(প্রিয়.কম) মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর হত্যার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে আরাকান স্বাধীন করার জন্য ‘সরকারকে যুদ্ধ ঘোষণার’ আহ্বান জানিয়েছে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পর এক বিক্ষোভে এই আহ্বান জানান সংগঠনটির নায়েবে আমির নূর হোসেন কাশেমী।

হেফাজতের নায়েবে আমির বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরাকানে গণহত্যা চালাচ্ছে। আমি এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে সরকারকে বলব, কূটনৈতিকভাবে সমাধান করুন। যদি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান না হয় তবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করুন। বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ প্রস্তুত রয়েছে জেহাদের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর যে জুলুম হয়েছে, তা মেনে নেয়া যায় না। আসুন, আমরা আরাকানকে স্বাধীন করি। বাংলাদেশের সবাই এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। সরকার যদি এই জিহাদে নেতৃত্ব দেন, সর্বস্তরের জনগণ তাতে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’ কালক্ষেপণ না করে মিয়ানমারের ‍বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান তিনি।

বিক্ষোভে হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি জোনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘আমরা আরাকানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তা দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। রোহিঙ্গা সমস্যার একটাই সমাধান, সেটা হলো জেহাদ। জেহাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের আরাকান স্বাধীন করতে চাই। আমরা চাই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এই জেহাদের ঘোষণা আসুক। বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এই জেহাদের জন্য প্রস্তুত।’

হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সহসভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ‘বাংলার মানুষ আরাকানের স্বাধীনতা চায়। সরকারের উচিত হবে আরাকান যুবকদের হাতে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়ে আরাকানে মুক্তিযুদ্ধের জন্য পাঠানো। আরাকানের স্বাধীনতাই রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান।’

হাটহাজারী মাদ্রাসার জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রতিনিধি মাওলানা রকিবুল ইসলাম সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার একমাত্র সমাধান জেহাদ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন, হেফাজত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ফিরে আসে। এ ছাড়া খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের ব্যানারেও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

 

প্রিয় সংবাদ/সজিব