ছবি সংগৃহীত

২০১৬ সালে যা ঘটতে পারে ফুটবল বিশ্বে

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ১৫:৩৯
আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০১৬, ১৫:৩৯

(প্রিয়.কম) ফুটবল নামক খেলাটিতে যেকোনো সময়েই যে কোনো কিছুই ঘটা সম্ভব। এরই পরিক্রমায় ২০১৬ সালে মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, দুজায়গাতেই হয়তো নানান ঘটনার জন্ম দিবে ফুটবল। নতুন বছর থাকছে অনেক প্রত্যাশা। হয়তোবা পূরণ হবে, হয়তোবা না। চলুন এক নজরে দেখে নেই কি কি ঘটতে পারে ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে।

মেসির পঞ্চম ব্যালন ডি'অর:

ছবিঃ সংগৃহীত

ফিফা ব্যালন ডি’অর তথা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার এর আগে চারবার জিতেছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু গেল দুইবার তাকে পেছনে ফেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জিতে নেন এই পুরস্কার। তবে এই বছরের শেষের দিকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের দৌড়ে রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে পঞ্চমবারের মতো মেসির হাতে উঠতে পারে ফিফা ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার।

বার্সেলোনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ট্রেবল (লা লিগা, কোপা ডেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) জিতিয়েছেন। একের পর এক প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছেন। আর্জেন্টিনা ১০ মাসের ব্যবধানে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার ফাইনালে তুলেছেন। যে কারণে অধিকাংশ ফুটবলবোদ্ধাই ২০১৫ সালের ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’ লিওনেল মেসির হাতেই দেখছেন।

গার্দিওলার ঠিকানা ম্যানচেস্টার!:

ছবিঃ ডেইলি মেইল

ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিটি মৌসুমেই চারটি ইউরোপিয়ান ট্রফির জন্য লড়াই করে ইপিএলের এই তিন মেগা ক্লাব। এবার তালিকায় যোগ হলো আর এক নতুন ট্রফি তোলার লড়াই। যার নাম পেপ গার্দিওলা! ব্রিটিশ প্রচারমাধ্যমের খবর, বায়ার্ন মিউনিখকে ব্যক্তিগতভাবে গার্দিওলা জানিয়ে দিয়েছেন- এটাই কোচ হিসেবে বিখ্যাত জার্মান ক্লাবে তার শেষ মৌসুম। আর তাতেই তিন ব্রিটিশ ক্লাব নড়েচড়ে বসেছে।

যাদের মধ্যে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছনোর ব্যাপারে আপাতত এগিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছন্দ থাকায় বড় অর্থের চুক্তি দেওয়া হতে পারে গার্দিওলাকে। তবে ম্যানচেস্টার ডার্বির মতো গার্দিওলা-দৌড়ের ফিনিশিং লাইন পৌঁছতে ম্যানসিটিকে টপকাতে হবে তাদের মহাপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।

ইউরোপ মাতাবে লিস্টারসিটি: 

ক্লাব ফুটবলে ২০১৫ সালের সেরা চমক ছিল লিস্টার সিটি। পুঁচকে দলটি এখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে! সর্বশেষ খেলা ১৭ টি ম্যাচের ১১টিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিস্টার সিটি। ড্র করেছে পাঁচটি ম্যাচে, হেরেছে একটিতে! নতুন বছরেও এই দল মাতিয়ে রাখবে ফুটবল বিশ্ব। 

মরিনহোর নতুন ঠিকানা: 

পোর্তো, চেলসি, মিলান কিংবা রিয়াল মাদ্রিদ। যেখানেই গেছেন সেখানেই সাফল্যের দেখা পেয়েছেন মরিনহো। অসাধারণ পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ক্লাবকে শিরোপা উপহার দিয়েই নিজের কৌশলগত দক্ষতার পমাণ দিয়েছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো যোগ দিয়ে প্রিমিয়ার লীগেও সাফল্য পেয়েছেন এই পর্তূগীজ কোচ। কিন্তু গত মৌসুমে ব্লুজদের শিরোপা উপহার দেওয়া মরিনহোর চলতি মৌসুমটা কাটে একেবারেই বাজেভাবে। ফলাফল সরাসরি বহিষ্কার!

নতুন বছরে আশা করা যায় তিনি দ্রুতই পেয়ে যাবেন নতুন ঠিকানা। ফুটবল বোদ্ধাদের ধারণা, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অথবা সেই রিয়াল মাদ্রিদেই ফিরতে পারেন এই কোচ। সময়ই বলে দিবে কোথায় হবে তার নতুন ঠিকানা।

লিভারপুলকে পথ দেখাবেন ক্লুপ :

অ্যানফিল্ডে আসার আগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কোচ ছিলেন সাত বছর (২০০৮ থেকে ২০১৫)। এ সময়ের মধ্যে ডর্টমুন্ডকে দু'বার বুন্দেসলীগা (২০১১, ২০১২) শিরোপা জিতিয়েছেন। ২০১২-তে পোকাল কাপও জিতেছেন। তিনবার জিতেছেন জার্মান সুপার কাপ। তার কোচিংয়ে ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে উঠেছিল ডর্টমুন্ড। ক্লাবের সাফল্যের পাশাপাশি ২০১১ ও ২০১২ সালে জার্মানির সেরা ম্যানেজারের পুরস্কারও জিতেছেন। ১২ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনের পুরোটাই তিনি ছিলেন জার্মান ক্লাব মাইঞ্জে। খেলা ছাড়ার পর সাত বছর মাইঞ্জের ম্যানেজারও ছিলেন।

দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার জন্য ব্রেন্ডন রজার্সের জায়গায় তাকে নিয়োগ দিয়েছে লিভারপুল। ৪৮ বছর বয়সী এ জার্মানের সঙ্গে অলরেডদের চুক্তিটা তিন বছরের। ইয়ুর্গেন ক্লুপ লিভারপুলের দিন বদলের আভাস দিচ্ছেন। জার্মান এই কোচ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উন্নতির পথে রয়েছে অলরেডসরা। ফুটবল বোদ্ধাদের ধারণা মতে, ২০১৬ তেই লিভারপুলকে জিতাবেন শিরোপা।

আমেরিকায় পাড়ি জমাচ্ছেন রোনালদিনহো:

ছবিঃ ইএসপিএন এফসি

রোনালদিনহো ব্রাজিল ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র। নিজের ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় পার করে এসেছেন অনেক আগেই। তবে তারপরও পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারকে আরো দীর্ঘায়িত করতে চান এই সাবেক ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়। 

ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফ্লুমিনেসের সঙ্গে গত অক্টোবরে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে চুক্তি শেষ করেছেন রোনালদিনহো। আপাতত কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন তিনি। তাই আমেরিকার মেজর সকার লিগে খেলার পরিকল্পনা করেছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য।

২০১৬ সালে এই তারকা ফুটবলারকে দেখা যাবে লাতিন আমেরিকার কোনো ক্লাবের হয়ে মাঠ মাতাতে।

২০১৬ ইউরো কাপ আসবে জার্মানীর ঘরেই:

ব্রাজিল বিশ্বকাপে নিজেদের চিরচেনা রূপে ফিরেছেন জার্মান ফুটবলাররা। একক আধিপত্য দেখিয়ে যোগ্য দল হিসেবে শিরোপা জিতেছেন তারা। ১৯৫৪, ১৯৭৪, ১৯৯০ সালের পর ২০১৪ সালে চতুর্থবারের মতো স্বপ্নের শিরোপা ঘরে তোলে জার্মানি।

বিশ্বকাপের সফল মিশন শেষ। এবার নতুন মিশনে চ্যাম্পিয়নরা। ইউরো ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে ভাবছেন জার্মানরা। ২০১৬ সালে ফ্রান্সে ইউরো কাপের পরবর্তী আসর বসবে। 

ইউরোপের দলগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ইউরো ফুটবলেও আধিপত্য থাকবে জার্মানদের। ইউরো কাপে সফলতার শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। সর্বোচ্চ তিন বার ইউরো কাপ জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখা বলা যায় এবারের ইউরো কাপের শিরোপা যাবে জার্মানীর ঘরেই।