ছবি সংগৃহীত
স্থলচল প্রাণীর যেগুলো খাওয়া হালাল, যেগুলো খাওয়া হারাম
আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০১৬, ০৫:৪৮
ছবি : সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। মানব জীবনের প্রায় সব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি ইসলামে রয়েছে জীবন পরিচালনা করার সব ধরনের দিক-নির্দেশনা। স্থলচর কোন কোন প্রাণী ইসলামের দৃষ্টিতে খাওয়া হালাল এবং কোন কোন প্রাণী খাওয়া হারাম- এ বিষয়েও ইসলামের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা রয়েছে।
মোট তিন ধরনের স্থলচল প্রাণী হয়।
এক. যেসব প্রাণীর শরীরে কোনো ধরনের রক্ত থাকে না। যেমন- ফড়িং, মাছি ইত্যাদি। এই জাতীয় প্রাণীগুলো মধ্যে একমাত্র টিড্ডি শ্রেণীর ফড়িং ব্যতীত অন্যগুলো খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
দুই. যে সকল প্রাণীর গায়ে রক্ত আছে, তবে সে রক্ত প্রবাহিত নয়। যেমন- সাপ, টিকটিকি ইত্যাদি। এই জাতীয় সকল প্রাণীই সর্বসম্মতি ক্রমে খাওয়া হারাম।
তিন. যেসকল প্রণীর গায়ে প্রবাহিত রক্ত রয়েছে সেগুলি দুই ভাগে বিভক্ত, পালিত ও বন্য। পালিত পশুর মধ্যে উট, গরু, ছাগল এবং বন্যপ্রাণীর মাঝে হরিণ, নীলগাই, বন্য উট ও গাধা খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ। অনুরূপভাবে পালিত প্রাণীর মধ্যে কুকুর ও বিড়াল খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। আর বন্যপ্রাণীর মধ্যে হিংস্র প্রাণী খাওয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করেছেন। আর হিংস্র প্রাণীর লক্ষণ বলেছেন, সামনের দাঁত দিয়ে আহার করা এবং শিকার করে খাওয়া প্রাণীকে হিংস্র প্রাণী বলা হয়। সুতরাং যেসব প্রাণী শিকার করে এবং সামনের দাঁত দিয়ে আহার করে সেই সকল প্রাণী হিংস্র। (শরহে মুহায্যাব)
পাখি সম্পর্কে হাদিস শরিফে উল্লিখিত মূলনীতি হলো, যেসব পাখি হিংস্র সেসব খাওয়া হারাম। হিংস্র পাখি বলতে সেই সব পাখিই বোঝানো হয়েছে, যেগুলো স্বীয় পাঞ্জা দিয়ে শিকার করে। হজরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁত দিয়ে আহার করে এমন হিংস্রর প্রাণী ও পাঞ্জা দিয়ে শিকার করে এমন পাখি খেতে নিষেধ করেছেন। (মুসলিম)
সম্পাদনা: নাজমুল হাসান শান্ত