কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

অন্তর্ভুক্তির শতভাগ সুফল নিশ্চিতে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা চাই

দৈনিক আজাদী প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০৭

.tdi_2_0b5.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_2_0b5.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});এক দশক আগেও ব্যাংকিং ছিল শহুরে সেবা। জনগোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশই ছিল ব্যাংকিং সেবার বাইরে। ঋণের জন্য নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ছিল গ্রাম্য মহাজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অর্থ সঞ্চয়ে ভরসা ছিল মাটির ব্যাংক। দেশের অভ্যন্তরে শ্রমজীবী মানুষের টাকা পাঠানোর প্রধান মাধ্যম ছিল মানুষই। মাত্র এক দশকেই পুরোপুরি পাল্টে গেছে এই চিত্র। এ সময়ে বাস্তবে রূপ নিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গত এক দশকে দেশের আর্থিক খাতে যুক্ত হয়েছে নিত্য নতুন ব্যাংকিং সেবা। সম্প্রতি পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয়। টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত বিবেচনা করা হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাকে যা সমাজের সর্বস্তরের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বহুমুখী আর্থিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং আর্থিক সেবাপ্রাপ্তির অধিকার দেয়। সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয়, সমাজের আর্থিক কাঠামোয় নারী-পুরুষ, শহর-গ্রাম নির্বিশেষে যত বেশি মানুষের সম্মিলন ঘটবে, প্রবৃদ্ধির ভিত তত শক্তিশালী ও টেকসই হবে, অর্থ ব্যবস্থায় গতিশীলতা বাড়বে, জীবনমানে ইতিবাচক উন্নয়ন ঘটবে এবং বৈষম্য ও দারিদ্র্য কমে যাবে। আর্থিক ব্যবস্থার উপরিকাঠামো অর্থাৎ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয়, বিনিয়োগ অর্থ লেনদেন ও চলাচল, পরিশোধ, উত্তোলন বা প্রেরণের যতো সেবা রয়েছে, প্রতিটি মানুষের চাহিদা মতো তা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে গত এক দশকে দেশের আর্থিক খাতে যুক্ত হয়েছে নিত্য নতুন ব্যাংকিং সেবা। এ সেবার সূচনা হয়েছিল মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস বা এমএফএসের হাত ধরে। এরপর যুক্ত হয়েছে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ব্যাংকিং উপশাখার মতো নিত্যনতুন ব্যাংকিং ধারণা। এতেই পাল্টে গেছে ব্যাংকিংয়ের চিত্র। শহুরে চরিত্র থেকে বেরিয়ে ব্যাংকিং পৌঁছে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ফলাফল আর্থিক সেবার আওতায় চলে এসেছে ৬৫ শতাংশের বেশি জনগোষ্ঠী। কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব চালু, মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, বুথ ব্যাংকিং উপশাখা, ন্যানো লোনসহ বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আসতে থাকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। নতুন করে ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছে ভার্চুয়াল ব্যাংক ডিজিটাল শাখাসহ প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ বিভিন্ন সেবা। একই সঙ্গে ভুলে গেলে চলবে না, এ সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, আর্থিক জালিয়াতি, অর্থ পাচারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মতো সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে চলতি দশকে ১২০ কোটি মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এসেছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ দশকেই বাংলাদেশের গরিব কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, মুক্তিযোদ্ধাদের এক কোটির ওপর ১০ টাকার ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাব খুলেছে লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী। প্রায় সাত কোটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে মোবাইল ব্যাংকিং। তাছাড়া রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ দানকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক। এত অর্জন সত্ত্বেও আমাদের দেশের অন্যূন চার কোটি পূর্ণ বয়স্ক মানুষ এখনো আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বাইরে রয়ে গেছে। সরকার বা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ সত্ত্বেও আমাদের মূলধারার ব্যাংকিং তার সেবা নিয়ে দেশের আনাচে কানাচে ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিত, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছতে পারছে না। মুনাফামুখী বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্যই এ সীমাবদ্ধতা আর্থিক লাভালাভ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নগরকেন্দ্রিক শিল্প-বাণিজ্যবলয়ে অবস্থান ব্যাংক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। এসব কারণেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ভূমিকাকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। দরিদ্র দেশগুলোয় সমতা আনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম যে ভূমিকা রাখতে পারে, তা অন্য কোথাও রাখা সম্ভব নয়। সর্বোপরি একথা বলা যায়, প্রযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াকে চালিত করতে পারে। তবে এ যাত্রাপথে কিছু প্রতিকূলতার সম্মুখীনও হতে পারে। এক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রক দৃশ্যকল্পের বিষয়ে সর্বদা তৎপর থাকতে হবে। তথ্য-উপাত্ত ও আইনের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংকিং ও ঋণের ইকোসিস্টেমের ওপর জোরালো দৃষ্টি দিতে হবে, যাতে গ্রাহকদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোয় অসদাচরণ ও জালিয়াতির বিষয়টিও সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সুদৃঢ় কাঠামো গড়ে তোলার জন্য আর্থিক সেবা বঞ্চিত জনসাধারণকে অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামে ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারণের পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। এতে অল্প ব্যয়ে অধিক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা সহজ হবে। সরকারের একটি বড় এজেন্ডা হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। যে প্রবৃদ্ধি সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে কিনা, কিংবা প্রবৃদ্ধি হলেই সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বেশ প্রকট। তাই ব্যাংকিং সেবা গ্রহণকারীর হার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।.tdi_3_540.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_3_540.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও