এগারো বছর পর...

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০১৯-০৪-২১ ০০:০০:০০

দেশীয় চলচ্চিত্রের আজকের এই দুর্দশার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয় চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন না হওয়া। চলচ্চিত্রের অন্যান্য সংগঠনের নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলেও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন। যখনই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখনই এক পক্ষ প্রস্তুতি নিলেও আরেক পক্ষ আদালতে মামলা করে তা বন্ধ করে দিয়েছে। এরইমধ্যে ঢাকায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি চালিয়ে আসছেন একজন সরকারি প্রশাসক। সমিতির ২০০৫-০৭ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মাঝের এক বছর সাত মাস দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসক। এরপর সমিতির নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে আর নির্বাচন হয়নি। এখনো প্রশাসক দিয়ে চলছে এ সমিতি। তবে আশার খবর হলো এগারো বছর পর আবার চলতি বছর হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন। এ নির্বাচন হবে আগামী জুলাই মাসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির অফিস সেক্রেটারি সোমেন বাবু। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর এবার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও আপিল বোর্ডের কমিটির নাম প্রকাশ হয়েছে। এবার আসন্ন এই নির্বাচনের দায়িত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আবদুর রহিম খান, সদস্য হিসেবে থাকছেন আবদুছ সামাদ আল আজাদ (উপ-সচিব) ও সৈয়দা নাহিদা হাবিবা (উপ-সচিব)। নির্বাচনের বিষয়ে আপিল বোর্ডের সদস্য সৈয়দা নাহিদা হাবিবা বলেন, আগামী ২৭শে এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল এবং ২৭শে জুলাই চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলচ্চিত্র প্রযোজক শামসুল আলম বলেন, বহুদিন পর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটা সত্যিই একটা আনন্দের সংবাদ। চলচ্চিত্রের সময়টা খারাপ যাচ্ছে। সকলে মিলে নির্বাচনটা এবার সুষ্ঠভাবে হোক এটাই চাওয়া। প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, চলচ্চিত্র প্রযোজকদের প্রাণের নির্বাচনটা অবশেষে হতে যাচ্ছে জেনে আমার খুবই ভালো লাগছে। সকলে মিলে চলচ্চিত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিব বলে আশা করছি। প্রযোজক ও নির্মাতা এ জে রানা বলেন, আমাদের এখন সবকিছু ভুলে গিয়ে নির্বাচনকে প্রাধান্য দিতে হবে। আর মামলা মোকাদ্দমায় করে নির্বাচনটা নষ্ট করা যাবে না। বলতে গেলে এক কথায় যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচনটা এবার জরুরি। প্রযোজক সমিতি টিকে থাকলে অনেক নতুন প্রযোজক ছবিতে লগ্নি করার আগে একজন সদস্য হিসেবে একটা ভালো দিকনির্দেশনা পাবে এই সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে, যেটা এখন পাচ্ছে না। আর সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে সামনে সিনেমার মানটাও বাড়বে। নির্বাচনটা ঠিকভাবে হলে চলচ্চিত্রের নির্মাণও বাড়বে বলে আশা করছি। এবারের প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচনের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন মিরাজুল ইসলাম উকিল (উপ-সচিব) এবং সদস্য হিসেবে থাকবেন মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (উপ-সচিব) ও খাদেমুল ইসলাম (সহকারী প্রোগ্রামার)। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মধুমিতা মুভিজের কর্ণধার ইখতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, আর কতদিন প্রশাসকের হাতে থাকবে সমিতি। চলচ্চিত্র তো ডুবে যাচ্ছে। যাইহোক শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সমিতির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ২০০ সদস্য। এছাড়া সহযোগী সদস্য হিসেবে আরো রয়েছেন ৫০ জন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

আরও