‘দায়টা নিতে হবে নতুন কোচদেরই’

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ইন্দোর টেস্টে দুই স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ দল। টাইগারদের দুই সেরা স্পিনারের ওপর ভরসা রাখে দলের থিঙ্ক ট্যাংক। একজন তরুণ অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও অন্যজন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। কিন্তু দু’জনের বোলিং ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর কোনো ধরনের চাপ তৈরি করতে ব্যর্থ। দু’জনই রান খরচে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে উইকেট তুলে নিয়েছেন শুধুমাত্র মিরাজ, তাও একটি। অথচ বাংলাদেশ দলের অন্যতম শক্তিই স্পিন বোলিং। তাই এমন পারফরম্যান্সের পর সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের স্পিন কোচের দায়িত্ব পালন করা ভারতের সুনীল জোশিও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন তার শিষ্যদের ওপর। তিনি এতটাই চটেছেন যে, স্পিনারদের নিয়ে কথাই বলতে চাননি। তবে সাবেক গুরু বলে কথা, তাই অবশেষে মুখ খুললেন তিনি। দৈনিক মানবজমিনকে জোশি বলেন, ‘মিরাজ ও তাইজুলের পারফরম্যান্স দেখে আমি খুবই হতাশ। ওরা এত বাজে বল করতে পারে সেটি আমি ভাবিনি। ওদের বল করতে দেখে আমি বিরক্ত বোধ করছিলাম। ওদের কোন কিছুই ঠিক ছিল না। বল ছাড়া এমনকি নিয়ন্ত্রণ কোনটাই করতে পারেনি ঠিকভাবে।’ এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ভেট্টরি। ভারতের বিপক্ষে সিরিজে দলের স্পিনারদের নিয়ে কাজ করছেন এই কোচ। তাই সাবেক স্পিন কোচ জোশি স্পিনারদের নিম্নমূখী পারফরম্যান্স নিয়ে তেমন কিছু বলতে রাজি হলেন না। তিনি বলেন, ‘তোমাদের তো নতুন কোচ এসেছে। তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমি ভেট্টোরির কোচিং নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। তবে আমি বলবো যে স্পিনারদের আমি রেখে এসেছি, ভারতে আমি তাদের পাফরম্যান্স খুঁজে পাইনি।’ অন্যদিকে স্পিনারদের বাজে বোলিংয়ের জন্য ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামের উইকেটকেও দায়ী করতে রাজি নয় জোশি। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, উইকেটে পেসারদের জন্য সহায়তা ছিল। কিন্তু ওরা যে বল করেছে তা কোনভাবেই ভালো হয়নি। আমাদের অশ্বিন কি উইকেট পায়নি! ওতো নিজের লাইন লেন্থ ঠিকই রেখেছে। আমি বলছি মিরাজ বা তাইজুল যে মানের স্পিনার তারা আরো ভালো বল করতে পারতো।’ টাইগারদের সাবেক এই স্পিন কোচের কথার সুরেই বোঝা গেলো তার অভিমানও আছে। শুরুতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা তেমন বলতে চাইলেন না। পরে বলেন, ‘কি বলবো ভারতের মতো সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে গেলে এমনটা হয়ই। তবে আমি মনে করি তোমাদের নতুন কোচদের দায়টা নিতে হবে। তারা ভালো জানেন কেন এমন করলো দল আমি যদি এখন কিছু বলি তারা বিরক্ত হতে পারেন মন খারাপও করতে পারেন। এখন দায়িত্বটা তাদেরই কেন এমন হলো তা খুঁজে বের করার। আমি শুধু বলবো মানসিকভাবে ওদের আরো শক্ত হতে হবে। টেস্টে খেলতে হলে এমন ভয় পেলে চলবে না।’ ইন্দোর টেস্ট শেষ। আলোচনায় এখন কলকাতা। এরই মধ্যে গোলাপি বল ও দিন-রাতের টেস্ট নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছে এবারও তিন দিনেই শেষ হবে দ্বিতীয় টেস্ট। তবে দুই দলই প্রথম খেলছে গোলাপি বলে। তাই সুনীল জোশির পরামর্শ ‘ভয়ডরহীন খেলা’। তিনি বলেন, ‘ভারতের এই দলের বিপক্ষে লড়াই করা ভীষন কঠিন। যে কারণে আমি পরামর্শ দিব ভয়ডরহীন খেলে যেতে হবে। কারণ টেস্টে মানকিসকতা শক্ত না হলে জয় পরের বিষয়- ড্রও সম্ভব নয়। আর ইডেনে তিন পেসার নিয়ে খেললেই মনে হয় ভালো হবে। কারণ স্পিনারদের মধ্যে আমি আত্মবিশ্বান দেখছি না।’ বাংলাদেশে আসার ফের আমন্ত্রণ পেলে কাজ করবেন কিনা সেই প্রশ্নের জবাবে কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন সুনীল জোশি। পরে বলেন, ‘কেন নয়, আমাকে ডাকলে আমি টাইগারদের স্পিন নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। আমি বলতে চাই না আগে কি করেছি। তবে আমি ডাক পেলে অবশ্যই ভাববো।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

আরও