ছবি সংগৃহীত

এক্সবক্স ওয়ান পরিচিতি

farhat
লেখক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৪, ১২:৪১
আপডেট: ১১ জুন ২০১৪, ১২:৪১

(প্রিয় টেক) এক্সবক্স ওয়ান- গেমারদের কাছে নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। তবে অনেকেই আছে এক্সবক্স কি তা জানে না। সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট কি জন্য তৈরি করেছে ডিভাইসটি তা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট হতে পারে। মূলত গেমিং কনসোল হিসেবেই পরিচিত এক্মবক্স। হাই-এ্যান্ড গেম খেলার জন্যই তৈরি করা হয়েছে এ ডিভাইস। এক্সবক্সের সর্বশেষ সংস্করণ হচ্ছে এক্সবক্স ওয়ান। বেশিদিন হয়নি নতুন মডেলের এ গেমিং কনসোল বাজারে ছেড়েছে মাইক্রোসফট। বিশ্বের সব দেশে এখনও বাজারজাত শুরু হয়নি কনসোলটির। তবে আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রির জন্য ছাড়া হবে এক্সবক্স ওয়ান। এ নিয়ে উত্তেজনা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে ভারতের গেমারদের মধ্যে। চলুন দেখে নেয়া যাক কি আছে নতুন মডেলের এক্সবক্স ওয়ান গেমিং কনসোলে। প্রযুক্তিগত তথ্য কি নেই এতে? আধুনিক প্রযুক্তির সবকিছুই মনে হচ্ছে ঢেলে দেয়া হয়েছে এক্সবক্স ওয়ানে। এতে আছে আট গিগাবাইট ডিডিআর থ্রি র‍্যাম যা গেমিং প্রসেসকে দ্রুত গতিতে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্লু-রে ড্রাইভ দিয়ে যেকোন গেমের সবোর্চ্চ রেজ্যুলেশনের ব্লু-রে ডিস্ক ব্যবহার করা যাবে ওয়ানে। গেম সংরক্ষণের জন্য অন-বোর্ডে বিল্ট-ইন দেয়া আছে ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক। যদিও কিছুদিনের মধ্যেই এক্সটার্নাল হার্ডড্রাইভ ব্যবহারের সুবিধা যুক্ত করতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। দ্রুত গতিতে প্রসেসিং-এর জন্য বসানো হয়েছে আট কোর বিশিষ্ট সিপিইউ এবং সিস্টেম অন এ চিপ (এসওসি) বিশিষ্ট জিপিইউ যা তৈরি করেছে অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি)। ইন্টারনেট ছাড়া মনে হয় এখন কোনো ডিভাইসই তৈরি হয় না। যেকোন কাজেই দরকার পড়ে ইন্টারনেট। এক্সবক্স ওয়ানেও ইন্টারনেট সংযোগের জন্য রাখা হয়েছে ৮০২.১১এন প্রযুক্তির ওয়াইফাই সুবিধা। অনলাইনে গেম খেলার জন্য খুব দরকারি ফিচার হচ্ছে এটি। এছাড়া আছে আধুনিক ব্লুটুথ ৩.০ প্রযুক্তি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এটি তৈরি করা হয়েছে এক্স৮৬ আর্কিটেকচার প্রযুক্তিতে। kinect কাইনেক্ট চমৎকার একটি গ্যাজেট হচ্ছে এই কাইনেক্ট সেন্সর। আগের সংস্করণেও ছিল এই কাইনেক্ট প্রযুক্তি। তবে এবার অনেক বেশি আধুনিক প্রযুক্তিতে এবং বেশি কার্যকরভাবে তৈরি করা হয়েছে এটি। ক্যামেরা, ভয়েস কন্ট্রোল ও বডি মুভমেন্ট সেন্সর অনেক উন্নত করা হয়েছে। বডি মুভমেন্টের মাধ্যমে গেম খেলার মজা নিতে এক্সবক্সের সাথে কাইনেক্ট কেনে না এমন ক্রেতা সচরাচর দেখা যায় না। নতুন সংস্করণের কাইনেক্ট আছে ফুল এইচডি বা ১০৮০ পিক্সেল প্রযুক্তির ক্যামেরা যা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল শট নিতে সক্ষম। প্রতি সেকেন্ডে ৬০ফ্রেমে ভিডিও ক্যাপচার করা যাবে এ ক্যামেরা দিয়ে। এছাড়া হার্টবিট মাপার পাশাপাশি ব্যবহারকারী হাসছে নাকি মুখ গোমরা করে বসে আছে সেগুলো জানিয়ে দিতেও সক্ষম কাইনেক্ট। এছাড়া ভয়েস কন্ট্রোল ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী মুখে বলে বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করতে পারবে। অন্যদিকে বডি মুভমেন্টের মাধ্যমে খেলতে পারার মজাতো আছেই। controller এক্সবক্স কন্ট্রোলার আধুনিক ইমপালস ট্রিগার প্রযুক্তির কন্ট্রোলার এক্সবক্স ওয়ানের সাথে বাজারে ছেড়েছে মাইক্রোসফট। ইমপালস ট্রিগারের মাধ্যমে গেমার গেম খেলার সময় গেমের ধরন অনুযায়ী কন্ট্রোলারে ভাইব্রেটের অনুভূতি পাবে। এতে করে গেম খেলার সময় অনেকটা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাবে গেমাররা। এক্সবক্স ৩৬০ সংস্করণের কন্ট্রোলার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় এক্সবক্স ওয়ানের কন্ট্রোলারের ডি-প্যাড নতুনভাবে নকশা করেছে মাইক্রোসফট। ৩০ ফুট দুরত্বে থেকেও ওয়্যার বা তার ছাড়া কন্ট্রোলার ব্যবহার করা যাবে। সনির প্লে ষ্টেশন ফোরের মতো টাচপ্যাড এক্সবক্স ওয়ানের কন্ট্রোলারে না থাকলেও এই কন্ট্রোলাটি পিসি গেমেও ব্যবহার করা যাবে। তবে একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ইনস্টল করে নিতে হবে ব্যবহারকারীকে। xbox live এক্সবক্স লাইভ টিভি সাথে ব্যবহারযোগ্য করে এক্সবক্স লাইভকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে স্মার্ট টিভি নেভিগেট করতে পারবে ব্যবহারকারীরা। পছন্দের টিভি শো এক্সবক্স কমিউনিটির সাথে শেয়ার করা যাবে এক্সবক্স লাইভের মাধ্যমে। ভয়েসের মাধ্যমেই গেম থেকে টিভির যেকোন চ্যানেলে নিমিষেই যাওয়া যাবে হালানাদকৃত প্রযুক্তিটি দিয়ে। এছাড়া স্মার্টগ্লাস, স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট অনায়াসে ব্যবহার করার সুবিধা আছে এক্সবক্স ওয়ানে। ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারের মাধ্যমে গেম খেলার সময় তা ক্যাপচার করে ভিডিওটি সবার সাথে শেয়ার করার অপশনও রাখা হয়েছে এতে। Apps on xbox live এক্সবক্সের অন্যান্য ব্যবহার ডিভাইসটি দিয়ে শুধু যে গেম খেলা যাবে তা কিন্তু না। গেম খেলা অবস্থায় স্কাইপে ভিডিও কলও করা যাবে ওয়ান দিয়ে। একই সাথে একের অধিক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে কনসোলটিতে। উল্লেখ্য যে, এক্সবক্স ওয়ানে এক্সবক্স ওএস ছাড়াও মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ এইট ইউজার ইন্টারফেস ব্যবহার করা যাবে। ভাইন, এইচবিও গো, টুইটারসহ প্রায় ৪৬টি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যাবে এক্সবক্স ওয়ানে। xbox one মোটামুটি এই হচ্ছে মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ান। যা কিনা আগামি ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে মাত্র ৩৯,৯৯০ রুপিতে কিনতে পারবে ভারতবাসীরা। এক্সবক্স ওয়ান কনসোল, একটি ওয়্যারলেস কন্ট্রোলার এবং এক্সবক্স লাইভের নতুন সদস্যদের জন্য ১৪ দিনের এক্সবক্স লাইভ গোল্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে প্যাকেজ আকারে ছাড়া হবে গেমিং কনসোলটি। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে আমাদের জীবনে। টিভিতে গেম খেলার মধেই সীমাবদ্ধ ছিল সবার বিনোদন। এখন আর সে চিত্র নেই। বিনোদনের মাঝেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাল্টি ফাংশনাল বিনোদন ডিভাইসগুলোই এখন চাহিদার শীর্ষে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও অর্থ ব্যয় করে আধুনিক প্রযুক্তি তৈরির যুদ্ধে লিপ্ত। আমরাও আমাদের চাহিদা বাড়িয়ে চলেছি নতুন উদ্ভাবনের তালে তালে।