গাজীপুরের ভাওয়ালের গড়। ছবি- সংগৃহীত

প্রিয় জানা-অজানাঃ গাজী পালোয়ানের গাজীপুর

আফসানা সুমী
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৩ মে ২০১৭, ২০:৪০
আপডেট: ২৩ মে ২০১৭, ২০:৪০

(প্রিয়.কম) ঢাকার খুব কাছে ঘুরে বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা গাজীপুর। বিভিন্ন রিসোর্ট, জাতীয় উদ্যান, শালবন, সাফারী পার্ক সব মিলিয়ে শহরের মানুষের একটু স্বস্তি পাওয়ার স্থানে পরিণত হয়েছে এই অঞ্চল।
 
 
গাজীপুরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। বিলু কবীরের লেখা ‘বাংলাদেশের জেলা : নামকরণের ইতিহাস’ বই থেকে জানা যায়, দিল্লীর সম্রাট মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে পালোয়ান গাজী নামক জনৈক মুসলমান যোদ্ধা এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। তখন এই অঞ্চল ছিল ঘন জঙ্গলে ভরা । তিনি এই এলাকার জঙ্গল পরিস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে তোলেন। পরবর্তীতে তার বংশধররা (গাজী বংশ) অনেক দিন এই এলাকা শাসন করেন। সময়ের পরিক্রমায় গাজী বংশ বেশ পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করে।
 
 
পালোয়ান গাজী এবং তার বংশধরদের সুশাসনে এই অঞ্চলের মানুষ ছিল সন্তুষ্ট। গাজীর নামেই এই এলাকাকে চিনতো সবাই। ধীরে ধীরে গাজীপুর নাম ধারণ করে অত্র একালাটি। মানুষ যেমন মনে রাখে রাজা-বাদশাদের, তেমনি মনে রাখে ভালো মানুষদের। পালোয়ান গাজী শাসনকর্তা হলেও তিনি ছিলেন গনমানুষের বন্ধুর মতো। অত্যাচার-লুন্ঠন তার ধর্ম ছিল না। আজকের গাজীপুরের নাগরিক গোড়াপত্তন হয়েছে তার হাতেই।
 
 
গুগল ম্যাপে গাজীপুর
 
 
তবে গাজীপুরের নামকরণ নিয়ে আরেকটি জনশ্রুতি আছে। সম্রাট আকবরের আমলে চব্বিশ পরগণার জমিদার ছিলেন ঈশা খাঁ। ঈশা খাঁ এর এক অনুসারীর নাম ছিল ফজল গাজী। এই গাজী ছিলেন ভাওয়াল রাজ্যের প্রথম 'প্রধাণ'। তার পদবী থেকে কালক্রমে এসেছে গাজীপুর।
 
গাজীপুর নামের আগে এ অঞ্চলের নাম ছিল জয়দেবপুর। অনেক কাল আগে ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী। বসবাস করার জন্য এ জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী পীরাবাড়ি গ্রামে একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। গ্রামটি ছিল চিলাই নদীর দক্ষিণ পাড়ে। জয়দেব নিজের নামেই গ্রামটির নাম দেন জয়দেবপুর। লোকমুখে এটি জনপ্রিয়ও হয়। দীর্ঘদিন জয়দেবপুর বলে পরিচিতি পেতে থাকা জায়গাটি আজও অনেক প্রাচীন ব্যাক্তিদের মুখে সেই নামেই গুঞ্জিত হয়। গাজীপুর সদরের রেলওয়ে স্টেশনের নাম এখনো ‘জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন’। তবে তারও আগে এই অঞ্চলের নাম ছিল ভাওয়াল।
 
 
সম্পাদনা: ড. জিনিয়া রহমান।
 
 
আপনাদের মতামত জানাতে ই-মেইল করতে পারেন [email protected] এই ঠিকানায়।