ছবি সংগৃহীত
পৃথিবীতে কবিতার ইতিহাস কিন্তু তার প্রকরণের ইতিহাস: ফরিদ কবির
আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৭, ১১:৪৫
কবি ফরিদ কবির। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।
(প্রিয়.কম) ফরিদ কবির। আপাদমস্তক একজন কবিই তিনি। কবিতার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমলীলা। ‘হৃৎপিণ্ডে রক্তপাত’ নামক বই দিয়ে কাব্য ফটকে কড়া নাড়েন তিনি। বেশ সম্ভ্রম নিয়েই প্রবেশ করেন কাব্য জগতে। সে যাত্রা এখনও থামেনি। তার কবিতা বাংলা সাহিত্যকে আলোকিত করে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরেই। গত বইমেলায় তার প্রকাশিত দুটি বই মিলিয়ে এ যাবত তার বইয়ের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ এ। এর মধ্যে রয়েছে প্রবন্ধ, কবিতা, অনুবাদ ও সম্পাদনাও। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাব্যগ্রন্থ ‘ওড়ে ঘুম ওড়ে গাঙচিল’, ‘অনন্ত দরজা গুচ্ছ’, ‘মন্ত্র, ওঁ প্রকৃতি ওঁ প্রেম’ ইত্যাদি। তার কাব্যিক জীবনের উপর অপার কৌতূহল নিয়ে বসন্তের এক সকালে প্রিয়.কম মুখোমুখি হয়েছিল তার। গতানুগতিক ধারার বাইরের কিছু প্রশ্ন-উত্তর ও আলোচনায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল কবির সঙ্গে প্রিয়.কমের আড্ডা।
প্রিয়.কম: কেমন আছেন?
ফরিদ কবির: ভালো আছি। ধন্যবাদ।
প্রিয়.কম: আপনার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন- কবি কাকে বলে? অর্থাৎ, কবি কে? একজন কবিকে চেনার উপায় কী?
ফরিদ কবির: শুরুতেই ভালো প্রশ্ন। কবিকে চিনতে হবে কিন্তু কবিতা দিয়েই। যেমন ভালো ডাক্তারকে আমরা চিনি- যখন একজন ডাক্তার কন্টিনিউয়াসলি ভালো চিকিৎসা করতে থাকে এবং একটা সময় আমরা বুঝতে পারি যে এ ডাক্তারের কাছে গেলে আমার রোগ সেরে উঠবে। কবিতার ক্ষেত্রে বা সাহিত্যের ক্ষেত্রে একজন কবিকে প্রমাণ করতে হয় যে সে একজন কবি। এ প্রমাণটি আমরা কীভাবে পাব? এ প্রমাণটি পাব যে কন্টিনিউয়াসলি কবিতা লিখতে জানে এবং নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, এর মাধ্যমে। কবিতা কিন্তু শুধু এটিই নয় যে আমার মাথায় কিছু ভাব আসলো আর আমি সেটি কবিতার মধ্যে দিয়ে লিখে দিলাম। পৃথিবীতে কবিতার ইতিহাস কিন্তু তার প্রকরণের ইতিহাস। আমরা যে রবীন্দ্রনাথের নাম বলি কিংবা আমরা যে মধুসূদনের নাম বলি কিংবা আমরা যে জীবনানন্দ দাশের নাম বলি কিংবা আমরা যে শামসুর রাহমানের নাম বলি, বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু নাম যে আমরা বলি, সেই কবিকে আমরা কীভাবে চিহ্নিত করি? আমরা চিহ্নিত করি যে তারা তাদের সময়ের সেরা কবি। কিন্তু এ সেরাটি কীভাবে হয়ে ওঠেন? এ সেরাটি হয়ে ওঠেন তারা তাদের কবিতা দিয়ে। কবিতার মধ্যে তাদের যে ব্যাপক নিরীক্ষা ছিল, সে নিরীক্ষাগুলো তাকে তার নিজের কবিতা লিখতে বাধ্য করে। অর্থাৎ একজন কবি কিন্তু তার নিজের কবিতা লিখেন নিজের মতো করে, যে কবিতাটি ঠিক অন্যান্যদের মতো না। এই অন্যদের মতো না যখন হতে পারেন তখন আমরা বলি যে তিনি কবি। বাকীদের কিন্তু আমরা সেভাবে চিহ্নিত করি না। জীবনানন্দ দাশ যে কারণে বলেছেন যে- সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি-এ কথাটি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা। গুরুত্বপূর্ণ কেন- যিনি কবিতা লিখতে শুরু করেছেন, তিনি কবি নন। কারণ মানবসত্ত্বার মধ্যেই কবিতা আছে, জেনেটিক্যালিই আছে। কারণ তার মধ্যে যে চিন্তা, তার মধ্যে যে কল্পনা, তার মধ্যে যে ভাবনা থাকে- যেগুলো দিয়ে সে লিখবে কবিতাটি, কেউ কেউ কবিকে সেগুলো দিয়ে চিহ্নিত করে, কেউ কেউ তা অন্যান্য ফর্মে করে। কবিতার প্রকরণ জানতে হবে আসলে। প্রকরণ হচ্ছে ভাষা এবং ছন্দ। একটি কবিতা তখনই কবিতা হয়ে ওঠে যখন উপযুক্ত প্রকরণ প্রয়োগ করা হয়। সব কিছুরই একটি নির্দিষ্ট প্রকরণ এবং প্রকৌশল আছে, সেই প্রকরণ ও প্রকৌশল যতক্ষণ আমরা কবিতায় না দেখব, ততক্ষণ সেটিকে আমরা কবিতা বলব না। এটি যারা করতে পারেন, তারাই কবি।
প্রিয়.কম: আপনি দীর্ঘদিন যাবত কবিতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আমার দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে- কেউ কি চর্চার মাধ্যমে কবি হয়ে উঠতে পারে? নাকি এটি নিতান্তই প্রকৃতি প্রদত্ত বিষয়?
ফরিদ কবির: না, প্রকৃতি প্রদত্ত কোনো ব্যাপার না। মানুষের মধ্যে যে ভাবনা, মানুষের মধ্যে যে কল্পনা এটি সহজাত ভাবনা। কেউ লিখতে শুরু করে, কেউ লিখে না। কিন্তু যিনি লিখছেন না তার মধ্যে যে কবিতা নেই তা নয় কিন্তু। তার মধ্যেও আছে। কোনো কোনো মানুষ কবিতা না লিখলেও কিন্তু সে কবিতার কাছে যায়। কবিতা, গল্প, উপন্যাস পাঠ করে। এই যে যায়, কেন যায়? কারণ সে তার ভাবনার সঙ্গে কবিতার ভাবনা মিলিয়ে দেখে। আমরা যেসব কবিতা পাঠ করি এর মধ্যে কোনো কোনো কবিতা আমাদের নিজেদের সেই কবিতার সঙ্গে কানেক্ট করে, আমাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। এই সংযোগ ঘটানোই সেই কবিতার সার্থকতা। কবি হয়ে ওঠা সম্ভব, তবে সেটি একটি কন্টিনিউয়াস চর্চার মাধ্যমে। এই চর্চা কবিতা বিষয়ক চর্চা, এই চর্চা জীবন বিষয়ক চর্চা। দুটো চর্চা একসঙ্গে করতে হবে। এরপর হচ্ছে মানুষ হয়ে ওঠার চর্চা। এবার মানুষ হয়ে ওঠার চর্চা এবং জীবনের চর্চা- সেটি কীভাবে করা যায়? কেউ যদি শুধু কেবল কবিতা বিষয়ক জ্ঞানটিই রাখে, তাহলে কিন্তু হবে না। হবে না কারণ, যে বইগুলো সে পড়ল এবং তার জীবনের যে অভিজ্ঞতা- এ সবগুলো মিলিয়ে কিন্তু তার একটি প্রজ্ঞার জায়গা তৈরি হয়। এই প্রজ্ঞার জায়গায় না গেলে তার কবিতাও সেই জায়গায় পৌঁছুবে না, যে মোক্ষম কথাটি সে বলতে চায়, যে চিন্তার কথা সে বলতে চায়, যে দর্শনের জায়গাটা সে বলতে চায়। শেষমেশ বলা যায়- কবিতা লিখতে পারাটা আসলে প্রকৃতি প্রদত্ত কোনো বিষয় নয়, এটি চর্চার বিষয়।

প্রিয়.কম: কবিতার পাঠক হতে হলে কবিতা সম্পর্কে সম্যক কিছু ধারণা রাখতে হয়। অর্থাৎ, কবিতা সবার জন্য নয়- এ কথাটির সঙ্গে আপনি কি একমত? এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
ফরিদ কবির: তা তো বটেই। কবিতা সবার জন্য তো নয়ই। এজন্য নয়, কারণ- পাঠক হয়ে উঠতে গেলেও তো তাকে কবিতাটি পড়তে হবে। একজন পাঠক কবিতা বুঝবেন কীভাবে? কবিতার একটি নিজস্ব ভাষা আছে। কবিতার ভাষা কিন্তু সাধারণ ভাষার মতো না। অর্থাৎ, কবিতাকে সাধারণ বাক্য ছাড়িয়ে যেতে হয়। যেমন ধরুন- ‘শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা আসে’ এ সন্ধ্যা কিন্তু আর সাধারণ সন্ধ্যার মতো না। এই যে শিশিরের শব্দের সঙ্গে যে সন্ধ্যার সংযোগ, অর্থাৎ এ দুটো যখন একসঙ্গে হয়ে ওঠে, তখন তা কবিতা হয়ে ওঠে। কাজেই এই শিশির, এই শব্দ এবং এই সন্ধ্যা- এ তিনটি আলাদা আলাদা জায়গার শব্দ যুক্ত হয়ে যখন নতুন একটি বাক্য তৈরি করে, সেই বাক্যটি কিন্তু তখন আর সাধারণ বাক্য থাকে না। সেই বাক্যের অনেক অর্থ তৈরি হয়ে যায়। তাই পাঠককে কবিতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। সাধারণ বাক্যের সঙ্গে কবিতার বাক্যের পার্থক্য রয়েছে। এ পার্থক্য যখন কোনো পাঠক বুঝতে পারবে না, তখন সে আর কবিতার পাঠক হয়ে উঠতে পারবে না।
প্রিয়.কম: একটি কবিতাকে কবিতা হয়ে উঠতে হলে তাতে কি কি উপাদান থাকতে হবে? মানে কি কি উপাত্ত থাকলে আমরা তাকে কবিতা বলতে পারব?
ফরিদ কবির: এটা কিন্তু বলা মুশকিল যে কবিতাকে ঠিক কীভাবে চিহ্নিত করব। এটা ঠিক এরকম নয় যে আমি একটি গাছকে দেখে চিহ্নিত করলাম যে এটি একটি গাছ। গাছের সঙ্গে একটি টেবিলের তফাৎ আছে, একটি গঠন গত তফাৎ আছে। কবিতাকে আপাত দৃষ্টিতে চিহ্নিত করা মুশকিল, কারণ কবিতায় ফাঁকিবাজি করার অনেক সুযোগ আছে। কারণ, এমনভাবে কিছু লাইন লেখা যেতে পারে যেটাকে আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এটি একটি কবিতা। কবিতার একটি স্মরণ যোগ্যতা থাকতে হবে। কবিতাকে কোনো না কোনোভাবে গুঞ্জরিত হতে হবে। কোনো না কোনোভাবে তার অনুরণন থাকতে হবে। যখন সেটা থাকে। তখন বুঝতে হবে সেটি কবিতা। যতক্ষণ না সে অনুরণন থাকে, যতক্ষণ না সেটা বেজে উঠছে, রবীন্দ্রনাথ একটি কথা বলেছে- ‘কবিতা বুঝবার না, হৃদয়ে বাজবার জিনিস।’ তার মানে হচ্ছে কবিতা বুঝবার কোনো ব্যাপারই না, হৃদয়ে বাজবার বিষয়। এই বেজে ওঠাই হচ্ছে আসল। যদি না বাজে তাহলে বুঝতে হবে এটি কবিতা নয়। এটিই হচ্ছে কবিতা চিনবার উপায়। মানে পাঠক কবিতা পড়ে ওঠার পরও ঐ বাজনা ও গুঞ্জরণ তার ভেতর চলতে থাকতে হবে এবং ওটার রেষটাও অনেকক্ষণ থাকবে মাথায়।
প্রিয়.কম: ‘আমি আমার জন্য লিখি’ এবং আমি ‘মানুষের জন্য লিখি’- এ দুটি বাক্যের মধ্যে কোনটিকে আপনি সমর্থন করেন? মানে এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
ফরিদ কবির: একজন কবি দু’জনের জন্যই লেখেন। সে প্রথমে তার নিজের জন্য লেখে, তারপর সে তার লেখা মানুষের সঙ্গে শেয়ার করতে চায়। একজন কবি নিজের জন্য লিখে কিন্তু নিজের জন্য লিখে সেতো বালিশের নিচে চাপা দিয়ে রাখে না, সে পাঠকের কাছে যেতে চায়, প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। ফলে এক অর্থে তিনি মানুষের জন্যও লিখেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কবি যখন ফাঁদে পা দেয়, অর্থাৎ- মানুষের জন্য লিখতে গিয়ে মানুষ যে রকম পছন্দ করে সে রকম করে লেখে। কিন্তু এই ফাঁদে পড়ে নিজের সৃজনশীলতার জায়গাটা বোঝাতে পারে না। প্রতিটি মানুষেরই জীবনকে দেখা ও বর্ণনা করার একটি নিজস্ব জায়গা থাকে। কেউ মনে করে- আমি আমার মতো করে লিখব, এবার ভাই তুমি পড়ে দেখ। যদি মনে হয়- এ বই তোমার, তাহলে তোমার। তুমি যদি মনে কর এ বই তোমার না, তাহলে তোমার না। কবিতার ক্ষেত্রেও সেটা প্রযোজ্য যে- কিছু কবিতা সকলের জন্য না। আসলে আমরা যত কবি দেখি, সকল কবিকে কবিদের কবি হয়ে উঠতে হয়। অর্থাৎ, তার মধ্যে অনেক কিছুর সমাবেশ থাকতে হয়। মানুষের কবি কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ থাকে না। অনেকে বলে থাকে- মানুষ যদি আপনার কবিতা না নেয়, তাহলে কবিতা লিখে লাভ কী! এখানে আমার উত্তর হচ্ছে- মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কবিতা গ্রহণ করে না, যে কবিতা পড়ে সে ভাবে- এমন একটি কবিতা সেও লিখতে পারবে। মানুষ কোন কবিকে গ্রহণ করতে পারে? যে কবির মধ্যে সে একজন অতিমানবকে দেখতে পায়। মানুষ সেই কবিতাকেই উঁচু মানের কবিতা মনে করে- যে কবিতা পড়ে সে ভাবে যে- এমন কবিতা সে নিজে লিখতে পারবে না। আপনি যখন মানুষের জন্য লিখবেন, আপনি যদি মানুষের জন্য উপযুক্ত করে লিখবেন- সেটা মানুষ সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করবে কিন্তু পরবর্তীতে আর সেটা মনে রাখবে না। মানুষের উপযোগী করে লিখতে গেলে আপনাকে অনেক ছাড় দিতে হবে। ফলে আপনি কিন্তু তখন নিজের মতো করে লেখা- সেটা আর পারবেন না। কবি হিসেবে তারাই টিকে থাকে যারা নিজস্ব ঘরানা তৈরি করতে পারে।

প্রিয়.কম: এবার কবিতার ছন্দ বিষয়ক প্রশ্ন। কবিতার জন্য ছন্দের আবশ্যিকতা কতটুকু বলে মনে করেন আপনি?
ফরিদ কবির: গানের জন্য সুরের আবশ্যিকতা কতটুকু? কেউ যদি বলে যে- না সুরের দরকার নেই, তাহলে তো সেটা গান হবে না। যে কবিতায় ছন্দ নেই, সে কবিতা কিছুতেই কবিতা নয়। তবে একটু ব্যাখ্যা করি, অনেকেই মনে করতে পারে- ছন্দ জিনিসটা কী? আজকাল অনেকে বলে- আমি ছন্দে লিখি না, আমি গদ্যে লিখি। ওরা বলতে চায়- ছন্দটা এক দিকে আর গদ্যটা আরেকদিকে। আসলে গদ্য বলে কিছু নেই, ওটা হচ্ছে গদ্য ছন্দ। ওটাও ছন্দ। ওটা ছন্দেরই আরেকটি পার্ট। অন্যান্য ছন্দের মতো গদ্য ছন্দও একটি ছন্দ। এটি অন্য সব ছন্দকে ভেঙে চুড়ে একটি নতুন ছন্দ। গদ্য ছন্দের মধ্যেও একটি সুর আছে। গদ্য ছন্দের কবিতার মধ্যে ধ্বনি পরম্পরা, বলার মধ্যে সুর আছে। যে সেটা বুঝতে পারে না, তার কবিতার বাক্য এলোমেলো হয়। এবং সেটি জটিল হয়ে যায়, ওটার মধ্যে কোনো সুর থাকে না। প্রথমে ছন্দ জেনে তারপর ছন্দ ভাঙতে যেতে হবে। যে ছন্দ জানে না, সে ছন্দ ভাঙতে জানে না। কিন্তু এখন অনেকেই উল্টো কাজ করছে। ছন্দ না জেনে ছন্দ ভাঙে। ছন্দ নিয়েই কিন্তু কবিতার জন্ম হয়। যে ছন্দ জানে না, তার সকল কবিতাই কিন্তু একই রকম হয়ে যাবে। ছন্দ না জেনে কবিতার শীর্ষে যাওয়া মোটেও সম্ভব না। কারো পক্ষে সম্ভব না।
প্রিয়.কম: আপনি যখন কবিতায় এলেন তখন, আর বর্তমান দশকের কবিতার মধ্যে কোনো পার্থক্য তৈরি হয়েছে কি? যদি হয়ে থাকে, সেটি ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক?
ফরিদ কবির: সব সময় মন্দটা থাকেই। একই সঙ্গে ভালোটাও থাকে। এটা কিন্তু বলা মুশকিল যে অধিকাংশই মন্দের দিকে যায়, কিছু লোক ভালোর দিকে থাকে। ভালোর দিকে যারা থাকে তারা মন্দ দিকে থাকাদের ভালোর দিকে টানতে থাকে। আমাদের সাহিত্য এখনও ভালোর দিকেই আছে। এখনও কেউ কেউ সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই কবিতা লিখতে নেমেছে। তারা অনেক কিছুই জানেন, তাদের প্রচুর পাঠ আছে। লিখছে অনেকেই কিন্তু স্বতন্ত্র সিগনেচার তৈরি হচ্ছে না।
প্রিয়.কম: আমার শেষ প্রশ্ন- কবিদের দলাদলি তথা সিন্ডিকেট তৈরি করা, এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
ফরিদ কবির: দলাদলি এখনও আছে, আগেও ছিল। আমাদের আগে ছিল, আমাদের সময় ছিল, আমাদের পরেও আসবে, তারপরেও থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কবি একা। তার কোনো দল নেই। দল করে কখনও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। দল করে শিল্প সাহিত্যের কোনো কাজ হবে না। লেখা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। দল করে কিছু হবে না। উপযুক্ত লেখা ছাড়া কারো পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব না।
প্রিয়.কম: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে কবি। আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। চৈত্রের শুভেচ্ছা জানবেন।
ফরিদ কবির: আপনাকেও ধন্যবাদ। ধন্যবাদ প্রিয়.কমকে।
সম্পাদনা: গোরা