ব্যবহার করবেন এবং মৃত্যুর পরও সেই নাগরিক সম্পত্তি বণ্টন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ওই নম্বর বাধ্যতামূলক করা হবে।উল্লেখ্য, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গত সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। যার খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে প্রথম ধাপে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনে জুলাই ২০১১ হতে জুন ২০১৬ মেয়াদে আইডিইএ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের জনবলের সহায়তায় দেশব্যাপী নির্বাচন কার্যালয়সমূহে নাগরিকদের পরিচিতি সেবা প্রদান, স্মার্ট কার্ড বিতরণ, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রকল্পের জনবলের মাধ্যমেই ডাটাসেন্টার পরিচালনাসহ সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিচিতি যাচাই সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশব্যাপী পরিচিতি সেবা, স্মার্ট কার্ড বিতরণ ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রদেয় এনআইডি যাচাই সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিভিন্ন পর্যায়ে আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ চলতি বছরে সমাপ্ত হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও