(প্রিয়.কম) সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করার একদিন পর মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গা সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত চেয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। ১৫ নভেম্বর বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তদন্ত দাবি করে করেন। 

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দেশটি। অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর চালানো নিপীড়নের কারণে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সচেতন রয়েছে। তবে এখনই দেশটির ওপর কোনো ধরনের অবরোধ আরোপ যুক্তিযুক্ত হবে না।

বেসামরিক প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তি হিসেবে সেনাবাহিনীর ওপর সুচির নিয়ন্ত্রণ নেই বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবারের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালাতে দেখে যুক্তরাষ্ট্র হতাশ হয়েছে। রাখাইনে যা ঘটেছে তা এক কথায় ভয়ঙ্কর।

একইসঙ্গে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) চালানো হামলারও নিন্দা জানান টিলারসন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জিরো টোলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।

এ ছাড়া মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই মিয়ানমার সফল হোক।

টিলারসন এই মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাড়ানোরও ঘোষণা দেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর নিষ্ঠুরতার বিষয়ে সুচির চুপ থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা বলেন, সেসময় তার কার্যালয় থেকে কয়েকটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। আর তিনি নিজেও সংকট নিয়ে কথা বলেছেন।

সুচি বলেন, আমি চুপ ছিলাম না। তবে যা বলেছিলাম, তা হয়তো মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ছিল না।

গতকাল মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে হত্যা ও ধর্ষণের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। বাড়িঘর পোড়ানো ও মালামাল লুটের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়। যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ওই এলাকা থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, স্থানীয় বৌদ্ধ নাগরিকদের সহায়তায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর নিপীড়ন চালানোয় পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এদিকে সেনাবাহিনী প্রকাশিত ওই অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক জেমস গোমেজ সেনাবাহিনীর এ অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনকে আবারও গোপন করতে চাইছে সেনাবাহিনী।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত