ছবি সংগৃহীত
যিনা-ব্যভিচারের কারণে সমাজে যে ৫টি ধ্বংসাত্মক পরিণাম দেখা দেয়
আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৫, ০২:৪০
হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলেন, ما ظهر الربا و الزنا في قرية الا اذن الله باهلاكها # الجواب الكافي ص۲۲۰ ‘যে সমাজে সুদ ঘুষ ও যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় আল্লাহপাক তা ধ্বংস করে দেয়ার কথা বলেন।’ এতে বোঝা গেলো যিনা ব্যভিচার আবাদি বিরান করে দেয়। যেখানে যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় সেখানে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হয়। আস্তে আস্তে তা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। ১. বিপদ মসিবত : ছিদ্দীকে আকবর রাযি. যখন খলিফা হলেন সকল মুসলমান তার হাতে বয়াত গ্রহণ করলেন। খলিফা হয়ে মিম্বরে বসে সর্বপ্রথম যে ভাষণ তিনি দিয়েছেন সেখানে অন্যান্য বিষয়ের সাথে একথাও ছিলো—দেখো যে জাতি আল্লাহর রাসত্মায় জেহাদ ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত অপমানিত করেন। আর যে সমাজে যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় বিভিন্ন বিপদাপদ তাদের ঘিরে ধরে। [তারিখে মিল্লাত] প্রথম খলিফা তার প্রথম ভষণে এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে একথাই বোঝাতে চেয়েছেন ইসলামে সচ্চরিত্র ও পবিত্রতার গুরম্নত্ব কতোখানি! যিনা ব্যভিচার একটা সুখী সমৃদ্ধ ও সুন্দর জনপদ অনায়েসে ধ্বংস করে দিতে পারে। আজ যা দেখো যাচ্ছে ইসলামের প্রথম খলিফাই সেদিকেই যেনো ইঙ্গিত করেছেন। ২. মহামারি : এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, و لا فشا الزنا في قوم الا كثر فيهم الموت # مشكوة ص٤٥۹ ‘যে সমাজে যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় সেখানে মহামারি দেখা দেয়।’ একটা লম্বা হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি গুনাহ ও তার ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেখানে একথাটাও ছিলো—যে সমাজে যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায়, প্রকাশ্যে হয় যিনা ব্যভিচার আল্লাহ তাআলা তাদের মহামারিতে আক্রামণ করেন। এমন সব রোগ- ব্যাধিতে আক্রামত্ম করেন যা তাদের পূর্বপুরম্নষা জানতো না। [ইবনে মাজা] ৩. খরা অনাবৃষ্টি : এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ما من قوم يظهر فيهم الزنا الا اخذوا بالسنة و ما من قوم يظهر فيهم الرشا الا اخذوا بالرعب رواه احمد # مشكوة باب الحدود ص۳۱۳ ‘ যে সম্প্রদায়ের মাঝে যিনা ব্যভিচার বেড়ে যায় তাদেরকে দুর্ভিক্ষ পীড়িত করা হয়। আর যাদের মাঝে সুদ-ঘুষের প্রচলন বেশি হয় তাদেরকে কাপুরম্নষতায় আক্রামত্ম করা হয়।’ ৪. ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি হয় : মানুষ যখন নিজের স্বভাব চরিত্র কলঙ্কিত করে, দীন ও শরিয়তের কোনো পরোয়া না করে, বৈধ অবৈধের সীমারেখা মিটিয়ে দেয়; তখন পুরো জাতিকে ফেতনা ফাসাদে আক্রামত্ম করা হয়। বনি ইসরাইল—যারা ছিলো পৃথিবীতে আল্লাহর নির্বাচিত এক ঐতিহাসিক জাতি—তাদের মাঝেও সর্বপ্রথম দেখা দিয়েছে নারীঘটিত ফেতনা। ফেতনা যখন শুরম্ন হলো পুরো জাতি তছনছ হয়ে গেলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদিকেই ইশারা করে বলেছেন, فاتقوا الدنيا واتقوا النساء فان اول فتنة بني اسرائيل كانت في النساء # مشكوة باب النكاح ‘তোমরা দুনিয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকো এবং নারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কেননা বনি ইসরাইলের মাঝে প্রথম দেখা দিয়েছিলো নারীঘটিত ফেতনা।’ ৫. ইসলাম বিমুখের পরিণাম : চারিত্রিক পবিত্রতা ও শুচিশুভ্রতার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি মোটামুটি বর্ণিত হলো। এবার হালআমলের কিছু রির্পোট শুনুন। আমেরিকাকে বর্তমানে শিক্ষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির পীঠস্থান মনে করা হয়। অথচ সেখানে যিনা ব্যভিচারের পরিসংখ্যান কতো ভয়াবহ দেখুন! ত্রিশ থেকে চলিস্নশ হাজার বাচ্চা শুধু বংশানুক্রমিক প্রমেহ রোগে মারা যায়। বিবাহিত অবিবাহিত নির্বিশেষে শতকারা ষাটজন সিফিলিস গনোরিয়ায় আক্রামত্ম। মহিলাদের জরায়ুতে যত অপারেশন হয় শতকারা পঁচাত্তরজনের জরায়ুতে পাওয়া যায় সিফিলিস গনোরিয়ার জীবাণু। মূল- মাওলানা জফিরুদ্দিন অনুবাদ- মাওলানা মিরাজ রহমান