কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

কেন আবিষ্কার নাও হতে পারে করোনার একটি টিকা?

আরটিভি প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০, ২০:১৫

করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা কঠিন। আর তাই ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, একটি টিকা আবিষ্কার জন্য সবকিছু বাজি লাগিয়েছে যুক্তরাজ্য।কিন্তু করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার নাও পারে বলে অনেক বিশেষজ্ঞই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

একই ধরনের কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার জনাথন ভ্যান-ট্যাম। তিনি বলেন, যে কথা কেউ শুনতে চায় না, কিন্তু একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। তার এই আশঙ্কা কিন্তু একেবারেই অমূলক নয়।
একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা খুব সময়সাধ্য ব্যাপার। আর আর্দশ একটি ভ্যাকসিন সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, এটার বিস্তার রোধ করে এবং নিরাপদ রেখেই এ কাজগুলো করে।ফলে এ ধরনের একটি ভ্যাকসিন খুব সহজে পাওয়া যায় না। সেটা আগে তৈরি হওয়া কিছু ভ্যাকসিনের দিকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায়।

৩০ বছরের বেশি সময় আগে বিজ্ঞানীরা এইডস সৃষ্টিকারী এইচআইভি ভাইরাস আলাদা করেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এটির কোনও টিকা আবিষ্কার হয়নি। ১৯৪৩ সালে ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করা হয়। কিন্তু মাত্র গত বছরইএটির একটি ভ্যাকসিন ‍অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ওই টিকাটি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েই গেছে।সবচেয়ে দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি করা হয় গণ্ডমালারোগের। সেটিও তৈরি করতে লেগেছে চার বছর।


তবে এমন নয় যে, বিজ্ঞানীরা এবারই প্রথম করোনাভাইরাসে কোনও টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। এর আগেও দুটি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস- সার্স ও মার্সের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। ওই দুটির ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা।কিন্তু সার্স নিস্তেজ হয়ে যাওয়ায় এবং মার্স মূলত মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক হওয়ায় ওই প্রচেষ্টাগুলো খুব তড়িঘড়ি আগায়নি।
করোনাভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এটির বিরুদ্ধে খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সাধারণ সর্দি-ঠাণ্ডার প্রায় চার ভাগের এক ভাগের জন্য দায়ী হিউম্যান করোনাভাইরাস, কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে তাই মানুষজন পরবর্তী বছর আবার আক্রান্ত হতে পারে।


সম্প্রতি কভিড-19 থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের রক্ত বিশ্লেষণ করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। সেখানে তারা দেখেছেন যে, দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টিকারী আইজিজি অ্যান্টিবডির লেভেল সংক্রমণের প্রথম মাসে বৃদ্ধি পেলেও পড়ে তা কমতে শুরু করে।
এদিকে দ্রুতগতিতে অন্তত ১০০টি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু এক্ষেত্রে এগুলো নিরাপদ কিনা তা আগে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা কোটি কোটি মানুষের শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। এর মানে হচ্ছে খুবই সতর্কতার সঙ্গে টিকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে বিজ্ঞানীদের। ২০০৪ সালে সার্সের একট সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করার পর সেটির শরীরে হেপাটাইটিস ধরা পড়ে।সার্স ও

মার্সের টিকা প্রাণীর ওপর প্রয়োগের পর সেগুলো শ্বাসতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমন বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাস আমাদের মাঝেই থাকবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বসন্ত নির্মূল কর্মসূচির প্রধান ও প্যানডিফেন্স অ্যাডভাইজরির সিইও ল্যারি ব্রিলিয়ান্ট বলেছেন, যখন একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে, এটা রংধনু ও ইউনিকর্ন পাওয়ার মতো হবে না।

তিনি বলেন, যদি এক বছরের জন্য সুরক্ষা দেয় এমন একটি ভ্যাকসিন বেছে নিতে আমরা বাধ্য হই, তাহলে করোনাভাইরাস স্বাভাবিক একটি সংক্রমণ হয়ে দাঁড়াবে যা সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে। এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া বসন্তের চেয়েও কঠিন হবে। কারণ বসন্তে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ স্পষ্ট কিন্তু করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের অজান্তেই অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও