রয়টার্সের সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ছে

(প্রিয়.কম) রাখাইন ইস্যুতে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে মিয়ানমারে আটক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে মুক্তি দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন আর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসেন বলেছেন, অবরোধ আরোপের সম্ভাব্য এক মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করেছেন তারা। তার বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

গত মঙ্গলবার পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রাতের খাবারে অংশ নিতে যান মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লো (৩১) কিঁয়া সোয়ে ও (২৭)। ইয়াঙ্গুনে পুলিশের আট ব্যাটেলিয়নের কাছের এক রেস্তরায় তাদের নামিয়ে দেন রয়টার্সের দুই গাড়ি চালক। পরে তারা আর ফিরেননি। রাতে মিয়ানমারে রয়টার্সের ব্যুরো চীফ স্টিফেন জে অ্যাডলারের ফোনে ‘আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে’ লিখে এসএমএস পাঠান ওয়া লোন। এরপর ওই ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরে বুধবার রাতে দেশটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ফেসবুকে হাতকড়া পরিহিত ওই দুই সাংবাদিকের ছবি দিয়ে তাদের গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির একজন মুখপাত্রও ওই গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেন।

শুক্রবারও আনুষ্ঠানিকভাবে রয়টার্স ওই দুই সাংবাদিকের আটকের বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি। ইয়াঙ্গুনের যে এলাকা থেকে ওই দুই সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে ওই এলাকার আদালতের এক কর্মচারী জানিয়েছেন, আটককৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এখনও মামলার কোনো কাগজ পাননি। তিনি জানান, সাধারণত আটকের ২০-৩০ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়। আর সন্দেহভাজনদের কোনো অভিযোগ ছাড়াই ২৮ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যেতে পারে।

বুধবার মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে জানানো হয়, দুই সাংবাদিক ছাড়াও দুই পুলিশ সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন ১৯২৩-এর আওতায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। ১৯২৩ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলে তৈরি এই আইনে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধ

গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনা অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করে এজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের হুমকি দেয়। আর শুক্রবার জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, একজন দায়ী সেনা কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করেছেন তারা। রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নে তার দায় খতিয়ে দেখছেন তারা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আর নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সুপারিশ করেছে।

রয়টার্সের সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি করে শুক্রবার টিলারসেন বলেছেন, ‘মিয়ানমারের রুপান্তর, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, মিয়ানমারের গণতন্ত্র যেন সফলতা পায়।’

তিনি বলেন, মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাসও এই বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্য আর অন্যদের সঙ্গে আটককৃতদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর কোথাও তাদের রাখা হয়েছে সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হচ্ছে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের আগে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে, মার্কিনের সিনেটের মানবাধিকার বিষয়ক ককানের নেতা রিপাবলিকান থম টিলিস আর ডেমোক্রাট ক্রিস ক্রুন।

শুক্রবার সকালে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মুক্তি দিতে কঠিন শর্ত দিতে প্রস্তুত আমরা।

সাংবাদিক সুরক্ষার অলাভজনক কমিটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি করেছে। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গোট ওয়ালস্ট্রম বলেছেন, এই গ্রেফতার মিয়ানমার ও ওই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের জন্য একটি হুমকি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিয় গুতেরেস বলেছেন, মিয়ানমারের ডুবন্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এই গ্রেফতার একটা সতর্ক সংকেত। সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত