‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেন পোপ

(প্রিয়.কম) শরণার্থী শিবির থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা ১৮জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, ‘আজ সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মাঝেও।’ পোপ ফ্রান্সিস তার এশিয়া সফরে বাংলাদেশে আসার পর এই প্রথমবারের মতো 'রোহিঙ্গা' শব্দটি উচ্চারণ করলেন।

এর আগে সীমান্ত এলাকার একটি শিবির থেকে ওই ১৮ জন রোহিঙ্গাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরা মোট তিনটি পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। এসময় রোহিঙ্গারা পোপের কাছে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

এসব মধ্যে একজন রোহিঙ্গা পোপ ফ্রান্সিকে বলেছেন, মিয়ানমারে তাদের মানবাধিকার এবং বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত হলেই তারা সেখানে ফিরে যাবেন।

ঢাকায় খৃস্টানদের প্রধান গির্জা বিশপ হলে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ যা বলেছেন তা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘আজ সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মাঝেও।’ এর আগে পোপ ফ্রান্সিস মিয়ানমার সফরের সময় রোহিঙ্গা শব্দটি একবারের জন্যেও উচ্চারণ করেন নি। এ কারণে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তার তীব্র নিন্দা করেছে।

বাংলাদেশে আসার পরেও অনেকের কৌতুহল ছিলো যে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি বলেন কিনা। কিন্তু এশিয়া সফর শুরু করার আগে পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের আলাদা জাতিগোষ্ঠি হিসাবে স্বীকার করে না। তাদের কাছে রোহিঙ্গারা ‘অবৈধ বাঙালি’। দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা রোহিঙ্গা নিধন অভিযান চালাচ্ছে। ওই অভিযানের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে ৬ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে জাতিসংঘ উল্লেখ করছে ‘জাতিগত নিধন অভিযান’ হিসেবে।

পোপের ঢাকা সফরে অনেকেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেন কি না। ছবি: এএফপি

পোপের ঢাকা সফরে অনেকেরই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেন কি না। ছবি: এএফপি

অনেকে মনে করছেন, পোপের এই উচ্চারণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে রোহিঙ্গাদের নৃতাত্বিক পরিচয় আরও বেশি জোরালো হয়ে উঠবে।

যেসব রোহিঙ্গা পোপের সঙ্গে দেখা করেছেন তাদের একজন জাফর আলম। তার বাম হাতে গুলি লেগেছিল। সেটি তিনি পোপকে দেখিয়েছেন। তিনি পোপকে বলেন, তারা যখন নিজেদেরকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দেন তখন তাদের ওপর হামলা হয়।

আলম আরও বলেন, তাদেরকে যদি রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাদের পূর্ণ মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয় তাহলে তিনি মিয়ানমারে ফিরে যাবেন।

হাজেরা খাতুন নামের অপর এক রোহিঙ্গা পোপকে বলেছেন, নারী হিসেবে তারা মিয়ানমারে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছেন। তাই জীবন বাঁচাতেই তারা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আই ও এম এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয় সংস্থা ইউএনএইচসিআর এই ১৮ জন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের বালুখালি শিবির থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দেখা করার জন্যে। জানা গেছে, ক্যাথলিক খৃস্টানদের একটি সাহায্য সংস্থা কারিতাস পোপের সঙ্গে এসব রোহিঙ্গাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

প্রিয় সংবাদ/কামরুল