প্রচারণার সময় অন্যদের সঙ্গে ফেরদৌস আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনি প্রচারে ফেরদৌস: তৃণমূল-জামাতে যোগসূত্র খুঁজছে বিজেপি

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫২
আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫২

(প্রিয়.কম) ভিসা বিধি লঙ্ঘন করে ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন। বিতর্কের শুরু ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

ইতোমধ্যে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তিনিও ফিরে এসেছেন দেশে।

এখানেই শেষ নয়, ফেরদৌসকে ঘিরে এবার নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারে ফেরদৌসের অংশ নেওয়া আসলে তৃণমূলের সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির যোগ সূত্রের বিষয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

এমনকি ফেরদৌস ইস্যুতে জামাত-তৃণমূল যোগের অভিযোগ করে এনআইএ তদন্ত চেয়েছেন উত্তর কলকাতা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা।

তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের নাগরিক কাভীবে দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে? এটা আসলে তৃণমূলের সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির যোগসূত্রের প্রচার করা হয়েছে।’

এদিকে ফেরদৌস কাণ্ডে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল নেতা ফরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘অকারণে জলঘোলা করছে বিজেপি। কে কার হয়ে প্রচার করল, তা নিয়ে কারও কিছু যায় না। কিন্তু বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাই তারা জলঘোলা করছে।’

লোকসভা নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়ায় ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে ভারত সরকার।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ফেরদৌস আহমেদের ভিসা–সংক্রান্ত আচরণ লঙ্ঘনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ভিসা বাতিল করেছে। তারপরই কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ফেরদৌসকে।

এরপরই মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে রাত পৌনে ১০টার দিতে ফেরদৌস ঢাকায় পৌঁছান। ‍

ভারতে চলছে ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। প্রথম দফায় ১৮টি রাজ্যের ৯১টি আসনে ১১ এপ্রিল ভোট হয়ে গেছে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে প্রচারণা করছিলেন বাংলাদেশের এ নায়ক।

গত রবিবার ফেরদৌস রায়গঞ্জ আসনের করণ দিঘি থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত তৃণমূলের প্রচার মিছিলে অংশ নেন। এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। নির্বাচনি ওই প্রচারে ফেরদৌসের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল।

রায়গঞ্জ আসনে বেশিরভাগ ভোটারই সংখ্যালঘু মুসলিম। জনসংখ্যার হারে মুসলিম বেশি। ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী, কংগ্রেসের প্রার্থী দীপা দাসমুন্সি আর সিপিএমের প্রার্থী বর্তমান বিদায়ী সাংসদ মোহাম্মদ সেলিম।

১১ এপ্রিল ভারতে লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম দফার ভোট রয়েছে যথাক্রমে ১৮ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল, ২৯ এপ্রিল, ৬ মে, ১২ মে ও ১৯ মে। এরপর ২৩ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

আরো পড়ুন