ছবি সংগৃহীত
একনজরে বিতরের নামাজের বিধি-বিধান
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৫, ০৩:২৮
ইমাম আবূ হানীফা (র.) এর মতে সালাতুল বিতর হলো ওয়াজিব। পক্ষান্তরে ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) বলেন, এটি সুন্নত। কেননা,তাতে সুন্নতের আলামতসমূহ সুপ্রকাশিত রয়েছে। কারণ, বিতর অস্বীকারকারীকে কাফির আখ্যায়িত করা যায় না। এবং এর জন্য আলাদা আযান দেওয়া হয় না। আবূ হানীফা (র.) এর দলীল হলো হাদীছে- আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের একটি সালাত বৃদ্ধি করেছেন। সেটা হলো বিতর। সুতরাং তা তোমরা ঈশা ও ফজর উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় কর। এখানে ‘আমর’ বা আদেশবাচক শব্দ এসেছে। আর তা দ্বারা ওয়াজিব হওয়া প্রমাণ করে। এজন্যই সর্বসম্মতিক্রমে তা কাযা করা ওয়াজিব। তবে বিতর অস্বীকারকারীকে কাফির আখ্যায়িত না করার কারণ এই যে, তার ওয়াজিব হওয়া হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। আবূ হানীফা (র.) থেকে বিতর সুন্নত হওয়ার যে বর্ণনা রয়েছে, তার অর্থ এই যে, তা সুন্নাহ্ দ্বারা প্রমাণিত। আর যেহেতু তা ‘ঈশার সময় আদায় করা হয়, সেহেতু ‘ঈশার আযান ও ইকামাতকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। ইমাম কুদূরী (র.) বলেন। বিতর হলো তিন রাকাআত, যার মাঝে সালাম দ্বারা ব্যবধান করা হবে না। কেননা, ‘আইশা (রা.) বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) তিন রাকাআতের বিতর আদায় করতেন। তদুপরি হাসান বসরী (র.) বিতরের তিন রাকাআতের ব্যাপারে মুসলিমদের ইজমা বর্ণনা করেছেন। এতে ইমাম শাফিঈ (র.) ও এক মত। অন্যমতে বিতর দুই সালামে আদায় করার কথা রয়েছে। ইমাম মালিক (র.) এর এই মত। আমাদের বর্ণিত হাদীছ তাদের বিপক্ষে প্রমাণ। আর তৃতীয় রাকাআতে ‘রুকু এর পূর্বে কুনূত পড়বে। ইমাম শাফিঈ (র.) বলেন, রুকুর পরে পড়বে। কেননা, বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বিতরের শেষে কুনূত পড়েছেন। আর তা রুকুর পরেই হবে। আমাদের দলীল হলো বর্ণিত হাদীছ যে, নবী করিম (সা.) রুকুর পূর্বে কুনূত পড়েছেন। আর যা অর্ধেকের বেশী, তাকে শেষাংশ বলা যায়। সারা বছরই কুনূত পড়া হবে। রমযানের শেষার্ধ ছাড়া অন্য সময়ের ব্যাপারে শাফিঈ (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। কেননা, হাসান ইবন আলী (রা.) কে কুনূতের দু’আ শিক্ষা দেয়ার সময় রাসূলুল্লাহ্ (সা.) সাধারণতঃ বলেছেন-এটা তোমার বিতর-এর মধ্যে পড়ো। বিতরের প্রত্যেক রাকাআতে সূরাতুল ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা পড়বে। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেন- কুরআনের যে অংশ তোমাদের জন্য সহজ হয় পড়ো। আর যখন কুনূত পড়ার ইচ্ছা করবে তখন তাকবীর বলবে। কেননা, অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আর উভয় হাত উঠাবে এবং কুনূত পড়বে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেছেন, কেবল সাতটি ক্ষেত্র ব্যতীত হাত উঠানো হবে না। তন্মধ্যে কুনূতের কথাও তিনি বলেছেন। এছাড়া অন্য কোন সালাতে কুনূত পড়বে না। ফজরের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈ (র.) এর ভিন্নমত রয়েছে। কেননা ইবন মাস’ঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলু্ল্লাহ্ (সা.) ফজরের সালাতে কুনূত পড়েছেন। পরে তা ছেড়ে দিয়েছেন। ইমাম যদি ফজরের সালাতে কুনূত পড়েন তবে আবূ হানীফা ও মুহাম্মদ (র.) এর মতে তার মুকতাদীরা নীরব থাকবে। আর আবূ ইউসূফ (র.) বলেন, মুকতাদী ইমামের অনুসরণ করবে (অর্থাত্ কুনুত পড়বে)। কেননা, সে তার ইমামের অনুগত। আর ফজরে কুনূত পড়ার বিষয় ইজতিহাদ নির্ভর। ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (র.) এর যুক্তি এই যে, ফজরের কুনূত রহিত হয়ে গেছে। আর যা রহিত হয়ে গেছে, তা অনুসরণযোগ্য নয়। তবে কথিত আছে যে, সে দাড়িয়ে থাকবে। যেন যে বিষয়ে ইমামের অনুসরণ আবশ্যক, সে বিষয়ে যথাসম্ভব ইমামের অনুসরণ বজায় থাকে। অন্য মতে মতভিন্নতা সাব্যস্ত করার জন্য বসা অবস্থায় থাকবে। কেননা নীরবতা অবলম্বনকারী আহবানকারীর সাথে শরীক বলেই গণ্য হয়ে থাকে। তবে প্রথম মতটি অধিক যুক্তিযুক্ত। এই মাসআলাটি শাফিঈ মাযহাব অনুসারীদের পিছনে ইকতিদার বৈধতা এবং বিতরে কুনূত পড়ার ক্ষেত্রে অনুসরণের বৈধতা প্রমাণ করে। মুকতাদী যদি ইমামের পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখতে পায়, যাতে সে ইমামের সালাত ফাসিদ মনে করে; যেমন, রক্ত যোক্ষণ করানো, ইত্যাদি তাহলে তার পিছনে ইকতিদা করা জাইয নয়। কুনূতের ক্ষেত্রে পছন্দনীয় হলো নীরবে পড়া, কেননা এটা দু’আ। মূল- শায়খুল ইসলাম বুরহান উদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবন আবূ বকর আল-ফারগানী [রহ.] অনুবাদ- মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ গ্রন্থনা ও সম্পাদনা- মাওলানা মিরাজ রহমান