ছবি সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী: ধম্মইনফোর গবেষণা

priyo.com
লেখক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৪, ১১:২৮
আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৪, ১১:২৮

(প্রিয়.কম) - পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে গত দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এ জেলায় ১৯৯১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ বছরে এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে ১১ শতাংশ। অপরদিকে জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০.৫০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্স –এর ১৯৯১ এবং ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যের উপরে ভিত্তি করে ধম্মইনফোর এক গবেষণায় এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। খাগড়াছড়ির মোট আয়তন ২,৭৪৯.১৬ বর্গকিলোমিটার। এই জেলায় উপজেলার সংখ্যা ৮ টি এবং সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৬ লাখ ১৩ হাজার ৯শ’ ১৭। এর মাঝে প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার রয়েছেন বৌদ্ধ এবং প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার মুসলিম।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন ধর্মের জনসংখ্যা
ধম্মইনফোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে খাগড়াছড়ির প্রায় ৪৮ শতাংশ জনসংখ্যা ছিল বৌদ্ধ এবং প্রায় ৩৫ শতাংশ ছিল মুসলিম। অথচ মাত্র দুই দশক পরে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে উলটে গেছে পুরো চিত্র। ২০১১ সালে এসে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ১০ শতাংশেরও বেশী কমে ৩৮ শতাংশে এসে দাড়িয়েছে যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪৫ শতাংশে এসে দাড়িয়েছে। মাত্র ২ দশকে খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি পুরোই পালটে গিয়ে বর্তমানে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিণত হয়েছে খাগড়াছড়ি। উপজিলা ভিত্তিক চিত্র তুলে ধরলে প্রকৃত অবস্থা আরো পরিষ্কার হয়। খাগড়াছড়ি সদরে খৃষ্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা অনেক বেশী (প্রায় ৫১ শতাংশ)। অন্যদিকে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যার আধিক্য রয়েছে মাটিরাঙ্গা (৩১ শতাংশ), রামগড় (১৫ শতাংশ) ও মানিকছড়িতে (১৫ শতাংশ)। অত্যন্ত লক্ষণীয় যে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা মাটিরাঙ্গা এবং খাগড়াছড়ি সদর – উভয় উপজিলায় গড়ে ২৮ শতাংশ করে। বৌদ্ধদের আধিক্য রয়েছে শুধুমাত্র দিঘীনালায় (২৬ শতাংশ) যদিও খাগড়াছড়ি সদরে প্রায় ২০ শতাংশ জনসাধারণ বৌদ্ধ।
উপজেলা ভিত্তিক বিভিন্ন ধর্মের জনসংখ্যা
অপরদিকে উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে খাগড়াছড়িতে মোট ২ হাজার ৪শ’ ৭২ টি মসজিদ রয়েছে, যার বিপরীতে বৌদ্ধ বিহারের সংখ্য মাত্র ৯শ’ ৩৭। অন্যদিকে হিন্দুদের মন্দির রয়েছে প্রায় ১শ’ ৭০টি। তবে ধম্মইনফোর এই গবেষণার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এটি পড়লে বোঝা, মুসলিমদের টার্গেট করেই রিপোর্টটি তৈরী করা হয়েছে। কেননা, গত দুই দশকে কী পরিমাণ লোক খ্রিস্টান হয়েছে, তাদের বৃদ্ধির হার এবং গির্জার সংখ্যা কী পরিমাণ বেড়েছে তা বলা হয়নি এই রিপোর্টে। এ ছাড়াও জনসংখ্যার ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের যে পরিসংখ্যান এই রিপোর্টে দেয়া হয়েছে তা বস্তুনিষ্ঠ নয়। কেননা সরকারীভাবে জেলা তথ্য বাতায়ন সূত্রে খাগড়াছড়ি জেলার জনমিতি হচ্ছে- ক) উপজাতি- ২,৬৯,৯০৪জন (৫২%) [চাকমা-১,৪৬,০৪৫, মারমা-৫৫,৮৪৪, ত্রিপুরা-৬৭,৩৪২, অন্যান্য-৬৭৩]। (খ) অ-উপজাতি-২,৪৮,৫৫৯ জন (৪৮%)। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জেলা তথ্য বাতায়নে এই জেলার উপাসনালয়ের পরিসংখ্যান হচ্ছে- ধর্মীয় উপাসনালয়: ৭৫১টি। (ক) মসজিদ-২৫৫টি। (খ) বৌদ্ধ মন্দির (ক্যাং)-২৬৩টি। (গ) মন্দির-২০৭টি। (ঘ) গীর্জা-২৬টি।