করোনার কাল
যে কোনো হিসেবে মানুষ একটি বিস্ময়কর প্রজাতি। তাদের ছোটোখাটো আকার এবং তাদের মাথার ভেতর দেড় কেজি থেকেও কম একটা মস্তিষ্ক। সেই মস্তিষ্কটি ব্যবহার করেই এই মানুষ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের রহস্য বের করার দুঃসাহস দেখানোর ক্ষমতা রাখে। পদার্থের অণু, পরমাণু, নিউকিয়াস চূর্ণ করে তারা তার ভেতর থেকে শক্তি বের করে আনে। তারা জীবনের রহস্য অনুসন্ধান করতে পারে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে। আকাশে-মহাকাশে বিচরণ করতে পারে। মানুষের শরীর যে অণু, পরমাণু দিয়ে তৈরি হয়েছে তার বেশির ভাগ সৃষ্টি হয়েছে কোনো একটি নক্ষত্রের ভেতর। সেই হিসেবে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ আসলে একটি নক্ষত্রের অংশ। যে মানুষ নক্ষত্রের অংশ সেই মানুষ কেমন করে নীচ হতে পারে, হীন হতে পারে? তারপরও মাঝেমধ্যেই আমরা দেখি পৃথিবীর মানুষ চরম অবিবেচকের মতো কিছু একটা করে এই পৃথিবীটাকে কলুষিত করে তোলে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ যুদ্ধবিগ্রহ পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হলে পৃথিবীর মানুষ এক রকম কিন্তু সমগ্র মানবজাতিকে একসঙ্গে দেখা হলে মাঝেমধ্যেই কি মনে হয় না—এই মানবজাতি দাম্ভিক, স্বেচ্ছাচারী, অবিবেচক এবং কখনো কখনো অচিন্তনীয় নিষ্ঠুর?