পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০১৯-১১-২০ ০০:০০:০০

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিকে এতদিন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন হিসেবে বিবেচনা করতো যুক্তরাষ্ট্র। তবে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দখলকৃত ওই ভূমিতে ইসরাইলি বসতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, এখন থেকে আর ওইসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিবেচনা করবে না ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে তিনিদাবি করেছেন, পশ্চিম তীর প্রকৃতপক্ষে ইসরাইলের অংশ। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। এ ঘোষণার মধ্যদিয়ে কার্যত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি স্থাপনকে উৎসাহিত করলো যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে যেকোনো ইসরাইলি স্থাপনাই অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের এমন কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সাব্যস্ত করে আসছিলো। সর্বশেষ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ২০১৬ সালের শেষের দিকে ইসরাইলের অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধে জাতিসংঘের এক প্রস্তাবে ভেটো দেয়া থেকে বিরত থাকে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইসরাইলের প্রতি নানা ইস্যুতে মার্কিন অবস্থানের পরিবর্তন এনেছেন। পম্পেও বলেন, ডনাল্ড ট্রামেপর প্রশাসন আর ১৯৭৮ সালে জিমি কার্টারের প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত নীতি মেনে চলবে না। ওই সময়ই প্রথম ইসরাইলের এই বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিহীন আখ্যা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমল থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকে সরাসরি ‘অবৈধ’ বলা থেকে সরে এসে ‘বেআইনি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এবার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে না বলে ঘোষণা করা হলো। ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে এর কঠিন প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন। সেখানকার মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এর নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, এ ধরনের রেজ্যুলুশন বাতিলের কোনো অধিকার ওয়াশিংটনের নেই। এদিকে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে ঐতিহাসিক এক ভুলকে সঠিক করা হলো। এ ছাড়া, ইসরাইলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী গিলাদ এরদান যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইট করেছেন।পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে গড়ে ওঠা সকল ইসরাইলি স্থাপনাকে অবৈধ ঘোষণা করে জাতিসংঘে বেশ কয়েকটি রেজ্যুলুশন পাস হয়েছে। যার মধ্যে ২০১৬ সালে পাস হওয়া এক রেজ্যুলুশনে বলা হয়েছে, এটি ৪র্থ জেনেভা কনভেনশন পরিপন্থি। এর মধ্যদিয়ে ইসরাইলকে দখলদারি শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বলা হয়, দখলদারি দেশটি তার শক্তি ব্যবহার করে অন্যের ভূমিতে নিজের জনগণকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন ছাড়াও এ ধরনের অবৈধ বসতি স্থাপনকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার সব থেকে বড় বাধা হিসেবে নানা সময়ে আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর পরের বছর আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরিত করে জেরুজালেমে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যদিয়ে জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী করার যে স্বপ্ন ফিলিস্তিনিরা দেখছেন তা আরো কঠিন করে তোলা হয়। এরপর এ বছরের মার্চ মাসে ইসরাইল কর্তৃক সিরিয়ার গোলান হাইটস দখলকে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ ভূমির ওপর ইসরাইলের অধিকারের স্বীকৃতিকে ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে নেতানিয়াহুর জন্য বড় উপহার হিসেবে। এরপর সোমবার দখলকৃত ভূমিকে ইসরাইলি বসতিকে ‘বৈধ’ স্বীকৃতি দেয়াকে আরেকটি মার্কিন উপহার হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরাইল। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে সেখানে বসতি স্থাপন করে আসছে দেশটি। হিসাব অনুযায়ী দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে মোট ৬ লাখ ইসরাইলি বসবাস করেন। এই এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৩০ লাখের কিছু বেশি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

আরও