কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

পায়রার ভাঙনে হুমকিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

মানবজমিন প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০

থামছে না পায়রা নদীর ভাঙন। নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই আয়তনে ছোট হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলা। গত এক মাসে ভয়াল পায়রার ভাঙনে বরগুনা-আমতলী-তালতলী উপজেলার অন্তত শতাধিক একর ফসলি জমি ও শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পথে বসেছে হাজারো পরিবার। এছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে তালতলী আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প এলাকা। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা আমতলী-তালতলী উপজেলাকে পায়রা নদীর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।জানা গেছে, প্রমত্তা বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ছিল ১২০০ মিটার। বর্তমানে নদীটি ভেঙে গড় প্রস্থ হয়েছে ৩৫০০ মিটার। গত ২৫ বছরে পায়রা নদীপাড়ের হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও হাজার হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের গোলাবুনিয় গ্রামের মাহতাব ফকির বলেন, পায়রার ভাঙন থামছেই না। প্রতিদিনই ভেঙে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনে আমাদের এলাকার অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, পায়রার ভাঙন থামছেই না কথাটা যেমন সত্যি তেমনি যদি অচিরেই এ সকল ভাঙন এলাকায় ব্লক দিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হওয়া রোধ করা জরুরি। গত কয়েকদিনে আমাদের পদ্মা, ছোটতালতলী এলাকার অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।গত এক মাসে আমতলী ও তালতলীর পশ্চিম ঘটখালী, পৌর শহরের বৈঠাকাটা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, লোচা, আড়পাঙ্গাশিয়ার পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, পচাকোড়ালিয়া স্লুইস গেট, মৌপাড়া, গাবতলী, নকড়ী, তেঁতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গার অর্ধশত একর ফসলি জমি ও শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প এলাকা পায়রার ভাঙনের মুখে পড়েছে।তালতলী উপজেলার মৌপাড়া গ্রামের মো. শানু তালুকদার ও গাবতলী গ্রামের মোশাররফ হোসেন সেন্টু ডাকুয়া বলেন, গত এক সপ্তাহে অন্তত চার একর জমি নদীতে ভেঙে গেছে। সন্ধ্যায় জমি দেখে যাই, সকালে এসে দেখি ওই জমি নাই। পায়রা নদীর হাত থেকে বসতঘর ও জমি রক্ষায় দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবি জানাই। আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের মানিকুর রহমান বলেন, পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি পায়রা নদীতে ভেঙে বিলীন হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এখানে বসবাসরত কয়েকশ’ পরিবার ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে। আমতলীর চাওড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঘটখালী গ্রামের আ. করিম পান্না বলেন, পায়রার ভাঙনে বিদ্যালয়, ক্লিনিক, মাদ্রাসা ও মসজিদসহ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাবার ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আমতলী পৌরশহরে বসবাস করছি।তালতলীর তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের আলমগীর হাওলাদার বলেন, তেঁতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গায় পায়রার ভাঙন থামছেই না। প্রতিদিন ভেঙে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই গ্রামের আলম মিয়া জানান, বিকালে জমিতে ফসল রোপণ করে এসেছি। পরের দিন সকালে ওই জমি আর খুঁজে পাচ্ছি না। দ্রুত ব্লক নির্মাণ করে পায়রার ভাঙন রোধের দাবি জানাই। তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ছোটবগী ইউপি চেয়ারম্যান মো. তৈফিকুজ্জামান তনু বলেন, পায়রা নদী শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তালতলীর নিশানবাড়িয়া ও সোনাকাটা ইউনিয়ন অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পায়রা নদীসংলগ্ন আইসোটেক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের হাত থেকে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আরো ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়বে বরগুনা উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা।বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকা আমতলী-তালতলী উপজেলা ও বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়ন, ৯নং এম বলিয়াতলী ইউনিয়ন, ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের বেশিরভাগই পায়রা নদীর ভাঙ্গনের মুখে তাই ভয়াল পায়রা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।তিনি আরো বলেন, পায়রার ভাঙনে বরগুনার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়ন, ৯নং এম বলিয়াতলী ইউনিয়ন, ১০নং নলটোনা ইউনিয়নগুলো ক্রমশ ছোট হচ্ছে আসছে। পায়রার ভাঙন রোধে দ্রুত ব্লক নির্মাণের দাবি জানাই।বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, পায়রার ভাঙন রোধে পশ্চিম ঘটখালী, আমতলী পৌরসভা, পশুরবুনিয়া, বালিয়াতলী, মৌপাড়া, গাবতলী, জলায়ভাঙ্গা ও তেঁতুলবাড়িয়ার ৮ কিলোমিটার এবং বরগুনার পুড়াকাটা, গোলবুনিয়া , চলিতাতলী, বাইন সোমোর্ত, ছোট তালতলী, পদ্মা এলাকায় ১২ কিলোমিটার ব্লক নির্মাণের জন্য ডিপিপি করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাস হলে দ্রুত কাজ শুরু করবো।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও