মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ না বলার ব্যাখ্যা দিলেন পোপ


(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ সফরের সময় শুক্রবার শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আপ্লুত হয়ে পড়েন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসমিয়ানমার সফরের নিরবতা ভেঙ্গে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষদের জাতিগত পরিচয় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিও উচ্চারণ করেন। শনিবার রোমের উদ্দেশ্যে বিমানে উঠে সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেন অং সান সু চির দেশ সফরের সময় তিনি কেন এই শব্দ মুখে আনেননি।

বিমানের মধ্যে তিনি প্রথমেই সাংবাদিকদের কাছে সফর সম্পর্কে প্রশ্ন শুনতে চান। প্রথমে অবশ্য এক সাংবাদিক পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে চার্চের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চান। এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তিনি সফর সম্পর্কে প্রশ্ন শুনতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন, ‘সফর নিয়ে কিছু জানতে চান?’

পরের প্রায় এক ঘণ্টা তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ না করার বিষযে কথা বলেন। ফলপ্রসু কূটনৈতিকতা আর কৌশলগত যোগাযোগ রক্ষার স্বার্থেই তিনি ওই পথ নিয়েছিলেন। পোপ বলেন, কেউ একজন তাকে বলেছিলেন রোহিঙ্গারা যেখানে বসবাস করে সেখানে মূল্যবান পাথর পাওয়া যায়। সেকারণেই বাইরের মানুষেরা সেখানে খনির সন্ধান চালাতে আগ্রহী। তবে বিষয়টি সত্যি কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত নন তিনি।

শুক্রবার ঢাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ১৬ জনের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ ফ্রান্সিস বলেছিলেন, আজ ঈশ্বরের উপস্থিতির আরেক নাম রোহিঙ্গা।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পোপ বলেন, ‘আমি যদি আনুষ্ঠানিক পরিসরে ওই শব্দটি উচ্চারণ করতাম, তাহলে হয়তো তারা মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিত। এটা সত্যি যে আমি তাতে খুশি হতাম না। আর সবার সামনে তাদের অভিশাপও দিতে পারতাম না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া। অন্য পক্ষের জবাব শোনা আর নিজের বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া।’

তিনি বিশ্বাস করেন, এই কাজের ফলেই একান্ত বৈঠকগুলোতে আরও খোলাখুলিভাবে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা গেছে।

সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যের সঙ্গে আপস করিনি। অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকের আগেই এই জেনারেলের সঙ্গে পোপের বৈঠকে বসতে হয়েছিলো।’

তবে এক সাংবাদিক তাকে বলেন, ভীত হলে তিনি মিয়ানমারের জেনারেলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক গুটি চালতে পারতেন। জবাবে পোপ বলেন, ‘ওই উদ্দেশ্য আমার ছিলো না, তবে আমি আলাপে আগ্রহী ছিলাম। একান্ত বৈঠকে যদি আমি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতাম, তাহলে জেনারেল হয়তো তার বার্তাটি বুঝতে পারতেন।’

পোপ বলেন, ‘আমি যা বলতে চাই তার সবকিছুই আমি বলে ফেলি।’

পোপ বলেন, মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি নিয়ে নিরবতা শুক্রবার ঢাকায় ওইসব শরণার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে পরিণতি পেয়েছে। কাছে থাকা ইতালিয় একটি সংবাদমাধ্যমের দিকে আঙ্গুল তুলে পোপ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন সংবাদপত্রের প্রথম পাতা দেখেছেন। সবাই আমার বার্তা বুঝতে পেরেছেন। কোথাও কোনো সমালোচনা শুনিনি। হয়তো সেখানে হয়েছে, তবে আমি শুনিনি।’