(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নৃশংস সেনা অভিযানের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে । ১০ নভেম্বর শুক্রবার সকালে ১০টি বিশেষ ভেলায় চড়ে নাফ নদী পেরিয়ে শাহপরীর দ্বীপে এসেছে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা। এ নিয়ে শুধু ভেলায় চড়ে গত তিন দিনে বাংলাদেশে প্রবেশ করেল সাত শতাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী।

শুক্রবার সকালে ভেলায় চড়ে পাঁচশতাধিক রোহিঙ্গা আসার বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার প্রথমবারের মতো ভেলায় চড়ে ৫২ জন, বৃহস্পতিবার একই ভাবে ১৩২ নিরাপদে বাংলাদেশে এসেছে। ভেলায় নিরপদে নদী পার হওয়ার খবরেই হয়তো ভেলার ওপর রোহিঙ্গাদের নির্ভরতা বেড়েছে।

তিনি জানান, বাঁশ, কাঠ, প্লাস্টিকের জারিকেন ইত্যাদি দিয়ে ৮০০ থেকে ১০০০ বর্গফুটের ভেলা বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে আসতে রোহিঙ্গা।  

ভেলায় আসা এক রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে বিজিবির এই কর্মকর্তা আরো জানান, নৌকা সংকটের কারণেই নিজেরা ভেলা বানিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে তারা। এসব রোহিঙ্গারা দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দাঁড় টেনে শাহপরীর দ্বীপে উঠতে সক্ষম হচ্ছেন।  

ভেলায় চড়ে নাফ নদী পার হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, উত্তাল নদীটি ভেলায় পাড়ি দেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে ভেলায় আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। যে কোন সময়ই হয়তো বড় কোন দুর্ঘনার সংবাদ পাবো। 

টেকনাফ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন খান জানান, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর প্রথম দিকে স্থানীয় জেলেরা নৌকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের এপাড়ে নিয়ে আসছিল। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের লোভে অতিরিক্ত লোক বোঝাইয়ের কারণে এ পর্যন্ত ২৮টি নৌকা ডুবে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। অনাকাঙ্খিত এসব প্রাণহানি ঠেকাতে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা বোঝাই বেশ কিছু নৌকার মাঝি, মালিক, দালালসহ ৪৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ফলে ভয়ে অনেক নৌকার মালিক-মাঝিই আর নদীতে নৌকা নামানোর সাহস করছেন না। তাই বাধ্য হয়েই রোহিঙ্গারা হয়তো এ কৌশল নিয়েছে।

এর আগে গত ৮ নভেম্বর বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রথমবারের মতো ৫২ জন রোহিঙ্গা নিয়ে প্লাস্টিক ও বাঁশ দিয়ে তৈরী একটি ভেলা কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছায়। 

পরদিন ০৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ও বিকেলে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহ পরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও জেটিঘাট পয়েন্ট দিয়ে পৃথক দুইটি ভেলায় চড়ে আরো ১৩০ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর শুক্রবার ভেলায় চড়ে তৃতীয় দিনের মতো সর্বাধিক পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করল। 

প্রিয়ং সংবাদ/