ছবি সংগৃহীত
প্রিয় গন্তব্য: কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখতে বাংলাবান্ধা
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫৩
আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫৩
আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৮:৫৩
দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: রাফসানজানি রাহি
(প্রিয়.কম): বাংলাদেশের শেষ সীমানায় রয়েছে তেঁতুলিয়া। হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত সুপ্রাচীন উপজেলা এটি এবং এই উপজেলার অধীনেই রয়েছে সম্ভাবনাময় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। তেঁতুলিয়া থেকে এখানকার দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে দূরত্ব ৫০৩ কিলামিটার।
জিরো পয়েন্টের পাশেই মহানন্দা নদী। ভারত আর বাংলাদেশকে বিভক্ত করেছে এই নদী। নদী পেরিয়ে ওপারে যাওয়া নিষেধ। নিষেধের বেড়া পেরোতে পারলেই মেঘের দেশ দার্জিলিং। তবে শুধু ভারত নয়, এখানে বাংলাদেশের সাথে সীমানার কাছাকাছি রয়েছে আরও ৩ টি দেশ- ভুটান, নেপাল এবং চীন।

শীতের কুয়াশামুক্ত সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: রাফসানজানি রাহি
আপনি জেনে পুলকিত হবেন যে, দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ড. বিজয় কুমার সিং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর অভিবাসন চেকপোস্টের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর ফলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে দ্রুত সময়ে লোকজন ভারতের শিল্পনগরী শিলিগুড়ি যেতে পারবেন। যার দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। এই স্থলবন্দর থেকে নেপালের দূরত্ব হবে ৬০ কিলোমিটার, ভুটানের দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার এবং সড়কপথে চীনের দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার।
তবে শুধু বাংলাবান্ধা এবং তেঁতুলিয়াও ভ্রমণের জন্য চমৎকার জায়গা। এখান থেকে শীতকালে স্পষ্ট ফুটে উঠে রূপালি কাঞ্চনজঙ্ঘা। অপার্থিব সুন্দর সেই দৃশ্য যে কোন ভ্রমণপিপাসুর মনকে আন্দোলিত করবে। তেঁতুলিয়ার চা বাগানেও ঘুরে আসতে পারেন আপনি। সিলেটের পাহাড়ি চা বাগান তো আমরা দেখেছি। কিন্তু সমতলেও যে চা বাগান রয়েছে এবং তাও দেখতে হয় অপূর্ব তেঁতুলিয়ায় না গেলে আপনি সেটা বুঝতে পারবেন না। সবুজের সতেজ সমারোহে হারিয়ে যেতে চাইলে ঘুরে আসুন এখান থেকে।

মহানন্দা নদী। ছবি: ড. জিনিয়া রহমান।
বাংলাবান্ধা থেকে খুব কাছে ভারতের আন্ডারগ্রাউন্ড সামরিক বিমান ঘাঁটি বাগডোগা। এখানে মহানন্দা নদীর তীরে টিলার ওপর আছে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত মনোরম একটি ডাকবাংলো, যা বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে কালের অমর সাক্ষী।
মহানন্দা নদীতে প্রচুর পাথর উৎপন্ন হয়। শুধু নদীতে নয়, সমতল ভূমি খুঁড়লে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকৃতির গুণগতমানসম্পন্ন পাথর, যা সারা দেশে পাথর চাহিদার এক বিরাট অংশ পূরণ করে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় কিছু শিল্প। যেমন চা, কমলা, মসলা, বিভিন্ন ধরনের খামার ও পাথরশিল্প। উপজেলা সদরে ঢোকার পূর্বে আপনার চোখে পড়বে সড়কের দুই ধারে পাথরের স্তূপ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মূল সড়কের দুই ধারে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কাজী অ্যান্ড কাজী টি কোম্পানি, তেঁতুলিয়া টি কোম্পানিসহ স্থানীয় ক্ষুদ্র চাষিদের চা বাগান ও এলজিইডির কমলা বাগান, স্কয়ার গ্রুপের মসলা বাগান।
পথের খোঁজ
ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী দূরপাল্লার বাসে পঞ্চগড়ে এসে নামার পর তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধাগামী লোকাল বাসে ৪৫ টাকা ভাড়া দিয়ে এক ঘণ্টায় পৌছে যাবেন তেঁতুলিয়া। এখান থেকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো কিংবা পিকনিক কর্নার ৫ টাকা রিকশা-ভ্যান ভাড়া এবং চা বাগান ও কমলা বাগান দেখার জন্য অতিরিক্ত ১৫০-২০০ টাকা যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বাসযোগে ২০ টাকা এবং সেখান থেকে জিরোপয়েন্টে বিজিবির অনুমতি সাপেক্ষে ৩০-৫০ টাকায় ভ্যান-অটোরিকশা যোগে স্থলবন্দরে যাতায়াত করা যাবে।
থাকার ব্যবস্থা
তেঁতুলিয়ায় আবাসিক কোনো হোটেল না থাকায় জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে প্রাচীন কালে নির্মিত ডাকবাংলো এবং অন্য পাশে তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার রাত যাপনের একমাত্র জায়গা। রাত যাপনের জন্য পিকনিক কর্নারে প্রতি কক্ষ ২০০ টাকা এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলো ৪০০ টাকা দিতে হবে। এসব বাংলোয় রাত যাপন করতে হলে অফিস সময়ে জেলা পরিষদ সচিব, পঞ্চগড় কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তেঁতুলিয়ার কাছে আবেদন করে কয়েক দিন আগে বুকিং নিতে হয়। এছাড়া পঞ্চগড় জেলা শহরে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
৭ ঘণ্টা, ৫১ মিনিট আগে
৯ ঘণ্টা, ৫৯ মিনিট আগে
১০ ঘণ্টা, ৪ মিনিট আগে
১০ ঘণ্টা, ৫ মিনিট আগে