গবেষণায় বাজেট হ্রাসে ‘এক প্রজন্মের বিজ্ঞানী’ হারাবে যুক্তরাজ্য
আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২৬
পদার্থবিজ্ঞান প্রকল্প ও গবেষণা অবকাঠামোতে বড় ধরনের বাজেট কমানোর ঘোষণার পর শত শত তরুণ গবেষক সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাজ্য বিজ্ঞানীদের একটি পুরো প্রজন্মকে হারাতে বসেছে।
কণা পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা এবং পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের জানানো হয়েছে যে, তাদের অনুদান বা গ্র্যান্ট প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাজেট ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হলে গবেষণার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা জানাতে প্রকল্প প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য চারটি বড় অবকাঠামো পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জেনেভার কাছে সার্ন (Cern)-এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের একটি ডিটেক্টর উন্নতকরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের সাথে যৌথভাবে নির্মাণাধীন একটি ইলেকট্রন-আয়ন কোলাইডার প্রকল্প।
গবেষণাগার বা ফ্যাসিলিটিগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বাজেট হ্রাসের মূল ধাক্কাটা আসছে পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণা অনুদানের ওপর। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান অর্থায়নকারী সংস্থা ‘ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন’ (ইউকেআরআই) এখন মৌলিক বিজ্ঞানের চেয়ে ফলিত বা প্রায়োগিক গবেষণাকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং তাদের নীতি হলো, “কম কাজ, কিন্তু ভালোভাবে করা”।
ইউকেআরআই-এর প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ইয়ান চ্যাপম্যানের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে ৫০০-এরও বেশি গবেষক লিখেছেন, “বর্তমান অনিশ্চয়তা, বিলম্ব এবং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অগ্রাধিকার পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও শিল্প জগৎ থেকে একটি প্রজন্ম হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”
ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ বছর বয়সী পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক ড. সাইমন উইলিয়ামস তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে অন্য একটি পোস্ট-ডক পদের খোঁজ করছেন। তিনি বলেন, “বাস্তবসম্মতভাবে আমার একমাত্র অপশন এখন বিদেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে থাকার চেয়ে জার্মানিতে কোনো পদে যোগ দেওয়া আমার জন্য বেশি সম্ভাবনাময়। বিদেশে অনেক বেশি টেকসই এবং স্থিতিশীল সুযোগ রয়েছে।”
কিংস কলেজ লন্ডনের ২৬ বছর বয়সী গবেষক ড. ক্লেয়ার রিগুজ্জো যুক্তরাজ্যে কোনো সুযোগ না পেয়ে ইউরোপে একটি পদ গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, তরুণ বিজ্ঞানীরা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন চাকরির বাজারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সিনিয়র শিক্ষাবিদরাও চিন্তিত কারণ তারা সেরা গবেষকদের আকৃষ্ট করতে পারছেন না।
“এমনকি ছাত্ররাও বুঝতে পারছে যে বিজ্ঞান এখন আর অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে সবার মনোবল তলানিতে ঠেকেছে”, বলেন ড. ক্লেয়ার রিগুজ্জো।
চলতি বছর ভৌত বিজ্ঞান, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসা গবেষণার জন্য ইউকেআরআই-এর হাতে প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড রয়েছে। সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফ্যাসিলিটিজ কাউন্সিল (এসটিএফসি) পদার্থবিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি অক্সফোর্ডশায়ারের ডায়মন্ড লাইট সোর্সের মতো প্রধান গবেষণাগারগুলোতে অর্থায়ন করে।
জাতীয় গবেষণাগারগুলোতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সার্ন ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মতো আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের কারণে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এসটিএফসি-কে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬২ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে হবে। এ ছাড়াও এই তহবিল এমন কিছু প্রকল্পে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে পড়েছিল যা চালানোর সামর্থ্য এখন আর তাদের নেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
- ট্যাগ:
- লাইফ
- বিজ্ঞান
- গবেষণা
- যুক্তরাজ্য / ইংল্যান্ড