ছবি সংগৃহীত
প্রিয় গন্তব্য: ঘুরে আসুন ঐতিহ্যবাহী ষাট গম্বুজ মসজিদ
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০১:৪০
ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: প্রিয়.কম
(প্রিয়.কম): ষাট গম্বুজ মসজিদ অতি সুপরিচিত একটি মসজিদ যা আমাদের দেশের একটি অন্যতম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। মসজিদটি ষাট টি ছোট বড় গম্বুজ বা ডোম আকৃতির ছাদের জন্য বিখ্যাত এবং এটির নামকরণও এখান থেকেই হয়েছে। এই মসজিদটির আছে বিশাল ঐতিহ্য এবং অনেক সমৃদ্ধ ইতিহাস।
কোথায়: খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলায় এই মসজিদটি অবস্থিত। ১৫শ শতকে তুর্কি সেনাপতি খান-ই-জাহান এই শহরটা স্থাপন করেন। বেশ অনেক গুলো মুসলিম স্থাপনা রয়েছে এই শহরটায়, তার মাঝে ষাট গম্বুজ মসজিদ বেশি পরিচিতি লাভ করেছে।
বাগেরহাট জেলায় ঠাকুর দিঘি নামে পরিচিত একটি মিঠা পানির পুকুরের পাশে এই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। এটাকে বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদের একটা বলে গণ্য করা হয়। ইতিহাসের পাতায় একে বর্ণনা করা হয়েছে “ঐতিহাসিক মসজিদ যা মুসলিম বাংলার স্বর্ণযুগের প্রতিনিধিত্ব করে”।
মসজিদটিতে ৬০ টি পিলার আছে যা ৭৭ টি গম্বুজ ধারণ করে। সে থেকেই এটার নামকরণ হয়েছে। খান জাহান আলি ১৪৪০ সালে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রার্থনা, সম্মেলন কেন্দ্র এবং মাদ্রাসা (ইসলামিক বিদ্যালয়) হিসেবে ব্যবহার হত। ৭৭টি গম্বুজ ছাদের উপর অবস্থিত এবং চারটি ছোট গম্বুজ মসজিদের চার কোণার মিনারে তথা টাওয়ারে অবস্থিত। মসজিদের পূর্ব দেয়ালে ১১টি বিরাট আকারের খিলান যুক্ত দরজা আছে। মাঝের দরজাটি অন্যগুলোর চেয়ে বড়। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে আছে ৭টি করে দরজা। মসজিদের চার কোণায় ৪টি মিনার আছে। এগুলোর নকশা গোলাকার এবং এরা উপরের দিকে সরু হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে টালি ইট, চুন-সুরকি, টেরাকোটা মাটির ফলক।
কিভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাগেরহাটে বাসে যাওয়ার দুইটি ভিন্ন রুট রয়েছে। একটি হচ্ছে ঢাকার গাবতলি হয়ে -আরিচা ফেরি পারাপার হয়ে খুলনা বাগেরহাট। আর অন্যটি গুলিস্তান / সায়দাবাদ হয়ে মাওয়া ফেরি / লঞ্চ পারাপার হয়ে বাগেরহাট। গুলিস্তান থেকে ছাড়ে দোলা পরিবহন। মাওয়া হয়ে সরাসরি বাগেরহাট বাস স্ট্যান্ড। ভাড়া ৩৭০ টাকা মত। সায়দাবাদ থেকে ছাড়ে ফাল্গুনী পরিবহন। ভাড়া ৪০০ টাকার মত। গাবতলি থেকে ছাড়ে সাকুরা পরিবহন ও দিগন্ত পরিবহন। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা।
বিখ্যাত খাবার: নারকেল দিয়ে বিভিন্ন সুস্বাদু তরকারী প্রস্তুত হয় বাগেরহাটে, সেগুলো স্বাদের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া বাগেরহাট চিংড়ীর জন্যও বিখ্যাত। বিভিন্ন চিংড়ীর রেসিপি পাওয়া যাবে খাবার জন্য।
ষাট গম্বুজ মসজিদ ছাড়াও বাগেরহাটে আরও বেশ কিছু মসজিদ যেমন নয় গম্বুজ মসজিদ, সিংগড়া মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজার, বাগেরহাট জাদুঘর ইত্যাদিও মনোযোগের দাবিদার।
সম্পাদনা: প্রিয় ট্রাভেল/ ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।