(প্রিয়.কম) মিয়ানমারে সফররত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠককালে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি বলেছেন, ‘রাখাইন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে যারা (রোহিঙ্গা) অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার কাজ শুরু করেছে।’

২৫ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় নেপিদোতে ‘আন্তরিক পরিবেশে’ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু।

কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উল্ল্যেখ করে সু চি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঁচটি প্রস্তাব এবং আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠকের আগে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি। ছবি: সংগৃহীত।

শরীফ মাহমুদ অপু জানান, বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের অবৈধ পাচার এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও সু চিকে অবহিত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ফিরিয়ে না নিলে এদের অনেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যেতে পারে।’ সে সময় সন্ত্রাসবাদেরর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেশ দেশে কোনো সন্ত্রাসী প্রশ্রয় পাবে না।’

নেপিডোতে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও সু চিকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বৈঠকে সু চিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণও জানান আসাদুজ্জামান খাঁন।

বৈঠকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছেন সু চি। অবৈধ মাদক পাচারের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের যুবসমাজ ইয়াবায় আসক্ত। বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার রোধে সীমান্ত বন্ধ করবে মিয়ানমার।’

বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণের ব্যাপারে সু চি বলেন, ‘দুই দেশের সুবিধাজনক সময়ে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন।’

মিয়ানমারে সফররত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি।

মিয়ানমারে সফররত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা অং সান সু চি। ছবি: ফোকাস বাংলা।

এর আগে নেপিডোতে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল চ সুয়ি এবং পুলিশ প্রধানের সাথে বৈঠকের পর আসাদুজ্জামান খাঁন জানান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে দুই দেশের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে খুব শিগগিরই একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি নভেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে এই যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, কফি আনান কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে যৌথ এই কমিটি ঠিক করবে রোহিঙ্গাদের কীভাবে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার মিয়ানমার পৌঁছায়।

প্রতিনিধি দলে আছেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ