চমক দেয়ার অপেক্ষায় আফগানিস্তান

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০১৯-০৫-১৮ ০০:০০:০০

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৫ সালে। দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহযোগী সদস্যপদ লাভ করে ২০০১ সালে। তবে ক্রিকেট বিশ্বে আফগানিস্তান আলোচনায় আসে ২০০৯-এ। গত ১০ বছরে দ্রুত উন্নতি হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির। ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আফগানিস্তান নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে এবার। বাছাইপর্বের ফাইনালে দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। গত এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় ও ভারতের বিপক্ষে জিততে জিততে টাই করা আফগানিস্তানকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না ক্রিকেটবোদ্ধারা। স্পিনাররাই মূল শক্তি দলটির। তবে মোহাম্মদ শাহজাদ-হযরতুল্লাহ জাজাইয়ের মতো হার্ড হিটার ব্যাটসম্যানও রয়েছে আফগানিস্তানের। রয়েছে রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীর মতো বিশ্ব মাতানো পরীক্ষিত অলরাউন্ডার।ব্যাটিংয়ে ভরসা যারাব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ভরসা ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান রহমত শাহ। দু’জনই মারকুটে স্বভাবের। বড় ইনিংস খেলারও অভিজ্ঞতা আছে। মিডল অর্ডারে আফগানিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান আসগর আফগান। সাবেক সফল অধিনায়ক আসগর ১০০ ওয়ানডেতে ২০৩৫ রান সংগ্রহ করেছেন। ১ সেঞ্চুরির সঙ্গে ১১ হাফসেঞ্চুরি রয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান জাভেদ আহমাদিও। ২০১০ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন জাভেদ। ইতিমধ্যে আফগানদের হয়ে ৪২ ম্যাচে ৭ হাফসেঞ্চুরিতে সাহায্যে ৯৭১ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজেও একাদশে ছিলেন জাভেদ। বলা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে প্রচুর রান হবে। ৩০০ ছাড়ানো স্কোর দেখা যাবে নিয়মিত। ফলে প্রতিটি দলই নিচের দিকে হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান রেখেছে। এই জায়গায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে আফগানিস্তানের। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ৭ নম্বরে নেমে সেঞ্চুরি হাঁকান নাজিবুল্লাহ জাদরান। এখন পর্যন্ত ৫৫ ওয়ানডে ম্যাচে একটি শতক ও আটটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন নাজিবুল্লাহ। ২৮.৮০ ব্যাটিং গড়ে করেছেন ১২১০ রান। তার স্ট্রাইকরেটটাও মন্দ নয়- ৮৮.১৯। আর আইপিএল খেলার সুবাদে মোহাম্মদ নবী-রশিদ খানরাও ভালোই ব্যাট চালাতে পারেন। লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান নবী ২৯.১৪ গড়ে ২৫৬৫ রান করেছেন। একটি সেঞ্চুরি ও ১৩ হাফসেঞ্চুরি রয়েছে নবীর। ওয়ানডেতে রশিদের স্ট্রাইকরেট একশ’র উপরে। ৫৭ ম্যাচে ৪টি অর্ধশত রয়েছে তার।   বোলিংয়ে সেরা অস্ত্রপ্রথমেই রশিদ খানের কথা বলতে হয়। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার তিনি। ওয়ানডে বোলার র‌্যাঙ্কিংয়ে ২০ বছর বয়সী রশিদের অবস্থান তৃতীয় স্থানে। মাত্র ৫৭ ম্যাচেই রশিদ নিয়েছেন ১২৩ উইকেট। গড় ১৫.০০! ইকোনমি রেট ৩.৯০। যদিও রশিদ অধিকাংশ উইকেট পেয়েছেন সহযোগি দেশগুলোর বিপক্ষে। কিন্তু রশিদের সামনে বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যানদেরও ধুঁকতে দেখা গেছে। রশিদের সঙ্গে আছেন ১৮ বছর বয়সী অফস্পিনার মুজিব উর রহমান। ২৮ ওয়ানডেতে ১৮.০০ গড়ে তিনি নিয়েছেন ৫১ উইকেট। ৩৪ বছর বয়সী অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর কথাও বলতে হবে। আফগানিস্তান দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তিনি। ইনিংসের মাঝপথে প্রতিপক্ষের রানের চাকা আটকে রাখতে ও ব্রেকথ্রো দিতে বেশ পটু নবী। তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে স্পিনারদের চেয়ে পেসাররা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে আফগানিস্তানের মূল অস্ত্র ৩১ বছর বয়সী দৌলত জাদরান। আফগানিস্তানের একমাত্র পেসার হিসেবে শতাধিক ওয়ানডে উইকেট নেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে ডানহাতি এই পেসারের। এখন পর্যন্ত ৭৫ ম্যাচে তার শিকার ১০৩ উইকেট।কতদূর যেতে পারবে আফগানিস্তান?গ্রুপ পর্ব নেই এবারের বিশ্বকাপে। রাউন্ড রবিন লীগ শেষে সরাসরি সেমিফাইনাল। ফলে প্রতিটি দলকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করতে হবে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো দলকে টেক্কা দিয়ে আফগানিস্তানের শেষ চারে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণই। তবে ১০ দলের মধ্যে ৬-৭ নম্বরে থাকাটাও হবে তাদের জন্য বড় অর্জন। আফগানিস্তানের মূল টার্গেট থাকবে শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচগুলো।স্কোয়াড: গুলবাদিন নাইব (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শাহজাদ, নূর আলী জাদরান, হজরতুল্লাহ জাজাই, রহমত শাহ, আসগর আফগান, হাশমতুল্লাহ শাহিদি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, দৌলত জাদরান, আফতাব আলম, হামিদ হাসান ও মুজিব উর রহমান।বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সূচিতারিখ    প্রতিপক্ষ    ভেন্যু১ জুন    অস্ট্রেলিয়া    ব্রিস্টল৪ঠা জুন    শ্রীলঙ্কা    কার্ডিফ৮ই জুন    নিউজিল্যান্ড    টন্টন১৫ই জুন    দক্ষিণ আফ্রিকা    কার্ডিফ১৮ই জুন    ইংল্যান্ড    ম্যানচেস্টার২২শে জুন    ভারত    সাউদাম্পটন২৪শে জুন    বাংলাদেশ    সাউদাম্পটন২৯শে জুন    পাকিস্তান    লিডস৪ঠা জুলাই    ওয়েস্ট ইন্ডিজ    লিডস

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

আরও