ছবি সংগৃহীত

আল-হিদায়া : পানি পরিচিতি অধ্যায় : ব্যবহৃত পানি অর্থ

মিরাজ রহমান
সাংবাদিক ও লেখক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৪, ০৫:৩৩
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৪, ০৫:৩৩

ব্যবহৃত পানি অর্থ ব্যবহৃত পানি অর্থ, যে পানি দ্বারা হাদাছ দূর করা হয়েছে কিংবা সাওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে। হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, এটা ইমাম আবূ ইউসূফের মত। কেউ কেউ বলেছেন, যে, এটা ইমাম আবূ হানীফা (র.) এরও মত। ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, শুধু সাওয়াব হাসিলের নিয়্যতেই পানি ‘ব্যবহৃত’ গণ্য হবে। কেননা গুনাহের স্থানান্তরিত হওয়ার কারণেই পানি ‘ব্যবহৃত’ সাব্যস্ত হবে। আর গুনাহ্ দূর হয় সাওয়াবের নিয়্যত দ্বারা। আর ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) বলেন, (পানির মধ্যে) ফরজ আদায় করারও প্রভাব রয়েছে। সুতরাং উভয় কারনেই (পানির) নষ্ট হওয়া সাব্যস্ত হবে। কখন পানি ‘ব্যবহৃত’ রূপে গণ্য হবে? বিশুদ্ধমত এই যে, (ধৌত) অংগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মাত্র তা ‘ব্যবহৃত’ বলে গণ্য হবে। কেননা (পানি শরীর থেকে)বিচ্ছিন্ন হওয়া পূর্বে প্রয়োজনের তাকীদে ‘ব্যবহৃত হওয়ার হুকুম দেওয়া হয় না। আর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর প্রয়োজন নেই। জুনুবী ব্যক্তি যদি বালতি করার জন্য কূপের মধ্যে ডুব দেয় তাহলে ইমাম আবূ ইউসূফের মতে সে জুনুবী থেকে যাবে। সে তার গায়ে পানি ঢালে নি। আর তার মতে ফরজ গোসল আদায় হওয়ার জন্য তা শর্ত। আর পানিও পূর্ব অবস্থায় পাক থাকবে; কেননা, উভয় কারণই এখানে অনুপস্থিত। ইমাম মুহাম্মদ(র.) এর মতে (পানি ও মানুষ) উভয়ই পাক। লোকটি পবিত্র হয়ে গেল পানি ঢালার শর্ত না হওয়ার কারণে, আর পানি পবিত্র থাকল সাওয়াবের নিয়্যত না থাকার কারণে। ইমাম আবূ হানাফী (র.) এর মতে উভয়ই অপবিত্র। পানি একারণে অপবিত্র যে, (পানির সাথে) প্রথম সংস্পর্শের সাথে সাথে শরীরের অংশবিশেষ থেকে জানাবাত দূরীভূত করা হয়েছে। আর লোকটি অপবিত্র এজন্য যে, অবশিষ্ট অংগে হাদাছ বিদ্যমান রয়ে গেছে। আর কেউ কেউ বলেন, তার মতে লোক অপবিত্র থাকার কারণ হলো ব্যবহৃত পানির অপবিত্র হওয়া। তার থেকে বর্ণিত আরেকটি মত হলো, লোকটি পবিত্র হয়ে যাবে। কেননা (শরীর থেকে) বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে পানির উপর ব্যবহৃত হওয়ার হুকুম আরোপ করা হয় না। তার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলোর মাঝে এটিই অধিক যুক্তিসংগত। শূকর ও মানুষের চামড়া ব্যতীত যে কোন চামড়া ‘পাকা করা হয় তা পাক হয়ে যায়। তাতে সালাত আদায় করা এবং তা থেকে (তৈরী পাত্রের পানি দিয়ে) অজু বৈধ। কেননা রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন- যে কোন চামড়া পাকা করা হয়, তা পাক হয়ে যায়। এ হাদিসটি তার অর্থ ব্যপকতার ভিত্তিতে মৃত পশুর চামড়ার ব্যাপারে ইমাম মালিক (র.) এর বিপক্ষে দলীল। আর মৃত পশুকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে বর্ণিত নিষেধবাণী- তোমরা মৃত পশুর চামড়া থেকে উপকার গ্রহণ কর না। এ হাদিস উপরোল্লেখিত হাদীছের বিপরীতে পেশ করা যাবে না। কেননা যে চামড়া পাকা করা হয়নি, তাকেই বলা হয়। তদ্রূপ আলোচ্য হাদিস কুকুরের চামড়ার ব্যাপারে ইমাম শাফিঈ (র.) এর বিপক্ষে দলীল। কেননা, কুকুর (শূকরের মত) সত্তাগত ভাবে নাপাক নয়। তুমি কি দেখতে পাচ্ছো না যে, পাহারা দেওয়া ও শিকার করার ক্ষেত্রে তার থেকে উপকার গ্রহণ করা হয়? আর শূকর হলো সত্তাগত ভাবেই নাপাক। কেননা আল্লাহ্ তাআলার বাণী (নিঃসন্দেহে তা নাপাকি) এর সর্বনাম নিকটবর্তী এর দিকে প্রত্যাবর্তিত। মানব দেহের কোন অংশ দ্বারা উপকার লাভ হওয়ার কারণ (নাপাকি নয় বরং) তার মর্যাদাও। সুতরাং এ দু’টি আমাদের বর্ণিত হাদীছের আওতার বাইরে। যা দুর্গন্ধ ও পচনে রোধ করে, তাকেই পাকা করা বলে; রোদে শুকিয়ে হোক বা মাটি মেখে হোক। কেননা মূল উদ্দেশ্য এর দ্বারা অর্জিত হয়। সুতরাং অন্য কোন শর্ত আরোপ করার কোন যুক্তি নেই। যে চামড়া পাকা করলে পাক হয়, তা যবাহ্ করার মাধ্যমেও পাক হয়। কেননা, যবাহ্ দ্বারা নাপাক আর্দ্রতা দূর করার ক্ষেত্রে পাকা করার ক্রিয়া পাওয়া যায়। এইরূপ যবাহ্ দ্বারা গোশতও পাক হয়ে যায়। এটাই বিশুদ্ধ মত। যদিও তা খাওয়া হালাল নাও হয়। মৃতপশুর পশম ও হাড় পাক। ইমাম শাফিঈ (র.) নাপাক বলেন, কেননা এগুলো মৃত পশুরই অংশ। আমাদের দলীল এই যে, তাতে প্রাণ নেই, এজন্য এগুলো কাটলে ব্যথা অনুভূত হয় না। সুতরাং এ দুটোতে মৃত্যু প্রবেশ করে না। কেননা মৃত্যু অর্থ প্রাণের বিলোপ। মানুষের চুল ও হাড় পাক। ইমাম শাফিঈ (র.) নাপাক বলেন। কেননা, এ দ্বারা উপকার লাভ করা বৈধ নয় এবং তা বিক্রি করাও বৈধ নয়। আমাদের দলীল এই যে, তার ব্যবহার ও বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ মানুষের মর্যাদা রক্ষা। সুতরাং তা তার নাজাসাতের পরিচায়ক নয়। মূল লেখক : বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবু বকর [রহ.] বাংলা অনুবাদ : মাওলানা আবু তাহের মেছবাহ গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : মাওলানা মিরাজ রহমান কৃতজ্ঞতায় : ইসলামিক ফাউণ্ডেশন