আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ বিএনপি নেতাদের

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০১৯-১১-০৯ ০০:০০:০০

আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তারা। মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা করার অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে দুইদিন আগেই পেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু গতকাল বাদ জুমা থেকে আলোচনা সভার কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে নাট্যমঞ্চের হলরুম ব্যবহার করার অনুমতি পায়নি দলটি। সকাল থেকে হল রুমের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। অবশ্য বিকাল তিনটায় হলরুমে আলোচনা সভা করার জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমতি দেয়া হয়। আধ ঘন্টার মধ্যে মঞ্চ তৈরির কাজ শেষে আলোচনা সভা শুরু হয়। এ সময় বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আলোচনা সভায় অংশ নেন। এ সময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জোরালো আন্দোলনের ডাক দেয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের প্রতি দাবি জানান।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। মানুষের যে আকুতি, এই যে আবেদন, সেটা হল স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার। সাদেক হোসেন খোকা দেশ রক্ষার জন্য লড়াই করে যুদ্ধ করেছেন। এমন অসংখ্য নেতাকর্মী আছেন যারা নিহত হয়েছেন, গুম হয়ে গেছেন। এর একটাই কারণ যে, আমরা একটা স্বাধীন দেশ চাই। দেশে গণতন্ত্র চাই। আমারা একটা মুক্ত পৃথিবী চাই। যারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছেন তারা বলেন, ৭ই নভেম্বর আমরা মানি না। আমি বলি, আপনারা এটা মানবেন কেন। আপনারাতো এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না। আজকে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে, যারা বাংলাদেশকে একটা স্বাধীন রাষ্ট হিসেবে দেখতে চায়, বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে আছে এমন একটা দেশ দেখতে চায়, তারাই ৭ই নভেম্বরকে মানে এবং পালন করে। ফখরুল বলেন, এই সরকার দেশটাকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা মানুষকে সুশাসন থেকে বঞ্চিত করছে। তারা নিজেদের দুর্নীতি ঢাকার জন্য এখন চুনোপুটিগুলোকে ধরছে। একটা কথা পরিস্কার করে বলতে চাই। এই চুনোপুটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে আপনি মূল দুর্নীতি আড়াল করতে পারবেন না। হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন তার হিসাব কোথায়? এগুলোর হিসাব থাকবে না। কারণ যারা এই টাকা লুট করেছে, এরা আপনার কেউ মন্ত্রী, কেউ উপদেষ্টা, কেউ আপনার আপনজন।  দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য জনগনকে রাস্তায় নামার আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এই দেশকে মুক্ত করতে হলে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে, আমাদের রাস্তার নামার কোন বিকল্প নাই। কোন ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্তি এককভাবে করা যায় না। তাই আমরা দেশপ্রেমী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো একত্র করে এই একনায়ক ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করব।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে যে বাকশাল সৃষ্টি করা হয়েছিল তার থেকে এই দেশকে রক্ষা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ঠিক এখন আবারো একটি বাকশাল তৈরি করেছে আওয়ামীলীগ। দেশে আজ দুর্নীতির রোল মডেল হয়েছে, অত্যাচার অনাচারের রোল মডেল হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরে পচন ধরেছে। এই অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। তাই আমাদের আন্দোলনে নামার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে সরকারের লোকেরা নতুন করে আওয়াজ শুরু করেছে। ১৯৮০ সালে আমার যে বই বেরিয়েছিল সেটার প্রতিবাদ তারা করেননি। সেখানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে কিভাবে, কখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং এটা অনস্বীকার্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক।আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমূখ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

স্পন্সরড কনটেন্ট

আরও