জাতিসংঘের বিশেষ দূতকে মিয়ানমারে প্রবেশে বাধা

(প্রিয়.কম) মিয়ানমার সরকারের বাধার মুখে পড়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও স্বাধীন তদন্তকারী ইয়ানঘি লি। বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে দেশটিতে তার আসন্ন সফরে কোন ধরণের সহযোগিতা না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নসহ দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে।

এক লিখিত বিবৃতিতে ইয়ানঘি লি বলেন, ‘অসহযোগিতা করবার এই ঘোষণাকে একমাত্র সেই দৃষ্টিতেই দেখা যায় যে রাখাইনে আসলে মারাত্মক কিছুই ঘটছে। এমনকি দেশির বাকি অংশেও আসলে তাই ঘটছে। এটা লজ্জার যে মিয়ানমার এই পথ বেছে নিয়েছে।’

বিবৃতিতে ওয়ানঘি লি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার বরাবরই রাখাইন এবং দেশের অন্যান্য অংশে মানবাধিকার লংঘনের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে তাদের লুকানোর কিছু নেই, অথচ আমার প্রতি নির্দেশ থাকা সত্বেও তাদের সহায়তা করবার মনোভাবের অভাব ঘটনা অনুসন্ধানকারীদের অন্যকিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

তিনি আশা করেন মিয়ানমার সরকার তাদের মনোভাব পাল্টাবে। লি জানান, ‘দুই সপ্তাহ আগে জেনেভায় তাদের প্রতিনিধি থিন লিন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলকে সহায়তা করবার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’

‘অথচ আমাকে এখন বলা হচ্ছে, গত জুলাইয়ে সর্বশেষ সফরের পর যে বিবৃতি দিয়েছিলাম তার ভিত্তিতেই সহায়তা করবার ওই সিদ্ধান্ত এখন আর বলবৎ নেই’, বলেন তিনি।

তবে এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে থিন লিন অথবা অং সান সু চি মুখপাত্র জাও তায়কে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

লি প্রতি নির্দেশ অনুসারে তার বছরে দুইবার মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে। ২০১৪ সালের জুনে দায়িত্ব পাওয়ার পর এখন পযৃন্ত ছয়বার তিনি মিয়ানমার সফর করেছেন। ওই সফরগুলোতেও্ বেশ কিছু এলাকায় ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র দোহাই দিয়ে তাকে যেতে দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। 

রাখাইনে গত আগস্টে সেনা অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান জেইদ রাদ আল হুসেইন ওই সহিংসতাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।