কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় দূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

এ অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর  সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার গণভবনে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ সাক্ষাৎ করতে গেলে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান সম্পর্ক উন্নয়নের ওই তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ভারতীয় দূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। জানান, ওই সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা সব সময়ই মনে করি যে, এই অঞ্চলের জনগণের উন্নয়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সবার আগে অধিকতর সহযোগিতার প্রয়োজন। প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সুবিধার্থে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। প্রেস সচিব জানান, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রীভা গাঙ্গুলী বলেছেন, এই মরণঘাতী ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশই একসঙ্গে কাজ করছে। বৈশ্বিক ওই মহামারির বিস্তার রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। হাইকমিশনার কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সকল স্তরের এবং শ্রেণি-পেশার জনগণ এই সংকট মোকাবিলায় একযোগে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অনেক অনুষ্ঠানই উদযাপন সম্ভব হয়নি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ অভিযানের পাশাপাশি তার দল মুজিববর্ষে সারা দেশে এক কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রেস সচিব জানান, সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। যেখানে তিনি (নরেন্দ্র মোদি) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তাকে শুভেচ্ছা জানান। ভারতের হাইকমিশনারও এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জন্মদিনের আগাম শুভকামনা জানান। জবাবে শেখ হাসিনা তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং হাইকমিশনার রীভা- উভয়কে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে স্মরণ করে বলেন, ভারতের জনগণ এবং এর সব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অভূতপূর্ব সমর্থন জানিয়েছিল এবং একইভাবে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক স্থলসীমা চুক্তিকেও সমর্থন করে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ভারত-বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চ্যুয়াল বৈঠক বিষয়ে হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রীভা গাঙ্গুলী দাশের বিদায়ী সাক্ষাৎ বিষয়ে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। এতে বলা হয়, ২৭শে সেপ্টেম্বরের ওই সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাটি হস্তান্তর করেন এবং তার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এ উপলক্ষে একটি ফুলের তোড়া উপহার দেন। বৈঠকে হাইকমিশনার ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথমে’ নীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয়টি তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী এবং পরের বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পঞ্চাশতম বার্ষিকী উদযাপন বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি মতে, ?হাইকমিশনার ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভারত সফরের কিছু দুর্লভ ফুটেজ প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিদায়ী হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের সচিব (পূর্ব) হিসেবে তার পরবর্তী এসাইনমেন্ট প্রাপ্তি তথা কর্মজীবনের জন্য আগাম শুভকামনা জানান।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও