(প্রিয়.কম) বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বেশি দিন বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া কঠিন হবে। রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে হবে। এজন্য দরকার জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা।’

৩০ অক্টোবর সোমবার দুপুরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করার সময় এ কথা বলেন তিনি।  

খালেদা জিয়া বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ খুব গরিব দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘদিন রাখা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে সরকারের যেভাবে দাঁড়ানোর কথা ছিল, সেভাবে তারা দাঁড়ায়নি। এমনকি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে ঠিকভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়নি।

এছাড়া মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘মানবতার স্বার্থে আপনাদের দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। তাদের নিরাপত্তাসহ সকল নাগরিক অধিকার দিন। বর্ষা গেল, সামনে শীত আসছে। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে।’ 

দুপুরের দিকে ময়নারগোনা শরণার্থী শিবিরে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি। ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মইন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

কথা বলছেন খালেদা জিয়া

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ১১০ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শিশুখাদ্য ও ৫ হাজার প্রসূতি মায়ের খাদ্য তদারককারী সেনা কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রোববার রাত ৮টা ৫ মিনিটে কক্সবাজার সার্কিট হাউজে পৌঁছান বিএনপি নেত্রী। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করতে কক্সবাজার শহর থেকে উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সার্কিট হাউজে যান। এ ছাড়া মহাসড়কের রাস্তার দুপাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাতে দাঁড়িয়ে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

এর আগে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তাদের ত্রাণ দিতে শনিবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা দেন তিনি।   

প্রিয় সংবাদ/রিমন