ছবি সংগৃহীত

পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল দশটি লেক (পর্ব ১)

খন্দকার ইশতিয়াক মাহমুদ
লেখক
প্রকাশিত: ১৪ মে ২০১৭, ২০:৩১
আপডেট: ১৪ মে ২০১৭, ২০:৩১

গ্রীস্মকালে গ্রেট স্লাভ লেকে মাছ ধরার উৎসব হতে থাকে যেন! ছবি: সংগৃহীত।
 
(প্রিয়.কম): লেক বা হ্রদ বলতে বিশাল আকারের জলাশয় বোঝানো হয়, যেগুলোর চারপাশে ভূমি থাকে। অর্থাৎ এগুলো সাগর নয়, মূল-ভূখণ্ডের ভেতরে বিশাল আকারের জলাশয়। পৃথিবীতে রয়েছে হাজারে হাজারে লেক, বাংলাদেশেও রয়েছে অনেক গুলো। এর মাঝে কাপ্তাই লেক জনপ্রিয়, তবে কাপ্তাই লেক কৃত্রিম ভাবে বানানো লেক। যাইহোক, বাংলাদেশের লেকগুলো নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে কথা বলব, আজ আমরা ধারাবাহিকভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল দশটি লেকের বিষয়ে জানব।
 
আমরা শুরু করব উল্টোদিক থেকে, অর্থাৎ সবচেয়ে বড় দশটি লেকগুলোর যে তালিকা আছে, সেটার দশ নম্বর থেকে শুরু করে আমরা কাউন্ট ডাউন করে এক নম্বরে যাব ধীরে ধীরে।
 
আসুন তাহলে, শুরু করা যাক।
 
গ্রেট স্লাভ লেক: পৃথিবীর দশম বৃহত্তম লেক এটি। এটা শুধু দশম বৃহত্তমই নয়, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের গভীরতম লেকও বটে। লম্বায় ৪৮০ কিলোমিটার এবং চওড়ায় বিভিন্ন স্থানে ১৯ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ১০৯ কিলোমিটার। এর পুরো সার্ফেস এরিয়া হল ২৮,৯৩০ স্কয়ার কিলোমিটার। বিশাল আকৃতির এই লেকটির গভীরতা ৬১৪ মিটার, যা প্রায় দু-হাজার ফুট বলা যায়।
 
গ্রীস্মকালে গ্রেট স্লাভ লেক। ছবি: সংগৃহীত।
 
এই লেকের পানির মূল উৎস হল হে রিভার, এছাড়াও বৃষ্টির পানিও কিছু অবদান রাখে। এর পশ্চিম প্রান্ত থেকে বের হয়ে যাওয়া পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছে আরও একটি নদী, যেটার নাম হল ম্যাকেঞ্জি রিভার। এই ম্যাকেঞ্জি রিভারও দৈর্ঘ্যের দিক থেকে কম যায় না, লেক স্লাভ থেকে সৃষ্টি হয়ে এই নদী বয়ে গেছে ৪২৪১ কিলোমিটার।
 
কানাডায় অবস্থিত হবার কারণে এই লেকটি অত্যন্ত ঠাণ্ডা। বছরের আট মাসই বরফ থাকে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বরফ জমতে শুরু করে, এর পরে মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ বরফ সবচেয়ে পুরু হয়। এভাবে চলতে থাকে কয়েকমাস। পাঁচ ছয় ফিট পুরু বরফ জমা হয়, তখন এর উপর দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয়। এর পরে জুন এর শুরুতে বরফ গলতে শুরু করে এবং জুলাই এর শেষ নাগাদ মানুষজন লেকে সাঁতার কাটতে, নৌকা নিয়ে ঘুরতে যায়।
 
আবিষ্কার: ইউরোপিয়ান এক্সপ্লোরার স্যামুয়েল হার্নে ১৭৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই লেকটা আবিষ্কার করেন। তার জার্নালে উল্লেখ পাওয়া যায়, তিনি কানাডার গভীরে যাবার সময় এই লেকটার দেখা পান। প্রচুর শিকার পাওয়া যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দলের এই লেকটা পার হতে সময় লেগেছে ষোল দিন। এতটা সময় লাগার কারণ হিসেবে জানা যায়, এত বেশি শিকার ছিল সেই সময়, তার দলের লোক লোভ সামলাতে পারেনি, প্রায় প্রতিদিনই হরিণ ও অন্যান্য প্রাণী শিকার করেছেন তারা। এছাড়াও সেই লেকে মাছও অনেক বেশি পাওয়া যায় বলে জানা যায় তার জার্নাল এন্ট্রিতে।
 
শীতকালে এই লেকে দেখা যায় অরোরা বা নর্দান লাইট। ছবি: সংগৃহীত।
 
এই লেক এক সময় আরও বড় ছিল বলে ধারনা করেন ভূতাত্ত্বিকেরা। এর তীরবর্তী বিভিন্ন চিহ্ন দেখে তারা এই ধারণা করেন।
 
পৃথিবীর লেকগুলো একেকটা জীব-বৈচিত্র্যের আখড়া। লেকের চারপাশে যেমন বৈচিত্র্যময় জীব দেখা যায়, লেকের তলদেশও কম যায় না। তবে বিভিন্ন কারণে পানি ও পরিবেশ দূষণের কারণে লেকগুলোতে জীব-বৈচিত্র্য কমে যাচ্ছে।
 
আগামী পর্বগুলোতে এর চেয়েও বড় লেকগুলো নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আমরা লিখব।
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।