(প্রিয়.কম) মিয়ানমারেরাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনা অভিযানে নির্বিচার গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নি সংযোগের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘ফ্রিডম অব ডাবলিন সিটি’ অ্যাওয়ার্ডের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি

যুক্তরাজ্যেআয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের কাউন্সিলররা ভোট প্রদানের মাধ্যমে সু চি’কে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আয়ারল্যান্ডের সরকারি বার্তাসংস্থা জানায়, নগরের ৬২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে সু চি’কে তালিকা থেকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন ৫৯ জন।

এর আগে সু চি’কে এই খেতাব দেয়ার প্রতিবাদে গত নভেম্বর মাসে পপ তারকা বব গেল্ডফ তার ‘ফ্রিডম অব ডাবলিন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। একই মাসে সু চি’র ‘ফ্রিডম অব দি সিটি’ খেতাব প্রত্যাহার করে নেয় ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল। তাছাড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ’স কলেজ থেকেও সু চির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। এ কলেজেই সু চি তার উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। ছবি: ফোকাস বাংলাপ্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৪০ হাজার মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ৪ লাখ ৫০  রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে; যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারই নতুন। এসব শিশুর মধ্যে আবার অভিভাবকহীন ৩৬ হাজার ৩৭৩ শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। পালিয়ে আসা শিশু শরণার্থীদের বাইরেও প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ নবজাতক। 

বর্বর ওই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচার গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ