কুইক লিঙ্ক : মুজিব বর্ষ | করোনা ম্যাপ | করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

করোনা পরিস্থিতিতে কৃষি: প্রেক্ষিত কৃষি শ্রমিক ও যান্ত্রিকীকরণ

চ্যানেল আই প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২০, ১৯:২৫

আমাদের মৌলিক চাহিদাই শুধু নয় বেঁচে থাকার পাশাপাশি সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনের জন্য খাদ্য প্রয়োজন। আর এ খাদ্য উৎপাদনে নিয়োজিত আছে বাংলাদেশের কর্মে নিয়োজিত ১৫+ জনসংখ্যার প্রায় ৪০.৬ শতাংশ। জিডিপি-তে কৃষির যে ১৩.৭ শতাংশ অবদান তার অর্ধেকই আসে ধান থেকে। ধান উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ এখনও পর্যন্ত শ্রমিক নির্ভর হলেও উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যেমন, বপণ, সেচ, কীটনাশক, স্প্রে, ইত্যাদি কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। কৃষি সবসময়ই অবহেলিত জীবিকা ছিল, তাই বাংলাদেশের জন্মকাল থেকে কৃষি বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন পর্যায়ে বিভিন্ন উপকরণ যেমন সার, বীজ, সেচ এর সমস্যা ভোগ করে এসেছে, সময়ের আবর্তে সমাধানও হয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে যে সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছে তা উৎপাদন পর্যায়ে নয়, ফসল ঘরে তোলার সময় এবং সেটা হলো ধান কাটার সময়ে শ্রমিক সংকট। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনে বর্তমানে বোরো ধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১৯৭১-৭২ সালে মোট ধান উৎপাদন ছিল ৯৭.৭৬ লক্ষ মেট্রিক ট্রন যেখানে আমন ধানের অংশ ছিল সবচেয়ে বেশী (৫৮.২৭ শতাংশ) এরপর আউস (২৩.৯৭ শতাংশ) এবং বোরোর অংশ ছিল মাত্র (১৭.৭৭ শতাংশ)। ঐ সময় কৃষি জমির আবাদের পরিসংখ্যান দেখলেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায় আমন ধানের আবাদ হতো ৫৪.৭৪ লাখ হেক্টর জমিতে, আউস ৩০.০২ লাখ হেক্টর জমিতে, আর বোরো ধান মাত্র ৮.৮৪ লাখ হেক্টর জমিতে। সময়ের সংগে সংগে কৃষিতে উপকরণ সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারী নীতি-কৌশল, বেসরকারী উদ্যোগ আরো বিভিন্ন কারণে উৎপাদন বেড়েছে, খাদ্যে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এক সময় যেখানে ৭ কোটি মানুষকে খাবার সরবরাহ করতে হিমসিম খেতো হতো, এখন অবলিলায় ১৭ কোটি মানুষকে খাওয়ানোর পরও উদ্বৃত্ত থাকছে। আর এক্ষেত্রে বোরোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

২০১৮-১৯ সালে বোরো উৎপাদন ছিল ১৮.৯০৯ হাজার মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের ৫৪.১৭, ৭.১৬, ৩৮.৫৭ ভাগ এসেছে যথাক্রমে বোরো, আউস, আমন ধান থেকে। আমাদের কৃষি জমি আবাদের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় মোট জমির ৪০.৩৭, ৯.৭৩ এবং ৪৯.৯০ শতাংশ জমিতে যথাক্রমে বোরো, আউস ও আমন ধান হয়। আমাদের গড় ফলনের হার বর্তমানে ৩.০৪ মেট্রিক টন/ হেক্টর, ১৯৭১-৭২ এ যেখানে ছিল ১.০৪ মেট্রিক টন/ হেক্টর। এই গড় ফলন বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ হলো বোরো ধান। আউস, আমন ও বোরো ধানের গড় ফলন যথাক্রমে ২.৪৬, ২.৫২ এবং ৪.০৩ মেট্রিক টন/হেক্টর। এই বোরো ধান হাওড় অঞ্চলের একটি প্রধান ফসল। বাংলাদেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ সাতটি জেলায় প্রধানত আমাদের হাওড় অঞ্চলে অবস্থিত। এই সাতটি জেলার মোট চাষাবাদ হয় ১.২৬ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে এবং এর প্রায় ০.৬৮ মিলিয়ন হেক্টর হাওড় এলাকা।

এই হাওড় এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদন হয়ে থাকে, আমন ধান উৎপাদন হয়ে থাকে মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে। ২০১৮ এর পরিসংখ্যানে দেখা যায় হাওড় এলাকায় মোট ৩.৮২ মিলিয়ন মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। মোট উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ আসে এ অঞ্চল থেকে। বাকী ৮০ শতাংশ আসে হাওড় ব্যতিত অন্যান্য অঞ্চল থেকে। হাওড় এবং অন্যান্য অঞ্চলের বোরো ধান বপন ও কাটা এর সময়ে পার্থক্য আছে, বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে বপণ ও কাটা হয় না। হাওড় এলাকা সমূহের বোরো ধান বপণ হয় নভেম্বর মাসের প্রথম এবং ধান কাটা হয় এপ্রিল ও মে মাসের প্রথম দিকে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে বা জানুয়ারীর প্রথম দিকে বপণ করা হয় এবং ফসল কাটা হয় মে মাসের শেষে, কোন কোন এলাকায় জুন মাসেও বোরো ধান কাটা হয়। হাওড় এলাকায় ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটের একটা বড় কারণ হল সময় খুব কম থাকা। এ সময় পাহাড়ি ঢল নামা, আগাম বন্যা, কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। এ সব কারণে প্রাকৃতিক ঝুঁকি না নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে ধান কাটতে হয়। তাছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে শ্রমিক সংকটের যে কারণ তা হাওড় অঞ্চলেও আছে। পেশা হিসেবে কৃষিকে কখনোই উচ্চমানের মনে করে না এ সমাজ। কারণ কৃষিতে আয় কম, জলবায়ু নির্ভরতা, বাজার ঝুঁকি, ইত্যাদি বিদ্যমান।

তাই বংশানুক্রমে কৃষি পেশা থেকে অনেক পরিবারই সরে এসেছে। পরিসংখ্যান মতে ২০১০ সালে এদেশের মোট ১৫ বছরের উপরে যারা কর্মসংস্থানে আছে তাদের মধ্যে পেশা হিসেবে কৃষিতে নিয়োজিত ছিল জনসংখ্যার ৪৭.৫৬ শতাংশ যার মধ্যে পুরুষ ৫৯.১৬ শতাংশ এবং মহিলা ৪০.৮৪ শতাংশ। আর ২০১৮-তে দেখা যায় ৪০.৬ শতাংশ কৃষিতে পেশা হিসেবে নিয়োজিত এবং যার মধ্যে পুরুষ ৫৪.৯৩ শতাংশ এবং মহিলা ৪৫.০৭ শতাংশ। গ্রামীণ কৃষিতে নিয়োজিত কৃষককে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে আনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেশ কিছু বছর ধরে কৃষি বিশেষ করে খাদ্যশস্য (ধান) অলাভজনক এন্টারপ্রাইজ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে যে কারনে কৃষিতে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প পেশায় ঝুঁকছে কৃষক। পুরুষেরা গার্মেস্টস, রিক্সাচালক, আটোচালক বা ছোটখাট ব্যবসায় নিয়োজিক হচ্ছে, গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসছে। আর এ কারণেই কৃষি টিকিয়ে রাখতে মহিলা শ্রমিক অংশ্রগ্রহণ করেছে অধিক মাত্রায়। সামাজিক অবস্থার কারণে মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধান লাগাতে ও কাটতে মাঠে যেতে পারে না কিন্তু কৃষির অন্যান্য কাজগুলো তারা করে থাকে। প্রায় ক্ষেত্রেই মহিলারা ধান কাটতে মাঠে যায় না বলেই ধান কাটা মৌসুমে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। শ্রমিক সংকট ধান কাটা মৌসুমে কয়েক বছর ধরেই ধীরে ধীরে বাড়ছিল। আর এখন করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দুরত্ব মানতে হচ্ছে বলে তা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও