ছবি সংগৃহীত

ইসলামি ম্যাগাজিন সর্বস্তরে পৌঁছানো উচিত: মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৫:১৯
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০৫:১৯

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী। ছবি : সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী- বাংলাদেশে সর্বপ্রথম নারী বিষয়ক ও বহুল প্রচলিত ইসলামি ম্যাগাজিন আর্দশ নারীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তিনি। ইসলামি পত্রিকাগুলোর মধ্যে বর্তমানে ‘আদর্শ নারী’র প্রচার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মুফতি শামসাবাদী প্রায় দেড় যুগ আগে পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমান সময়ে মিডিয়াতে একটিভ আলেম-উলামাদের মাঝে বিশেষভাবে তার নামটি স্মরণীয়। তার পিতার নাম আবদুল আউয়াল মিয়া এবং মাতার নাম জীবন নেসা।

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদীর জন্ম ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ সালে। তিনি জামেয়া আহলিয়া মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী থেকে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেছেন এবং ইফতা (ইসলামি আইন শাস্ত্র) পড়েছেন জামেয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর, ঢাকায়। এর পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষার বিভিন্ন স্তরও সম্পন্ন করেছেন মুফতি শামসাবাদী। ঢাকার সাভারস্থ একটি আলিয়া মাদরাসা থেকে দাখিল, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। 

অনুমানিক ১৯৯৭ সালে মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদীর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। লেখার বিষয় ছিলো সমাজ সংস্কারে যুব সমাজের ভূমিকা। তার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম ‘জান্নাতের মালা’। এছাড়া প্রকাশিত হয়েছে ‘নিবেদিত প্রাণ আসহাবে কাহাফ’, ‘মিষ্টার মওদুদীর নতুন ইসলাম’, ‘অভিযোগের জওয়াব প্রসঙ্গে’, ‘মেঘনার কালো গ্রাস’ ও ‘ডাক্তার জাকির নায়েক একটি ফিতনা’ নামের বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো গ্রন্থ। 

প্রিয়.কম : আপনি কেন আদর্শ নারী পত্রিকা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন?

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী : আদর্শ নারী করার আগে আমি একটি জরিপ করে দেখেছি যে, পুরুষদের জন্য তখন বিভিন্ন ইসলামি ম্যাগাজিন রয়েছে কিন্তু নারীদের জন্য কোনো ইসলামি ম্যাগাজিন নেই। এই শূন্যতাটাকে পূরণ করা এবং নারী জাতিকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আদর্শ নারী ম্যাগাজিনের প্রকাশনা শুরু করেছি।

প্রিয়.কম : একজন আলেম হয়েও মিডিয়ায় এলেন কেন?

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী : আলেমদেরই তো মিডিয়াতে আসা উচিত। কারণ আলেমরা নবি-রাসুলদের উত্তরসূরী। প্রত্যেকজন নবি-রাসুল সম্প্রদায়ের কাছে দীনের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন এবং সবাই কোনো না কোনো মিডিয়া অবলম্বনে সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে সে দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং ইসলামের দাওয়াত জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত হওয়ার জন্য আলেম-উলামাদের মিডিয়াতে আসা জরুরি। আমার মাঝে এই অনুভূতি সৃষ্টি হওয়াতে আমি মিডিয়াতে কাজ করতে নিয়োজিত হয়েছি।

আদর্শ নারী ম্যাগাজিনের কয়েকটি প্রচ্ছদ। ছবি : সংগৃহীত

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত থাকলেও সম্পাদনা এবং লেখালেখিতে নিমগ্ন থাকতে বেশি পছন্দ করেন। বর্তমানে তিনি মাসিক আদর্শ নারীর সম্পাদক, সাদরাসা খাতুনে জান্নাত (রা.)-এর মুহতামিম, বাংলাদেশ নূরানী তালীমুল কুরআন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, ইসলামি পত্রিকা পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি, জাতীয় ইমাম ও উলামা পরিষদের মহাসচিব এবং আল হেদায়েত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া একসময় মাসিক হক পয়গাম ও মাসিক রাহমানী পয়গামের সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

প্রিয়.কম : ইসলাম ও মিডিয়ার মাঝে সম্পর্ক বিষয়ে কিছু বলুন।

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী : মিডিয়া দীন ইসলাম প্রচারের একটি মাধ্যম। ইসলাম ও মিডিয়া একটি অন্যটির সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। তবে মিডিয়ারও ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। আলেম-উলামাদের উচিত মিডিয়াকে ভালো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।

প্রিয়.কম : করতে চেয়েছেন বা করার স্বপ্ন দেখেছেন কিন্তু করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি এমন কোনো কিছু কী আপনার জীবনে রয়েছে?

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী : আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন আমি তাতে শতভাগ খুশি-সন্তুষ্ট। আমার জীবনে আমি যা করতে চেয়েছি, আল্লাহ মহানের সহযোগিতা পেয়ে ধন্য হয়েছি।

প্রিয়.কম : বর্তমান সময়ের ইসলামি ম্যাগাজিনগুলো কেমন হচ্ছে এবং কেমন হলে ভালো হয়?

মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী : আলহামদুলিল্লাহ বর্তমানে বেশ কিছু ইসলামি ম্যাগাজিন হচ্ছে। যে যার স্থান থেকে ভালো কাজ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার কাছে একটি শূন্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর সেটা হলো- সাধারণ ম্যাগাজিনগুলোর মতো ইসলামি ম্যাগাজিনগুলো সর্বত্র পাওয়া যায় না। তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত না। বাংলাদেশের প্রতিটি পত্রিকার দোকানে, বইয়ের দোকানে ইসলামি ম্যাগাজিনগুলো পাওয়া এবং পৌঁছানোর ব্যাপারে ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষের আরো সচেতন হওয়া উচিত এবং এই খেদমতে আরো বেশি আলেম-উলামাদের সংযুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী