রোহিঙ্গা ফেরাতে ৩০ সদস্যের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ফেরাতে মোট ৩০ সদস্যের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।

১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠক হতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবদের নেতৃত্বে দুই দেশের ১৫ জন করে সদস্য থাকবে। তবে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে সময় লাগবে আরও দুই মাস। পাশাপাশি বৈঠকে শর্তাবলীও চূড়ান্ত হয়েছে।

এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো নেতৃত্ব দেন।

সোমবার ঢাকা সফরে এসেছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থো এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। 

এর আগে গত ২৩শে নভেম্বর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। 

চুক্তিতে তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন এবং মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া শুরু করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে মিয়ানমার কত দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ করবে তা বলা হয়নি চুক্তিতে।

যদিও তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করার কথা বলা হলেও এ পর্যন্ত তা করা হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো দুই দেশের মধ্যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হয়নি। আজ ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার শুরু হওয়া দুই দিনের বৈঠকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি এবং টার্মস অব রেফারেন্স চূড়ান্ত করার ব্যপারে আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৫৫ হাজার মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ায় গড়ে তোলা শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শিবিরে বর্তমানে ৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু রয়েছে; যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারই নতুন। এসব শিশুর মধ্যে আবার অভিভাবকহীন ৩৬ হাজার ৩৭৩ শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। পালিয়ে আসা শিশু শরণার্থীদের বাইরেও প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ নবজাতক

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ