মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। ফাইল ছবি

যে ৫ কারণে চাকরি হারালেন স্টিভ রোডস

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০১৯, ২২:৪২
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০১৯, ২২:৪২

(প্রিয়.কম) সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিদায় নিতে হয়েছে লিগ পর্ব থেকেই। লিগ পর্বের ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় বৃষ্টিতে। সবমিলিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার অষ্টম অবস্থানে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে মাশরাফি-সাকিব-তামিমদের।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সে অনেকটাই হতাশ ভক্ত-সমর্থকরা। হতাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। তাই তো আসন্ন ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত স্টিভ রোডসের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তার আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বিসিবি।

বোর্ডের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে উভয়পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে রোডসকে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রোডসকে বাদ দেওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। কারণগুলো সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই।

২৪ জুলাই, বুধবার ধানমন্ডিতে বেক্সিমকো কার্যালয়ের নিজস্ব অফিসে বিশ্বকাপের বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ও রোডসকে বাদ দেওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাপ করেছেন পাপন। সেখানে উঠে এসেছে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রোডসের চাকরি হারানোর বেশ কয়েকটি কারণ।

বিসিবি প্রধানের ভাষ্যমতে রোডসের চাকরি হারানোর কারণগুলো-

বিশ্বকাপের আগে আমরা এত টাকা খরচ করে অনুশীলনের (ইংল্যান্ডের লিস্টারে) ব্যবস্থা করলাম। কিন্তু কোচ অনুশীলন ঐচ্ছিক মনে করায় তা আর হলো না। কোচ বলেছেন অনুশীলন প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের ইচ্ছাতেই করবে।

ম্যাচে জিততেই হবে এমন কোনো চিন্তা রোডসের মধ্যে ছিল না। অথচ আগে আমাদের সঙ্গে এমন কোচ ছিলেন, যারা মনে করতেন যে করেই হোক আমাদের জিততে হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচের আগে শোনা গেল খেলোয়াড়রা ইউরোপ বেড়াতে যাচ্ছে। দলের ছুটির বিষয়টি আমি জানতামই না। এর আগে কখনোই এ রকম হয়নি।

পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন রাতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বসে আমরা একটা দল চূড়ান্ত করলাম। পরের দিন মাঠে গিয়ে দেখি অন্য একাদশ। এগুলো তো আগে কখনো হয়নি। আমরা মনে করেছি, তাকে দিয়ে হবে না।

বিশ্বকাপ এবং তার আগে নিউজিল্যান্ড সফরের সময় খেলোয়াড়রা আমার কাছে এসে বলছিল কোচের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো কথাই হয় না। খেলার আগের দিন কৌশল নিয়েও কোনো আলাপ হয় না। তিনি শুধু উপস্থিত থাকেন। ক্রিকেটারদের কথা শুনেন।

জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদটি আপাতত ফাঁকা পড়ে আছে। তবে এই পদটি অবশ্য বেশিদিন ফাঁকা রাখতে চাইছে না বিসিবি। এজন্য রোডসের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করার পর থেকেই তৎপরতা শুরু করে দেয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি, প্রকাশ করে প্রধান কোচের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। ১৮ জুলাই শেষ হয়েছে প্রধান কোচ হিসেবে আবেদন করার সময়।

প্রিয় খেলা/রুহুল