ছবি সংগৃহীত
প্রিয় গন্তব্য: কুষ্টিয়ার লালন শাহ এর মাজার
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০১৭, ০৬:০৪
আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৭, ০৬:০৪
আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৭, ০৬:০৪
শুরুতেই আছে লালন শাহ এর একটি ম্যুরাল। ছবি: অনিক কুমার।
(প্রিয়.কম): ফকির লালন শাহ বা লালন ফকির (১৭৭৪- অক্টোবর ১৭, ১৮৯০) ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক সাধকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একাধারে ফকির (মুসলমান সাধক), দার্শনিক, অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।
লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন। তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তার গানগুলো মূলত বাউল গান হলেও বাউল সম্প্রদায় ছাড়াও যুগে যুগে বহু সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠে লালনের এই গানসমূহ উচ্চারিত হয়েছে।

ভেতরের স্থাপনা। ছবি: অনিক কুমার।
জীবন: লালন ফকিরের জীবন সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসূত্র তার নিজের রচিত অসংখ্য গান। লালনের কোন গানে তার জীবন সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়া নেই বলে জানা যায়। তিনি একজন বাঙালী যার জন্মস্থান বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে। লালন শাহের জাতি বা সম্প্রদায় নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। এই প্রশ্ন তাঁর জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল।
পারিপার্শ্বিক প্রচলিত তথ্য থেকে অনুমিত হয়েছে যে, তিনি হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু ছেলেবেলায় জলবসন্ত রোগে অসুস্থ অবস্থায় তাঁর পরিবার তাঁকে ভেলায় ভাসিয়ে দেয়। তখন মলম শাহ এবং তার স্ত্রী মতিজান নামের এক মুসলমান দম্পতি তাঁকে নদীতে খুজে পান, তাকে আশ্রয় দেন এবং সুস্থ করে তোলেন। মলম শাহ তাকে কুর'আন ও হাদিস শিক্ষা দেন এবং ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ফকির সিরাজ সাঁই নামের একজন ফকিরের কাছে পাঠান। শোনা যায় সেখানেই তার আধ্যাত্মবাদে দীক্ষা হয়।
আখড়া: লালন শাহ কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে একটি স্থান তৈরি করেন, যেখানে তিনি তার শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তার শিষ্যরা তাকে “সাঁই’’ বলে সম্বোধন করতেন।
তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা (মহোৎসব) আয়োজন করতেন। যেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হত। চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর এবং পশ্চিমে অনেক দূর পর্যন্ত বাংলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক লালন ফকিরের শিষ্য ছিলেন; শোনা যায় তার শিষ্যের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের বেশি ছিল।

লালন শাহ এর মাজার। ছবি: অনিক কুমার।
কোথায়: কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়া নামক স্থানে লালনের আখড়ার অবস্থান। বাউল সম্রাট লালনকে সমাহিত করা হয় ছেঁউড়িয়ার মাটিতেই। তার মৃত্যুর পর শিষ্যরা এখানেই গড়ে তোলে মাজার বা স্থানীয়দের ভাষায় লালনের আখড়া। বিশাল গম্বুজে তার সমাধি ঘিরে সারি সারি শিষ্যের কবর রয়েছে। এ মাজারটি বাউলদের তীর্থস্থান।
কীভাবে: ঢাকার গাবতলি কিংবা টেকনিক্যাল মোড় থেকে এসবি, শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, খালেক পরিবহনের বাস বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা-কুষ্টিয়া সরাসরি চলাচল করে। এছাড়াও ঢাকা-কুমারখালি সরাসরি অনেক বাস চলাচল করে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সুন্দরবন ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে চিত্রা ট্রেনে যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার অদূরে অবস্থিত পোড়াদহ রেল স্টেশনে নেমে বাস কিংবা অটোরিকশায় চড়ে শহরে আসতে হবে। কুষ্টিয়া শহর থেকে রিকশা অথবা অটোরিকশায় লালন শাহের মাজারে যেতে পারেন।

লালন শাহের মাজারের সাথে এই জিনিসটার আছে প্রাচীন সম্পর্ক! ছবি: অনিক কুমার।
লালন শাহ এবং তার দর্শন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এখনও দুর দূরান্ত থেকে মানুষজন তার দর্শনের অনুসারী হতে চলে আসেন লালন শাহ এর আখড়ায়। বিভিন্ন সময়ে মানুষজন বিভিন্ন মানত নিয়েও যায় তার আখড়ায়, মনে আশা, হয়ত তার ইচ্ছা পূরণ হবে।
প্রিয় ট্রাভেল/ সম্পাদনা ড. জিনিয়া রহমান।
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।
২ ঘণ্টা, ৩৪ মিনিট আগে
৩ ঘণ্টা, ৬ মিনিট আগে
৩ ঘণ্টা, ১১ মিনিট আগে
৩ ঘণ্টা, ১২ মিনিট আগে