ছবি সংগৃহীত
প্রিয় গন্তব্য: মীরসরাইয়ের নাপিত্তাছড়া ট্রেইল
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০১৭, ০৮:৪৬
আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৭, ০৮:৪৬
আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৭, ০৮:৪৬
বান্দরকুম ঝর্ণা। ভরা বর্ষায় গেলে দেখা পাবেন আরও উত্তাল রূপের। ছবি: সিয়াম আনোয়ার।
(প্রিয়.কম): বর্ষা যে প্রায় আসি আসি করছে এটা নতুন কোন কথা নয়। বাইরে তাকালেই বেশ বোঝা যায় আজকাল। আর এখনই সেরা সময় আশে পাশের ঝর্ণাগুলো ঘুরে আসার। নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এমন একটা পথ যাতে আপনি পাবেন একটা নয়, দুটো নয়, তিনটা আলাদা ঝর্না এবং ঝিরিপথ, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ওঠার সুযোগ, প্রাকৃতিক ছোট্ট পুল এ ডুব দেয়ার সুযোগ।
কোথায়: চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার নয়দুয়ারিতে এই নাপিত্তাছড়া ট্রেইল।

প্রথমেই পড়বে কুপিকাটাকুম। ছবি: সিয়াম আনোয়ার।
কীভাবে: ঢাকার সায়দাবাদ থেকে চট্টগ্রাম-গামী গাড়ি নিয়ে সহজেই চলে যাওয়া যায় এই জায়গায়। গাড়ির সুপারভাইজারকে বলতে হবে নয়দুয়ারি নাপিত্তাছড়া যাবার পথে নামিয়ে দিতে। টিকিট গাড়ি ভেদে ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা নিতে পারে। নয়দুয়ারি নামলে সিএনজি দিয়ে ভেতর পর্যন্ত যাওয়া যাবে। এর পরে প্রায় কিলোমিটার খানিক রাস্তা হাঁটতে হবে। ঝর্ণায় পৌঁছোবার জন্য আপনি স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিতে পারেন। ৩০০ থেকে শুরু করে ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে তার খরচ। মূল সড়কে নামলেই অনেকেই গাইড হতে চাইবে, দরাদরি করে খরচ এবং শর্ত ঠিক করে নিন।

যাত্রাপথে ক্যাসকেড। ছবি: সিয়াম আনোয়ার।
কী দেখবেন: ঝর্ণা তো আছেই তিনটা, কিন্তু নাপিত্তাছড়া ট্রেইলটাও কম মজার নয়। ঝিরিপথে হেঁটে যাওয়া, ঠাণ্ডা পানিতে পা ভিজিয়ে হেঁটে যেতে একদমই ক্লান্তি বোঝা যাবে না। হাতে একটা বাঁশের লাঠি থাকলে হাঁটতে কষ্ট কম হবে এবং বিশেষ করে উঁচু জায়গায় ওঠার সময় এটা অনেক কাজ আসবে। ঝিরিপথে আছে উঁচু নিচু নানা রকম পাথর, কোথাও আছে গর্ত। কোন কোন পাথর আছে হয়ত আলগা। পা দেবার আগে তাই একটু সাবধানে বুঝে নিতে হবে। প্রথমেই পাবেন কুপিকাটাকুম, সেটাতে ওঠার পথটুকু হবে চ্যালেঞ্জময়। তবে উঠতে পারলে পেয়ে যাবেন একটি ছোট প্রাকৃতিক পুকুর এর মত। সাঁতার জানা থাকলে তাতে একটা ডুব দিয়ে আসতেই পারেন। এর পরেই আছে বেশ খাড়া একটি পাহাড়ি ঢাল। সাবধানে উঠে এগিয়ে যেতে থাকলে পেয়ে যাবেন বাঘবিয়ানি, এটা আবার মিঠাছড়ি নামেও পরিচিত। সেটা দেখা শেষে একটু পিছিয়ে একটু ডানে গেলে পাবেন বান্দরকুম।

বাঘবিয়ানি। ছবি: সিয়াম আনোয়ার।
সাবধানতা: বর্ষায় এসব এলাকা একটু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বিশেষ করে পিছলে যাবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। তাই ভাল গ্রিপের জুতা পড়ে যাওয়াটা নিরাপদ হবে। সাথে বাড়তি এক দুই সেটা জামা কাপড় সাথে নেয়া ভাল হবে।বর্ষা কালে বৃষ্টি যে কোন সময়ই হতে পারে, তাই কয়েকটা প্লাস্টিকের ব্যাগ সাথে থাকলে কাজে দেবে।
এই এলাকায় ট্যুরিজম সেভাবে গড়ে ওঠেনি, তাই ভাল থাকার জায়গা নেই তেমন একটা। চাইলে এক দেড় ঘণ্টায় বাসে করে সহজেই চট্টগ্রাম শহরে চলে যেতে পারেন যেখানে রাতে থাকার জন্য প্রচুর ভালো হোটেল আছে। সেটা তুলনামূলক নিরাপদও হবে।
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।
১ ঘণ্টা, ১৫ মিনিট আগে
২ ঘণ্টা, ২ মিনিট আগে
৩ ঘণ্টা, ১১ মিনিট আগে
৪ ঘণ্টা, ৩৫ মিনিট আগে